সোমবার, ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

২০২৪ সালের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। আমি আজ সেই নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।

আজ বুধবার বিকেলে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন। জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা ২০১৮ সালে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছেন, আমরা আপনাদের এই কক্সবাজারের উন্নয়ন করেছি, পর পর তিনবার ক্ষমতায় আসতে পেরেছি, ধারাবাহিকভাবে সেই ২০০৯ সাল থেকে এই ২০২২ পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বলবৎ আছে বলেই আজকে উন্নয়ন হচ্ছে এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ এর পরে ২০২৪ এর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হবে। আমি আজ সেই নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

‘আপনারা কি নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন’, প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলে জনগণ চিৎকার করে দুই হাত তুলে তাতে সম্মতি দেয়।

তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কবির সঙ্গে কন্ঠ মিলিয়ে বলেন, ‘রিক্ত আমি নি:স্ব আমি দেবার কিছু নেই/ আছে শুধু ভালবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাচ্ছি। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন বললেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন সেই চেতনা নিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, মানুষের উন্নত জীবনের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, যে আদর্শ নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে এ দেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ বাস্তবায়ন করতেই কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার প্রিয় জায়গা ছিল কক্সবাজার। তিনি কারাগার থেকে বের হয়েই আমাদের নিয়ে কক্সবাজারে আসতেন। কক্সবাজারের মানুষ আমার হৃদয়ে আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন বলেই দেশের কাজ করে যেতে পারছি। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। এই কক্সবাজারের মানুষও ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের ভোট বৃথা যায় নাই।

জামায়াত-বিএনপি এদেশের মানুষকে কী দিয়েছে- প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, মানি লন্ডারিং এগুলো দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আমাদের শান্তি র‍্যালিতে দিনেদুপুরে গ্রেনেড হামলা করে তারেক-খালিদা জিয়া গং। যুদ্ধের ময়দানের গ্রেনেড আমাদের ওপর ছোড়া হয়েছিল। আইভী রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মী মারা যায়। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া কেউই এই কক্সবাজার এলাকার উন্নয়ন করেনি। আপনাদের এলাকায় আজ ২৯টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। করোনার সময় আমরা অনেক প্রকল্প করে দিয়েছি। কক্সবাজার জেলায় আসতে পারিনি, কিন্তু মনটা এখানে পড়েছিল।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর রাস্তাঘাট, সড়ক উন্নয়ন করে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। আমরা কৃষককে ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এক কোটি লোক সেই অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছেন। একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনো মানুষ ঠিকানাবিহীন থাকবে না।

বিশাল জনসভায় দূরদূরান্ত থেকে আগত যাদের তিনি চোখের দেখা দেখতে পাচ্ছেন না তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা যত দূরেই থাকেন আপনারা আমার হৃদয়ে, অন্তরে স্থান করে নিয়ে আছেন। প্রত্যেকটি গ্রামের মানুষ শহরের সুযোগ-সুবিধা পাবে, প্রতিটি গ্রামকে শহর হিসেবে গড়ে তুলে প্রতিটি মানুষকে উন্নত জীবন দেয়াটাই আমার লক্ষ্য। আর সেভাবেই তাঁর সরকার রাস্তা-ঘাট, পুল, ব্রীজ, সড়ক পথ, রেলপথ, নৌপথের উন্নয়ন করে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

গ্রামে গ্রামে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিয়ে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়ে ইন্টারনেট সেবাকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা, বেসরকারকারি খাতকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে সকলের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে দেয়া, ১০ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ, দুই কোটি লোককে কৃষি উপকরণ কার্ড প্রদান, ২ কোটি ৫৩ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি প্রদান, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান এবং জাতির পিতার শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড থেকে উচ্চ শিক্ষায় সহায়তা প্রদানের মত তাঁর সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচির উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি কিন্তু এই বাংলাদেশকে আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন।

তাঁর সরকারের উদ্যোগে গৃহহীণদের জন্য ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতার এই বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন বা গৃহহীন থাকবেনা। তিনি সমাবেশ আগতদের নিজ নিজ এলাকায় ভূমিহীন-গৃহহীণ মানুষ রয়েছে কি না তা খুঁজে দেখার আহবান জানান এবং নাম ঠিকানা দিলে তাঁর সরকার তাদের পুনর্বাসন করবে, প্রত্যেকের জীবন মান উন্নত করবে বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতার কন্যা, যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি আপনাদের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব আমার। যাদের জন্য আমার মা-বাবা-ভাইয়েরা জীবন দিয়েছেন, আমি তাদের কল্যাণে কাজ করছি। আমি আমাদের আপনজন হারিয়েছি, আপনাদের মাঝেই আমি আমার আপনজন খুঁজে পেয়েছি।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হয়। শুরুতেই বক্তব্য দেন জনসভার সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুর ইসলাম চৌধুরী।

জনসভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। ব্যানার-ফেস্টুন আর তোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। নেতাকর্মীরা দলে দলে মিছিল ও স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলে আসেন। তাদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসবের আমেজ।

শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সমাবেশের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৬৩.৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ