সোমবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

১০ ডিসেম্বর থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে: মির্জা ফখরুল

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এটা জনগণের ঘোষণা। ওইদিন শান্তিপূর্ন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে। এখনোতো আসল কর্মসূচী শুরু হয়নি। সেদিন থেকে শুরু হবে এক দফার আন্দোলন। এখানে কোনো আপোষ নাই।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল নেতা নয়ন মিয়া নিহতের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সাতটি সমাবেশ করেছি।’ প্রতিটি সমাবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। এরা কত বড় ভীরু, কাপুরুষ। গাড়ি বন্ধ করে দেয়, লঞ্চ বন্ধ করে দেয়, খেয়ার নৌকাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কি সমাবেশ বন্ধ করতে পেরেছে? তিন ঘণ্টার সমাবেশকে তোমরা তিন দিন বানিয়েছে।

তিনি বলেন, খুব পরিষ্কার করে বলেছি- শান্তিপূর্ন সমাবেশ করব। দাবিও পরিষ্কার। কিন্তু আওয়ামী লীগ সবার জীবন নিয়ে খেলছে। বিএনপির সাতজনকে হত্যা করেছে। তাই আজকে ফেটে পড়তে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। জেগে উঠতে হবে। এমনি এমনি কেউ সরে না, সরাতে হবে। মানুষের বল দিয়ে, শক্তি দিয়ে এদেরকে চলে যেতে বাধ্য করতে হবে।

নয়ন হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বাঞ্ছারামপুরের ঘটনা সাজানো ঘটনা।’ এরা কত অমানুষ হতে পারে, কত নির্মম, অমানবিক হতে পারে যে, দূ:খ পর্যন্ত প্রকাশ করে না। আরে সাজানোর নায়ক তো তোমরা। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বন্দুক-পিস্তলের জোরে ক্ষমতায় বসে আছো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা কোন নিষেধাজ্ঞা চাই না।’ এটা দেশের জন্য লজ্জাকর। এরই মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এই লজ্জার জন্য দায়ী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সরকার।

মির্জা আলমগীর বলেন, আজকের সমগ্র কিছুতে সীমা ছাড়িয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। তাদের দুর্নীতি, নির্যাতন, অহংকার দিয়ে এ দেশের মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে। তাদের কথা শুনলে মনে হয়- তারা হচ্ছে মালিক আর আমরা হচ্ছি চাকর বাকর। তারা হচ্ছে রাজা, এদেশের মানুষ হচ্ছে প্রজা।

মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিভাগীয় সমাবেশগুলোর পর মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। ঢাকায় এখনো সমাবেশ হয়নি। এখনই মিথ্যা মামলা শুরু হয়ে গেছে। আরে মামলা দিয়ে কি আটকানো গেছে? যত মামলা দেবে তত আন্দোলন শক্তিশালী হবে, মানুষ আরো রুখে দাঁড়াবে। আমি বলে দিতে চাই, বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই। সকলকে আন্দোলনের জন্য ‘সর্বাত্মক প্রস্তুতি’ নেওয়ার আহবান জানান ফখরুল।

ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে মহানগর বিএনপি উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সপু, শামীমুর রহমান শামীম, সাইফুল আলম নিরব, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুব দলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজী আহসান, ছাত্র দলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ