মঙ্গলবার, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ ও বাঙালীর সকল অর্জনে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন আজ শনিবার।১৯৪৯ সালে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেন থেকে পথযাত্রা শুরু হওয়াএই দলটির নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও বাঙালীর সকল অর্জনগুলোএসেছে। স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৬৭ বছরের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে চলা একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বে‘বাংলাদেশ’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্র জন্ম নেয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, এটি হচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবার্দশের মূলধারাও।

দেশি বিদেশি চক্রান্তে ১৯৭৫ সালে কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয়চার নেতাকেও জেলে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখহাসিনা দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগের। দীর্ঘ এক দশক রাজপথে সংগ্রাম করে বিদায় করেন স্বৈরাচারকে। চালু করেন সংসদীয়গণতন্ত্র। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনামেধা ও দক্ষতার সাথে দল পরিচালনার পাশাপাশি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, খাদ্য, চিকিৎসাও বাসস্থান নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পর এখন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য এগিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শেখ হাসিনার সরকার।

প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ দলটির নেতৃত্বেই এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। রোজগার্ডেনে জন্মগ্রহণের পর থেকে নানা লড়াই,সংগ্রাম, চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দলটি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ দেশের অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও তরুণ মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্যোগে ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন পুরণো ঢাকার কেএম দাস লেনের বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে একটি রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধীদল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।মুসলিম লীগের প্রগতিশীল নেতা-কর্মীরা সংগঠন থেকে বেড়িয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খানভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক।১৯৬৬ সালের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির একচ্ছত্র নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির জনক।

দেশভাগের পরপর ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে। মাতৃভাষা ওআবহমান বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার প্রত্যয়ে এক ষড়যন্ত্রমুখর সময়েরজাল ছিন্ন করে জন্ম নেয় আওয়ামী লীগ। সেসময় ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার সময় জেলে ছিলেন তৎকালীন প্রভাবশালী ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ আরো অনেকে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর গতিশীল নেতৃত্বকে কাজে লাগাতে তাকে যুগ্ম-সম্পাদক করা হলেও কিছু দিন পর থেকেই সাধারণ সম্পাদকের কাজটি তাকেই করতে হতো। অবশেষে ১৯৫৩ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। বঙ্গবন্ধুর অক্লান্ত শ্রম এবং তেজস্বী নেতৃত্বের কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ। যার ফল, ১৯৫৪সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়। এরপরের ইতিহাস শুধুইআওয়ামী লীগ এবং গণমানুষের মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ারইতিহাস।

’৬৯-এর গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিকশাসক-শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালির যে জাগরণ ও বিজয়সূচিত হয়, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ এবংএই আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি জাতি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে আওয়ামী লীগ। এর পর দলের মধ্যে ভাঙনও দেখা দেয়। ১৯৮১ সালেবঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বে দ্বিধা-বিভক্ত আওয়ামীলীগ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। তিন দশক ধরে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ পরিচালিত হচ্ছে। এই সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি তিন বার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পেরেছে দলটি। অর্থনৈতিকভাবে সামাজিক বৈষম্য রোধ এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশের সংবিধানের চারনীতির একটি সমাজতন্ত্র। এই সমাজতন্ত্র মানে সামাজিক সাম্য, বৈষম্য কমানো, অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক মানুষের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সময় থেকেই জনগণকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। যার ফলে জনগণও একচেটিয়াভাবে ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। সেই জনমতের প্রতিফলন পড়েছে সংবিধান প্রণয়নের সময়। এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই কাজ করে চলেছেন। জাতীয় মুক্তি অর্জনের সর্বশেষ ধাপগুলো অর্জনের জন্য দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য পরিকল্পনা মাফিক দেশকে ডিজিটাল করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে আওয়ামীলীগ।

আবার ৬৭ বছরের মধ্যে প্রায় ৫০ বছরই আওয়ামী লীগকে থাকতে হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের সাড়ে তিন বছর এবং ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫ বছর, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অনেকটা সুসংহত হতে সক্ষম হয়ে জোটসরকার বিরোধী আন্দোলনে সফলতার পরিচয়ও দিয়েছিল দলটি। কিন্তু এই আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ২০০৭ সালের১১ জানুয়ারির পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নিলেআবারো নতুন সংকটের মুখে পড়ে যায় দলটি। দলীয় সভাপতি শেখহাসিনাসহ প্রথম সারির অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেফতার এবংদলের একাংশের সংস্কার তৎপরতায় কিছুটা সংকটে পড়ে দলীয় কার্যক্রম। তবে, সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই ২০০৮ সালের২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ও মহাজোট ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

২০০৯ সালের ৬জানুয়ারি গঠিত হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত জোটের শত প্রতিকূল তাকে মোকাবেলা করে নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং তৃতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রীহন শেখ হাসিনা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা,দারিদ্র্যমুক্ত, আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সুখী, সমৃদ্ধ ‘ডিজটাল বাংলাদেশ’ গড়াসহ বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছে দলটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামীলীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, এটিহচ্ছে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক ভাবার্দশের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজ-রাজনীতির এ ধারাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই এই দলের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক দেশহিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ারলক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

লেখক: সিদ্দিকুর রহমান, সম্পাদক দৈনিক আলোর ঠিকানা ও নিউজফ্ল্যাশ ২৪ বিডি ডটকম।
ই-মেইল : journalist_siddique@yahoo.com

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ