বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামীলীগ দোসর আত্মীয় স্বজনের নামে কাজ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার প্রায়াত বিএনপির মহা সচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাঃ নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানাগেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মোঃ মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামীলীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। ঠিকাদার সঙ্গে % বানিজ্য করায় তারা দায়সারা কাজ করলেই তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। এছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীন অবকাঠামোর প্রকল্পে ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহবান করে। এ দরপত্রে ৭৭ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। ওই পাঁচটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হলো বরিশালেরে এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, এসএম নুর কনস্ট্রাশন, লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স ও নিশিত বসু টেড্রার্স। এ টেন্ডারের অনিয়মের অভিযোগ এনে ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়সহ প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামীলীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়স্বজন। নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স , শেখ সেলিমের ভাগ্নে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স। এছাড়াও আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কার কাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫% টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। তদন্ত করলেই নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ এর দুর্নীতির চিত্র বের হয়ে আসবে।
গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকী টাকা তিনি দেয়নি। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন।বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেয়ার নির্দেশ দেন।
কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ রেদওয়ান সরদার বলেন, ঢালাই দেয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ উঠে গেছে কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারনে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি আরো বলেন, প্রকৌশলী মনে হয় ঠিকাদারদের সঙ্গে জিম্মি
ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজস করে গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর উন্নয়ন কাজের ৩৬ কোটি টাকার কাজ তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামীলীগ দোসরদের দিয়েছেন। এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পে দরপত্রে ৭৭ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছেন। ওই ৭৭ টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫ টি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। ওই ৫ প্রতিষ্ঠানই তিন প্রকৌশলীর আত্মীয় স্বজন এবং আওয়ামীলীগ দোসর। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে।
বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোন অনিয়ম করিনি। তবে আত্মীয় স্বজন ও আওয়ামীলীগ দোসরদের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাঃ নুরুল ইসলামের মুঠোফোন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি বলেন আমি একটি জরুরী মিটিংয়ে আছি আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবো বলে ফোনের সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।






