শুক্রবার, ৩রা মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আমতলীতে ধানের ক্ষেতে পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

আমতলী উপজেলার ধান ক্ষেতে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। পোকা দমনে কৃষকরা ক্ষেতে বিভিন্ন প্রকারের কীট নাশক প্রয়োগ করছেন। কিন্তু এতে কাজে আসছে না। দ্রুত এ পোকা দমন করতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্ক রয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

জানাগেছে, এ বছর আমতলী উপজেলায় ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর আমনের ধানের জমি চাষাবাদের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত আশ্বিন মাসের শেষের দিকে কৃষকরা জমি চাষাবাদ শেষে বীজ বপন করেছে। বৈরি আবহাওয়ার কারনে দেরীতে চাষাবাদ করায় বীজের বৃদ্ধি তেমন ভালো হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে গত ১৫ দিন ধরে ক্ষেতে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষায় বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। কিন্তু তাতে তেমন কাজে আসছে না। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পরেছেন। এ পোকা দমন করতে না পারলে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হওয়ার আশংঙ্কা করছেন তারা। এদিকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কীটনাশক ব্যবসায়ীরা বেশী দামে কীটনাশক বিক্রি করছে। কিন্তু কীটনাশক ব্যবসায়ীরা বেশী দামে কীটনাশক বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কোম্পানীর দামেই বিক্রি করছি।

কৃষকরা বলেন, মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকায় ধান ক্ষেতের ব্যপক ক্ষতি করছে। এ প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছি। কিন্তু কাজে আসছে না। পোতা দমন করতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

বুধবার আমতলী উপজেলার চাওড়া, কুকুয়া ও হলদিয়া ও আঠারোগাচিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্ষেতে মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কৃষকরা পোকা দমনে ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন।

মধ্য চন্দ্র গ্রামের কৃষক জাকির মাতুব্বর ও কুকুয়ার কৃষক আব্দুর রব বলেন, মাজরা ও পাতা মোড়ানো পোকার ধানের ক্ষেত খেয়ে ফেলছে। এ পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করছি।
পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক সোহেল রানা বলেন, ধান ক্ষেত মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকায় খেয়ে শেষ করে দিয়েছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও পোকা দমনো যাচ্ছে না।
কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জুয়েল ও নজরুল ইসলাম বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারনে এ বছর শেষের দিকে জমিতে বীজ বপন করেছি। তাতে বীজের বৃদ্ধি কম হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পোকার আক্রমণে বীজের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তারা আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা বেশী দামে কীটনাশক বিক্রি করছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ঈছা বলেন, মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, পোকা দমনে রাইডার প্লাস ও এসিপ্রিড প্লাস প্রতি লিটার পানিতে ০.৩ গ্রাম হারে মিশ্রন করে স্প্রে করতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ