সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। সে কারণে এটিকে অবশ্যই নিখুঁত হতে হবে। কিন্তু গণমাধ্যমকে নিখুঁত করে গড়ে তোলার দায়িত্বও গণমাধ্যমকেই পালন করতে হবে। এজন্য সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়াতে না পারলে ভবিষ্যতেও একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা যাবে না।

সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)’ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ১৬ জুন বাকশালী শাসনে সংবাদপত্র বন্ধের কালো দিবস উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এনইসির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে, যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদারের পরিচালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে, গণমাধ্যমকে নিখুঁতভাবে করে গড়ে তোলার এ-সংক্রান্ত যত উদ্যোগ, তা সব সময় কিছুটা ছিল আংশিক। যেহেতু এটি কখনোই পূর্ণাঙ্গতা পায়নি এবং সে কারণেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পারিনি। অবশ্যই বিগত দিনের সব সরকারের এ দায়-দায়িত্ব বহন করা উচিত।

এজন্য সব পক্ষকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কারণ আমরা যদি শুরুতেই আমাদের লক্ষ্যের ব্যাপারে ঐকমত্য তৈরি করতে না পারি এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে যদি একই মঞ্চে দাঁড় করতে না পারি, তাহলে এই কঠিন কাজটা অতীতে যে কারণে হয়নি, এবারেও কিন্তু সে কারণে আবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।

গণতন্ত্রকে কাঠামোবদ্ধ না করা পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে পারব না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখানে যে সমস্যাটি প্রধানত কারণ হিসেবে কাজ করেছে তাহলে- আমরা ভিন্নমত সম্মিলিতভাবে চর্চা করার জন্য যে সংস্কৃতি এবং তাকে কাঠামোবদ্ধ করার যে কাজ- সেটিকে কখনোই আমরা প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারিনি। আমি খুবই আশাবাদী এবারে আপনাদের এই (সেমিনারে দেওয়া) বক্তব্য এবং ইতোমধ্যে অন্য যার যার সঙ্গে আমি কথা বলেছি তাদেরও যে লক্ষ্য এবং কনক্লুশন আমি তার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি।

তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের যে একটা সম্মিলিত অবস্থান- আমরা যদি সেটাকে একবার দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি এবং সেখানে যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটা কমিশন দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারি তাহলেই কিন্তু সব সমস্যার সমাধানের একটা আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে তা আমরা করতে পারব।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে একনায়কতন্ত্র বাকশালের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে ফ্যাসিবাদের ইতিহাস, সংবাদপত্র দলনের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা এটা দেখে এসেছি এবং আজকের যে বিষয়ে সেমিনার, সেই সংবাদত্রের কালো দিবস হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন। তাই, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মানুষের অধিকার ছিন্ন করবার ইতিহাসটা স্বাধীনতার পরবর্তীকাল থেকেই চলছে। আজকের মূল প্রবন্ধে আমাদের বক্তব্য মোটামুটি দেওয়া হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা মিডিয়াকে কোটারিমুক্ত করে এটাকে জাতীয় চরিত্র দিতে চাই। এজন্য আমাদের সংগঠনের নাম ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল দিয়েছি এবং এতে প্রথমবারের মত ঢাকার বাইরের সম্পাদকরাও আছেন।

তিনি বলেন, সম সম্পাদকীয় নীতি এক হবে না। তবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সহ কিছু মৌলিক ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। ফ্যাসিবাদী আমলে এই জিনিসটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যেমন-সে সময় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল-বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমকে। অথচ শপথ ভঙ্গের কারণে তার ইমপিচমেন্ট হওয়া উচিত ছিল। শেখ হাসিনা সরকার মিডিয়াকে কিভাবে দেখতেন, তিনি বা তার সরকার দেখতো সেটা আমরা এই নিয়োগ থেকে আমরা বুঝতে পারি।

এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, সরকারের নিয়োগগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিয়োগগুলো মেসেজ দেয় যে সরকার আসলে কি বলতে চাচ্ছে, কি করতে চাচ্ছে। এই কারণেই নিয়োগের ব্যাপারে তারা যেন সতর্ক থাকে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা আত্মশুদ্ধি করে আমাদের ঐক্যে আসতে চাইলে আপত্তি নেই। তবে যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বা গণহত্যাকে জায়েজ করেছেন, তাদের এই ঐক্যের মধ্যে নেয়ার সুযোগ নেই। তাদের ক্রিমিনাল আইনে বিচার হতে হবে। আমরা আশাকরি, শেখ হাসিনা মিডিয়ার যে স্বাধীনতা ধ্বংস করেছিল, ড. ইউনূস সরকারের সময় সেটার অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করেছেন, বর্তমান সরকারও সেটা অব্যাহত রাখবে।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন- নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক সৈয়দ মেছবাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রাশেদুল ইসলাম এবং নিউ টাইমস সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

এ ছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ