রবিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি!

জনপ্রতিনিধি হয়েও বিতর্ক তাদের পিছু ছাড়ছে না। গত ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই একের পর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়ে চলেছেন তারা। কখনো দলীয় প্রধান আবার কখনো দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে দিচ্ছেন বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য। কেউ কেউ আবার সরকারি জায়গা দখল করে বাড়ির প্রবেশ গেটের রাস্তা প্রসস্ত করছেন। কারো নাম জড়াচ্ছে খুনের সাথে। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত এসব চেয়ারম্যানরা হলেন বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়নের মাহবুবুর রহমান বাবুল ওরফে লায়ন বাবুল, সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের ফজর আলী ও আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। তারা চারজনই আবার ওসমান পরিবার ঘেঁষা রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।

এই চার চেয়ারম্যান এখন নারায়ণগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র। এদের মধ্যে লায়ন বাবুল ও জাকির হোসেন নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান। দোলোয়ার প্রধান লাঙ্গনের প্রার্থী ছিলেন, আর ফজর আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছিলেন নির্বাচনে। তবে তাদের মাথার উপর ছিল ওসমান পরিবারের ছায়া।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই নিজেদের প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এ চার চেয়ারম্যান। ক্ষমতার দম্ভে দলীয় প্রধান থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের অবজ্ঞা করে বক্তব্য দেয়া তাদের রুটিন ওয়ার্কে পরিনত হয়েছিল। বিশেষ করে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি মাহবুবুর রহমান বাবুল এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছিলেন, আমি বারদীর ম্যাজিস্ট্রেট, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারদী আসলেও আমার হুকুম লাগবে। প্রশাসন আমার পক্ষে কাজ করবে। কারো ফোনে প্রশাসন আসবে না। আমি বাবুল যদি বলি সুইচ অফ, দিস ইজ অফ। কারণ আমার যোগ্যতায় আমি চেয়ারম্যান হয়ে আসছি। তার এই বক্তব্যের ভিডিও চিত্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

একই মাসের শুরুর দিকে আলীরটেকে এক মারামারির ঘটনার বিচার করতে গিয়ে জাকির চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীককে অবজ্ঞা করে বলেছিলেন, আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন না করলে আরো বেশী ভোট পেতাম।

এছাড়া, গত ১০ মে আলীরটেকের ঈদগাঁ দখলের অভিযোগ উঠে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ২৯ জুন ফরাজিকান্দায় নিজের মালিকানাধিন দশ তলা ভবনের পার্কিং সুবিধার জন্য সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করলে রাস্তার দখল ছাড়তে বাধ্য হন জাকির।

কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধানের বিরুদ্ধে বন্ধবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু কে চিনিনা, প্রধানমন্ত্রী কে চিনিনা।’ এরপর ফুঁসে উঠেছিল জেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা দেলোয়ার, জাকির ও লায়ন বাবুলের বিরুদ্ধে ডিসি-এসপি বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছিলেন।

সর্বশেষ গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজর আলীর নাম জড়িয়েছে একই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার দৌলতকে খুনের ঘটনায়। জনশ্রুতি আছে, খুনীরা ফজর আলীর সমর্থনপুষ্ট। তার মদদেই দৌলত মেম্বারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

বিতর্কিত এসব চেয়ারম্যানদের কারনে বারবার সমালোচনার মুখে পরতে হচ্ছে ওসমান পরিবারকে। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এভাবে চেয়ারম্যানরা যদি দলকে অবজ্ঞা করে বক্তব্য দিতে থাকেন আর বিতর্কিত কর্মকান্ড করেন, তাহলে দলের অবস্থা খারাপের দিকেই যাবে। তাই তাদের সাবধান করে দেয়া উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ