মঙ্গলবার, ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধে জয়ী কৃষক, আমন ধানের বাম্পার ফলন

জলবায়ূর প্রভাবে আমনের মৌসুম শুরুতে অনাবৃষ্টি ও অতিবর্ষণে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধে বিজয়ী কৃষকরা।এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ধানের দাম বেশী থাকায় খুশি কৃষকরা। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৯৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে বলে ধারনা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। দুই উপজেলার মানুষের খাদ্য চাহিদা রয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিকটন ধান। খাদ্য চাহিদা পুরণ শেষে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ধান বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি অফিসার সিএম রেজাউল করিম।

জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপকুলীয় অঞ্চলের মাঠের পরে মাঠে এখন আমন ধান রাতে শিশিরে ভেজা সুর্য্যাদ্বয়ের সাথে সাথে ধানের গোছা অপরূপ সবুজের সমহারে কৃষককে আহবান করছে। এচিত্র চিরাচরিত রূপসী বাংলার অপরূপ দৃশ্য। এ দৃশ্য দেখে সকল মানুষের হৃদয় ছূয়ে যায়। শ্যামল সবুজ এ বাংলার চিত্র কতইনা সুন্দর। সেই বাংলার অপরূপ পরিবেশের উপর জলবায়ুর পরিবর্তনের ছোবলে তছনছ হয়ে গেছে। জলবায়ুর প্রভাবে আমনের মৌসুমে অনাবৃষ্টিতে কৃষক চাষাবাদ করতে পারেনি। এরপর শ্রবন মাসের অতিবৃষ্টির ফলে আমন ধানের বীজতলা পঁচে যায়। কৃষক প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে ফের বীজতলা তৈরি করে। সেই বীজতলা দিয়ে চারা করে ক্ষেতে আমন ধান বপন করে। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে সফল কৃষকরা। এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে পুরো দমে চলছে ধান কাটা। বীজতলা শুরুতে কৃষকের মাঝে হতাশা থাকলেও বাম্পার ফলনে খুশি তারা । সঠিক সময়ে সরকারী সহায়তা পাওয়ায় ঘুরে দাড়িয়েছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, আমতলী ও তালতলী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এ বছর দুই উপজেলার ৩৯ হজার ৩’শ ৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে আমতলীতে ২৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর এবং তালতলীতে ১৬ হাজার ১০ হেক্টর জমি। আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় হেক্টর প্রতি ৩.৫০ মেট্রিকটন হিসেবে এক লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৯৫ মেট্রিকটন আমন উৎপাদন হবে বলে ধারনা করছে কৃষি বিভাগ। দুই উপজেলার মানুষের খাদ্য চাহিদা রয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিকটন ধান। খাদ্য চাহিদা পুরণ হয়ে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ধান বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। এদিকে বাজারে আমন ধানের দাম বেশ ভলো। প্রতিমণ ইরি ধান এক হাজার ৪০ টাকা এবং গুটি স্বর্না এক হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আমতলী-তালতলীর উৎপাদিত ধান দিনাজপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া ও মাদারিপুর রপ্তানী হচ্ছে।

চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জুয়েল মৃধা ও নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর আমনের এতো ভাল ফলন হবে বুঝতে পারিনি। প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করেছেন।

তালতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের কৃষক ইসহাক হাওলাদার ও আব্দুল হক মৃধা বলেন, শুরুতে আমন ধান নিয়ে যা ভাবছি তা নেই। এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

উত্তর রাওঘা গ্রামের কৃষক বশির উদ্দিন বাদল বলেন, এ বছর তিন একর জমিতে আমন চাষে খরচ করতে ২৮ হাজার টাকা। ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করি ভালোই লাভবান হবো।
শারিকখালী গ্রামের বাচ্চু শরীফ বলেন, দুই একর জমিতে চাষাবাদে ১৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধান পাব আনুমানিক ৭০ মণ।

পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের সোহেল রানা বলেন, পাঁচ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। ইরি ধান এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিকুলতার মধ্যেও আমনের এতো ভালো ফলন হবে কৃষকরা ভাবতেই পারেনি।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিকুল পরিবেশের মধ্যেও এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশাকরি দুই উপজেলার এক লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৯৫ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হবে। খাদ্য চাহিদা পুরণ করে কৃষকরা অর্ধেক ধান বিক্রি করতে পারবেন। বাজারে ধানের দামও ভালো। এতে কৃষকরা বেশ লাভবান হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ