শনিবার, ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

তালতলী থানার ওসির সহযোগীতায় সন্ত্রাসী বাহিনীর ধান কেটে নেয়ার অভিযোগ

তালতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপুর সহযোগীতায় সন্ত্রাসী বাহিনী জমির ধান কেনে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিক মোঃ শাহজাহান হাওলাদার শনিবার বিকেলে আমতলী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কাছে তালতলী থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তিনি।

জানাগেছে, তালতলী উপজেলার পশ্চিম গাবতলী গ্রামের মোঃ হারুন অর রশিদ মুন্সি, মোঃ আইয়ুব আলী ফরাজী ও মোঃ মতিয়ার রহমান খাঁন ছোটবগী মৌজায় আরএস ১৫৫ এসএ ৩২৯ নং খতিয়ানের ভুয়া নিলাম বানিয়ে আলেকজান ও শাহজাহান হাওলাদারের আট একর ২৪ শতাংশ দাবী করেন। ওই জমি আলেকজান ও শাহজাহান ভোগদখল করে আসছে। ওই জমি নিয়ে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলেকজানও শাজহাজানের মামলা চলমান রয়েছে। আদালত গত বছর ২৯ নভেম্বর শান্তিশৃংখলা রক্ষায় স্থিতিশীলতার আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ অমান্য করে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর হারুন অর রশিদ মুন্সি, আইউব আলী ফরাজী ও মতিয়ার রহমান খাঁনের সন্ত্রাসী বাহিনী বারেক কাজী, জলিল ফরাজী, মামুন ফরাজী, বাদশা,আবু ছালেহ, পনু খাঁন, সাগর, মিরাজ, শিরাজ, রাজু,ইমন,মনির ও সিয়ামসহ ১০-১২ জন সন্ত্রসাী জোরপুর্বক ওই জমিতে ধান কাটতে যায়। ধান কাটতে শাহজাহানের স্ত্রী রেহেনা ও ভাগ্নে স্বপন তাদের বাঁধা দেয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপন ও রেহেনাকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলা করেই খ্যান্ত হয়নি, সন্ত্রাসীরা শাহজাহানের স্ত্রীকে জোর পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। সন্ত্রাসীদের হামলায় স্বপনের ডান পা ভেঙ্গে যায় এমন অভিযোগ শাহাজাহানের।

বর্তমানে স্বপন বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওইদিন বিকেলে এ ঘটনায় শাহজাহান তালতলী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু মামলা নেয়নি। পরের দিন মামলা নিবে বলে টালবাহানা শুরু করেন। কিন্তু পরের দিন অথ্যাৎ এ বছর ১ জানুয়ানী তালতলী থানার ওসির সহযোগীতায় হারুন অর রশিদ মুন্সি, আইউব আলী ফরাজী ও মতিয়ার রহমান শতাধিক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে আবারো ওই জমির ধান কাটা শুরু করে। তাৎক্ষনিক ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন শাহজাহান।

কিন্তু ৯৯৯ তালতলী থানার ওসি খবর পেলেও তিনি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠায়নি। ঘটনার চার ঘন্টা পরে ধান কাটা শেষ তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান কিন্তু ততক্ষনে ধান কেটে সন্ত্রাসীরা মতিয়ার রহমান খাঁনের বাড়ীতে তোলেন।

পুলিশ আঁটি বেধে ধান নিয়ে যেতে দেখেও ওসির নির্দেশে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি উল্টো ধান নিতে সন্ত্রাসীদের সহযোগীতা করেছে বলে আরো অভিযোগ করেন শাহজাহান হাওলাদার। তালতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপুর এমন কর্মকান্ড জমির মালিক শাহজাহান বরগুনা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পুলিশ সুপার ওসিকে মামলা নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিলেও তিনি মামলা নেননি। ঘটনার পাঁচদিন পরে গত শুক্রবার ওসি এ ঘটনায় দুটি মামলা গ্রহন করেন। কিন্তু মামলা গ্রহনের পর পুলিশ আসামী গ্রেফতারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শাহজাহানকে মামলা তুলে নিচ্ছে হুমকি দিচ্ছে।

এমন অভিযোগ এনে শাহজাহান হাওলাদার শনিবার বিকেলে আমতলী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কাছে তালতলী থানার ওসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, মতিয়ার রহমান খাঁন, হারুন-অর রশিদ মুন্সি ও আইউব আলী ফরাজী শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জমির ধান কেটে নিয়ে গেছে। ধান কাটা শেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো সন্ত্রাসীদের ধান নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।

তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসীদের তান্ডবে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তালতলী থানার ওসি কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় দুইটি মামলা নেয়া হয়েছে। দুই পক্ষকে আদালতের স্মরনাপন্ন হতে বলা হয়।

বরগুনা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ