ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী উত্তাপ ধরে রাখলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পার হলেও নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়িয়ে ভোটের মাঠেই থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন,এই লড়াই সহজে থামার নয়।
আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলেও ছিলেন অটল হাসান মামুন। ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও চাপ উপেক্ষা করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই লড়াই মানুষের অধিকার ও সম্মানের।
হাসান মামুনের এই অবস্থানে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন করে জটিল হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেনগণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থাকায় জোট প্রার্থীর সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের শুরু থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছিল, শেষ মুহূর্তে হয়তো প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন হাসান মামুন। বিরোধী পক্ষের প্রত্যাশাও ছিল তিনি সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু সব গুঞ্জন ও চাপ উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠ ছাড়েননি তিনি। বরং মাঠে-ময়দানে সরব উপস্থিতি, কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তা এবং সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া তার প্রার্থিতাকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্থানীয়দের মতে, হাসান মামুন কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি এই আসনে একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা। তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের মাঠের রাজনীতি ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। ফলে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচন এখন শুধু প্রার্থী বনাম প্রার্থী নয়, বরং সম্মান, অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক কঠিন লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণায় পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোট যেন আরও অনিশ্চিত ও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়—ভোটের বাক্সে কার পক্ষে রায় দেয় গলাচিপা-দশমিনার মানুষ।






