বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প প্রস্তাব বিবেচনা করবে বিএনপি

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘বিভাগীয় গণসমাবেশ’ নয়া পল্টনেই করার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে একইসঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিকল্প প্রস্লাব দেওয়া হলে সেটিও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, সকলের উচিত এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে দেশে গণতšস্লটা থাকে। সবচেয়ে বেশি দায়িত্বটা সরকারের। যেকোনো স্থানে তাদের সমাবেশ করার অধিকার আছে- এটা তাদের গণতাšিস্লক অধিকার, এটা তার সাংবিধানিক অধিকার। সেখানে আগ বাড়িয়ে- এখানে নাশকতা হবে, অমুক হবে, তমুক হবে বলার অর্থ হচ্ছে সাংবিধানিক অধিকারকে কেড়ে নিচ্ছেন। এটা প্রশ্নই উঠতে পারে না। তারা ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করবেন।

কোথায় হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা (নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে) সবাই জানেন। নয়া পল্টনে তো অনুমতি দেয়নি, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে অনুমতি দিয়েছে- এরকম প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা সময়মতো সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আমরা তো বলেছি- আপনারা (সরকার) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আদেশ প্রত্যাহার করুন। বিকল্প প্রস্লাব দিলে কি করবেন জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিকল্প প্রস্লাব দিলে বিবেচনা করব, আলোচনা সাপেক্ষে, চিন্তা করে দেখব।

গত ৯টি বিভাগীয় সমাবেশগুলো শান্তিপূর্ণ হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, নয়টা সমাবেশে কোথাও কোনো অঘটনা হয়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ হয়েছে। ঢাকাতেও যে সমাবেশ হবে সেই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হবে। এখানে কেউ কোনো রকমের কোনো নাশকতার সৃষ্টি করে তাহলে সেটা সরকার করবে। তার দায়-দায়িত্ব সম্পহৃর্ণ সরকারকেই বহন করতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের আইজিপি সুন্দর কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশকে ঘিরে নাশকতার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই্। তাহলে কেনো এই মামলাগুলো দেন, এইগুলো কেনো করছেন। খালেদা জিয়ার বাসার সামনে পুলিশের চেকপোষ্ট প্রত্যাহার করুন।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘ফিরোজা’র বাসায় সামনে পুলিশের বসানো তল্লাশি চৌকি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাসার সামনে সেই বালির ট্রাকের কায়দায় চেক পো¯দ্ব ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ অবরোধ করে রেখেছে। এটি খালেদা জিয়ার ওপর নিপীড়নের আরেকটা নতুন মাত্রা। আওয়ামী সরকারের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই মুহুর্তে তার বাড়ির সামনে থেকে চেক পো¯দ্ব ও ব্যারিকেড তুলে নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলায় ফরমায়েসী রায়ে কারারুদ্ধ রেখে চিকিৎসার সকল পথ রুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী সরকার। তার বাসভবন অবরোধ করে এবং তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে খালেদা জিয়ার চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে, তাকে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে।

এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক, আবদুল বারী ড্যানী, আমিরুজ্জামান শিমুল, আকম মোজাম্মেল, আমিনুল ইসলাম, ওমর ফারুক শাফিন, এসএম জাহাঙ্গীর, ছাত্র দলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ