গত মাসে দিল্লিতে ব্রিক্সের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজিত হয়। তাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে তিনি আসেননি। কোনও প্রতিনিধিও পাঠাননি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের বিঁধলেন শেখ হাসিনা। এ বার তোপ দাগলেন ব্রিক্স সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েও ভারতে না আসা নিয়ে। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য তারেককে ‘অপরিণত’ বলে নিশানা করেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষেও ক্ষতিকর বলে মনে করেন তিনি। হাসিনার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি হিসেব-নিকেশ না-করেই কোনও বিদেশনীতি তৈরি হলে তা কখনও লাভজনক হয় না।
গত ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন বসেছিল। ভারত ছাড়াও এই আন্তর্জাতিক জোটে রয়েছে চিন এবং রাশিয়ার মতো শক্তিধর দুই রাষ্ট্র। বাংলাদেশ ব্রিক্সের সদস্যরাষ্ট্র নয়। তবে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের জোট ‘বিমস্টেক’-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী তারককে ব্রিক্সের আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু তারেক আসেননি। কোনও প্রতিনিধিও পাঠাননি দিল্লিতে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, হাসিনাকে ঘিরে টানাপড়েনের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে ঢাকা। যদিও সরকারি ভাবে কোনও দেশই এমন দাবি করেনি। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানান, যদি সত্যিই এমন কোনও কারণে ব্রিক্স এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’। তিনি বলেন, “দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক কখনওই কোনও এক ব্যক্তির উপর ভিত্তি করে বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে স্থির করা যেতে পারে না।”
ব্রিক্সের ওই সম্মেলনে যোগ না দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত ছল না বলেই মনে করেন সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, “আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী এই জোটের সম্মেলনে যোগ দিলে বাংলাদেশ নিজেদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ পেত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে।” এর পরেই তারেককে বিঁধে তাঁর সংযোজন, “একটি দায়িত্বশীল সরকারের উচিত দেশের জন্য দরজা খুলে দেওয়া। তা বন্ধ করে দেওয়া নয়।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতে চলে আসেন হাসিনা। সেই থেকে তিনি ভারতেই রয়েছেন। যদিও সম্প্রতি একাধিক বার তিনি বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পিটিআই-কে দেওয়া লিখিত সাক্ষাৎকারেও হাসিনা জানান, বাংলাদেশে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ করার জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরবেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি তিনি।
বাংলাদেশে হাসিনার পতন পর অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় দিল্লি-ঢাকা কূটনৈতিক সম্পর্কে এক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতে তারেক বাংলাদেশে সরকার গড়ার পর দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ফের মসৃণ হতে শুরু করে। কিন্তু গত ৫ অগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দু’বছরের মাথায় দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠক করেন হাসিনা। সেখান থেকে তোপ দাগেন তারেকের সরকারকে। তা নিয়ে ফের দিল্লি এবং ঢাকার মধ্যে নতুন করে চাপানউতর শুরু হয়।
আনন্দবাজার পত্রিকা।







