বৃহস্পতিবার, ২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ভোট চুরি, মানুষ খুন বিএনপির গুণ : প্রধানমন্ত্রী

‘বিএনপির দুটি গুণ আছে। একটি হলো ভোট চুরি, অপরটি মানুষ খুন’―এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় না গিয়ে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। তিন হাজারের বেশি মানুষ তখন আহত হয়েছে। পাঁচ শর বেশি মানুষ মারা গেছে। অনেক গাড়িতে আগুন দিয়েছে তারা। ’

রোববার (৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। বিমানবাহিনী-সেনাবাহিনীর হাজার হাজার অফিসারকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগের মৌলবি সৈয়দকে তুলে নিয়ে দিনের পর দিন টর্চার করে হত্যা করে। এ রকম আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। ঠিক একইভাবে খালেদা জিয়াও। তার আমলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করেছে। কত লাশ গুম করেছে। আমি সবাই আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় তারিখ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ ডিসেম্বর নাকি বিএনপি ঢাকা অচল করে দেবে। ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। ১০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের হত্যা করা হয়। অর্থাৎ এই দিনে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়। এ কারণেই এই তারিখ বিএনপির এত প্রিয়।

তিনি বলেন, বিএনপি ভোটে যেতে চায় না। জিয়াউর রহমান যেমন জাতির পিতাকে হত্যা করে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, সেনা আইন লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখল করেছিল। ওদের ধারণা ওই ভাবেই তারা ক্ষমতায় যাবে। গণতান্ত্রিক ধারা তারা পছন্দ করে না। আজকে গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই তো বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়েছে। দীর্ঘ দিন গণতান্ত্রিক আছে বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে আপনাদের কাছে এই বিজয়ের মাসে আমি উপহার নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন, ৬টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছি। বিজয়ের মাসে চট্টলাবাসীর জন্য আমার উপহার।

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ছাড়া বিএনপি কিছু দিতে পারে না বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যার জবাব খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দিতে হবে।

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজয়ের মাসে আমি আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। ২৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিজয়ের মাসে এগুলো চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমার উপহার। ’

চট্টগ্রাম শহর আজ মিছিলে মিছিলে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ১১ বছর পর চট্টগ্রামের কোনো জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেন। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা নিজেদের শক্তির জানান দিতে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর বাদ্য বাজিয়ে কর্মীর বহর নিয়ে সভাস্থলেহাজির হন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, তারা ২০১৩ সাল থেকে শুরু করলো অগ্নিসন্ত্রাস। লঞ্চে আগুন, ট্রেনে আগুন, বাসে আগুন, রাস্তায় আগুন, গাছ কেটে ফেলছে । চারিদেক শুধু অগ্নিসন্ত্রাস। ৩ হাজার মানুষ অগ্নিসন্ত্রাসে আহত হয়েছে। ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, সাড়ে তিন হাজার গাড়ি তারা পুড়িছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২১ আগস্ট আমাদের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আইভি রহমানসহ আমাদের ২২জন নেতাকর্মী মারা যান। আমাকে আমার নেতকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন। আমিও সেদিন মারা যেতে পারতাম। নেতকর্মীরা আমাকে বাঁচিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ