নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘সুনীল অর্থনীতি জাতীয় উন্নয়নে কৌশলগত অগ্রাধিকারের স্থান লাভ করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকা নিয়ে আমাদের আজ বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’-বৃহস্পতিবার সকালে বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিঁনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিঁনি আরও বলেন, ‘ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে মৎস্য সম্পদের প্রাচুর্য, নবায়ন যোগ্য জ্বালানীর উৎস্য এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্য পথের ব্যবহার, যা দেশের জিডিবি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই সুনীল অর্থনীতিকে বাস্তব উন্নয়নের রুপ দিতে এবং সমুদ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিঁনি বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষন এবং সমুদ্রসীমা রক্ষার লক্ষে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধ জাহাজ, হেলিকপ্টার, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংজোযন করা হয়েছে। একই সাথে বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দু’টি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আজ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিনত হয়েছে। ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধ জাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম সবসময় চলমান রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিয়োজিত থেকে যে কোন প্রকার ত্যাগ স্বীকার করার জন্য নৌবাহিনীর প্রতিটা সদস্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।’
এসময় নৌবাহিনী সদর দপ্তরের পিএসওগণ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, কলাপাড়া, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌ-প্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার শপথ গ্রহণ করেন। পরে নৌপ্রধান পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে শাহরিয়ারর টুটুলকে ‘নৌপ্রধান পদক’, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় সামিউল ইসলাম শাকিলকে ‘কমখুল পদক’, তৃতীয় স্থান অধিকার করায় কাদের মিয়াকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ ও সেরা চৌকস মহিলা নাবিক হিসেবে মারিয়া আক্তারকে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ প্রদান এবং তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।






