,

সমুদ্রের তীব্র ভাঙ্গনে লন্ড ভন্ড কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলীন হওয়ার পথে। সমুদ্রের তীব্র ভাঙ্গনে সৈকত সহ সবকিছু এখন লণ্ডভণ্ড। প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সব দর্শনীয় স্থান। এছাড়া সৈকতের বালু ধুয়ে কোথাও নিচু, কোথাও উঁচু হয়ে গেছে। সৈকত জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে জীর্ণ শীর্ণ জিও টিউব-জিও ব্যাগ। বর্ষা মৌসুমে ঢেউয়ের তান্ডবে প্রতি বছরই শ্রীহীন হয়ে পড়ছে কুয়াকাটা। অথচ সৈকত রক্ষায় দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই, নেই কোন টেকসই পরিকল্পনা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত ২০০০ সালে থেকে শুরু হয় সৈকতের ভাঙন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের দিকে ভয়াবহ রূপ নেয়। ২০১১ সাল থেকে ভাঙনের তীব্রতা সামান্য কমলেও থাকে অব্যাহত । প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। উত্তল ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকতের পশ্চিম মাঝি বাড়ি এলাকায় বেশ কিছু ব্লক সরে গেছে।এছাড়া ঝাউবন, গঙ্গামতি ও চর গঙ্গামতি সহ দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকতের প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙন কবলিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানের বালু ক্ষয় হয়ে গাছের শেকড় বেরিয়ে পড়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে সৈকতের নান্দনিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পর্যটক সংখ্যা কমে যেতে পারে। এতে ক্ষতির মুখে পড়বে এ অঞ্চলের পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি। তাদের দাবি সৈকতের বালু ক্ষয় রক্ষায় দ্রুত সময়ে টেকসই গ্রোয়েন বাঁধ নির্মানের।

স্থানীয়দের মতে, সাগরের অস্বাভাবিক আচরণে সৈকতের তীব্র বালু ক্ষুয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতিপূর্বে বিলীন হয়েছে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগান, শালবন,এলজি ইডি’র বায়োগ্যাস প্লান্ট ডাকবাংলো, বিস্তীর্ন ঝাউবন ইকোপার্ক সহ বহু স্থাপনা। গত বছর সাগরের তাণ্ডবে ভেঙে গেছে সৈকত লাগোয়া নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ সড়ক। ঝুঁকিতে রয়েছে টুরিস্ট পুলিশ বক্স, মসজিদ, মন্দির, ট্যুরিজম পার্ক,ওয়াশরুম সহ বিভিন্ন স্থাপনা । এমনকি জোয়ারের সময় সৈকতে থাকেনা ওয়াকওয়ে ।

পর্যটকরা বলেন, এক সময় যেখানে বিস্তীর্ণ বালুকাবেলায় হাঁটাচলা ও সূর্য উদয়, সূর্যাস্ত উপভোগ করা যেত, সেখানে এখন চোখ পড়ে জিও ব্যাগের স্তুপ । ফলে কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্য ও আকর্ষণ অনেকটা কমে গেছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ স্থাপন ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা কার্যকর হলেও কুয়াকাটাকে রক্ষায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই উপকূল ব্যবস্থাপনা। তারা বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত ড্রেজিং, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং উপকূলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল মোতালেব শরীফ জানান, কুয়াকাটার এখন মূল সমস্যা ভাঙন। এজন্য প্রয়োজন সৈকতের স্থায়ী প্রটেকশন। সাগরের ভাঙন থেকে সৈকত সহ বিভিন্ন সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করার দবি জানান তিনি।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের বালু ক্ষয় রোধে সময়োপযোগী স্থায়ী প্রকল্প নিতে হবে। তা না হলে এই সৈকতের সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাবে। ভূল ডিজাইন এবং প্লানের কারণে বার বার প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্বায়িত্বহীনতার প্রমাণ দিয়েছে।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘ভাঙন রোধে সৈকত এলাকায় অস্থায়ীভাবে বেশ কিছু বালু ভর্তি জিও টিউব ফেলা হয়েছে। এখনও জিও টিউবের কাজ চলমান রয়েছে। সৈকতের ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে এবং বাস্তবায়ন হলে আশা করছি স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ