সোমবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় কালোমেঘের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের উদ্যোগে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় কালোমেঘের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারী) এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়টির হেপাাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আইয়ুব আল মামুনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল আর ট্রায়ালটি উপস্থাপন করেন বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. মোঃ সাব্বির হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোঃ শরফুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষনার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েও সাম্প্রতিক সময়ে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হেপাটোলজি বিভাগে হেপাটাইটিস বি রোগের নতুন আবিস্কৃত ওষুধ ন্যাসভ্যাকের অধিকতর গবেষনার কাজ চলছে। কোভিডের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাসটির ফুল জেনোম সিকুয়েন্সিং করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা বাজেটও ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সম্প্রতি ২০ কোটি টাকায় উন্নিত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষনায় উৎসাহিত করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে ভাইস-চ্যান্সেলর পদক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ জনের অধিক পোষ্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসক পিএইচডি করছেন। তিনি গবেষনায় অধিকতর মনোনিবেশ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান এবং এ বিষয়ে অগ্রনী ভূমিকা রাখায় হেপাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীলসহ অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশংসা করেন।

অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল তার মূল প্রবন্ধের জানান যে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ৭৪ মিলিয়ন ডলার রপ্তানী আয়ের বিপরীতে প্রতিবেশি ভারত প্রতি বছর আয়ুর্বেদখাত থেকে উপার্জন করছে ৮০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অথচ আমরা আমাদের এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদ এবং হেকিমী চিকিৎসা শ্রাস্ত্র হারিয়ে বসতে বসেছি। এখনও আমাদের দেশে এই শাস্ত্রগুলোর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জ্ঞান আর এদেশের স্থানীয় হার্বাল ওষুধগুলোকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে ঠিকমত উপস্থাপন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ এক্ষেত্রেও অগ্রনী ভূমিকা নিতে পারবে। বর্তমান পৃথিবীতে যখন পরিবেশ বান্ধব, অর্গানিক খাদ্য ও চিকিৎসার উপর জোর দেয়া হচ্ছে, তখন এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভবনা অত্যান্ত উজ্জল বলে তিনি মনে করেন। এ কারনেই তার ডিভিশনের উদ্যোগে দেশীয় হার্বাল ওষুধগুলো নিয়ে গবেষনা শুরু করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়টির হেপাাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আইয়ুব আল মামুন তার সভাপতিত্বের বক্তব্যে ক্লিনিকাল ট্রায়ালটির সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার নির্মূলে ফ্যাটি লিভার এর জন্য এ ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিয়ে আরও ক্লিনিকাল ট্রায়াল এর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো জানান যে এ বিষয়ে কার্যকর গবেষনার জন্য তারা এরই মধ্যে জাপানের এহিমে বিশ্ববিদ্যালয় ও ওইতা বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড রিসার্চ এন্ড সাইন্সেস, ফার্মেসী অনুষদ ও বায়োকেমিষ্ট্রি বিভাগ বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বায়োটেনোলজি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানী বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী অনুষদ, ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ এবং রাজশাহী কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউটের সাথে গবেষনা কোলাবরেশন গড়ে তুলেছেন।

অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম, এনাটমী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু সহ সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ, বি এস এম ইউ এর সুপার স্পেজালাইজড হাসপাতালের পরিভালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ ডা আবদুল্লাহ আল হারুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এ্যাডভান্সড রিসার্চ এন্ড সাইন্সেসের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. জাকির সুলতান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান ও অধ্যাপক ড. শেখ জহির রায়হান এবং বায়োকেমিষ্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষনা পরিষদের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার রেজাউল করিম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডীন অধ্যাপক ড. শাহাবুদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানী বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এ. হায়দার, ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী ফয়েজ হোসেন ও সহকারী অধ্যাপক ড. রেজিনা আফরিন, রাজশাহী কৃষি গবেষনা ইন্সটিটিউটের সিনিয়র সান্টিফিক অফিসার ড. মোঃ এনায়েত আলী প্রামানিক প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ