ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নে আপন দাদি ও ফুপুসহ তিনজনকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক যুবক।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের খুশির বাজার এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন প্রতিবেশী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে লড়ছেন।
নিহতরা হলেন: ঘাতক আকাশ মোল্যার আপন দাদি আমেনা বেগম (৮০), ফুপু রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী রিকশাচালক কাবুল চৌধুরী (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই এলাকার হারুন মোল্যার ছেলে আকাশ মোল্যা (২৫) হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা তার দাদি ও ফুপুকে কোদাল দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরীসহ কয়েকজন এগিয়ে এলে ঘাতক আকাশ তাদের ওপরও চড়াও হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দাদি, ফুপু ও প্রতিবেশী কাবুল মারা যান। আহত আরও একজনকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতক আকাশ মোল্যা দৌড়ে পালিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার পরের কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির উঠানে তিনজনের নিথর দেহ পড়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। ঘাতক আকাশ তার দাদি ও ফুপুসহ তিনজনকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঠিক কী কারণে সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মোটিভ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় আকাশ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিল কি না বা পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল কি না–তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে গদাধরডাঙ্গী গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।






