বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

লড়াই শুরু হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লড়াই শুরু হয়ে গেছে। মানুষ রাজপথে নেমে পড়েছে। এখন নয়ন, শাওন, রহিম, আলীমের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে রক্ত দেওয়ার জন্য তৈরি হতে হবে। আরেকটা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই অবৈধ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের অপশাসনে ব্যবসায়ীরা ‘খুব খারাপ সময়’ পার করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক বড় বড় ব্যবসায়ী বলছেন- তারা খুব খারাপ সময়ের মধ্যে আছেন। ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরীর টাকা পর্যন্ত তাদের কাছে থাকছে না।

তিনি বলেন, সরকার দাবি করছে- রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে নাকী এটা হচ্ছে। কিন্তু এই দুরবস্থার শুরুটা করেছে অনেক আগে থেকে। দেশের সমস্ত সম্পদকে লুট করছে, ১০ বছরে ৮৬ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। গত এক বছরেই শুধুমাত্র ৭৮ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। যে দেশে সরকারের লোকেরা সম্পদ লুট করে, পাচার করে নিয়ে যায় সেই দেশের অর্থনীতি কি থাকতে পারে।

বিচার ব্যবস্থা আর বিচার বিভাগের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচার বিভাগকে বলতে চাই, বিচারকদের প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই- দয়া করে ন্যায়বিচার করুন। কারণ, এ দেশে বহু প্রমাণ আছে, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা, আজ জেগেছে সেই জনতা। সুতরাং কোনোটাই পার পাবেন না। বারবার করে বলছি, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ রক্ত ঢেলে দিয়েছে। এখন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা ৩৫ লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, সাতজন যোদ্ধা প্রাণ দিয়েছেন, এর মূল্য অবশ্যই আপনাদের দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করে, অত্যাচার-নির্যাতন করে উল্টো দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে পুলিশের গুলিতে বিএনপির কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওনকে হত্যা করা হয়েছে। এখন উল্টো বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতনকে এমন মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার গতকাল তাকে আরেকটি মিথ্যা মামলায় তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এদের কী বিবেকও কাজ করে না ?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ঢাকায় তাদের ঘোষিত কর্মসূচীর শেষ সমাবেশ। কিন্তু এই সমাবেশ নিয়ে তাদের (আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত করে) কাপড় বাসন্তী রং হয়ে গেছে। যার কারণে আবোলতাবোল বলা শুরু করেছে।

উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আফসার মোহাম্মদ ইয়াহিয়া প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ