বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কাউকে খুশি করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি এসব কথা বলেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

কাউকে খুশি করতে ডেপুটি অ্যাটর্নি এসব কথা বলেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল
নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ কাউকে খুশি করতে এমনটি করেছেন। তার এই বক্তব্যের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আমিন উদ্দিন এসব কথা বলেন।

সোমবার ডেপুটি অ্যাটর্নি এমরান জানান, নোবেল বিজয়ী ইউনূসের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি দিতে হাইকোর্টের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি এই বিবৃতি দেবেন না। তার এই বক্তব্য দেশব্যাপী আলোচিত হয়।

পরিপ্রেক্ষিতে আজ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার সঙ্গে কথা না বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়া মানে কাউকে খুশি করার জন্য তিনি এসব কথা বলেছেন।

গতকাল গণমাধ্যমকে এমরান আহম্মদ ভূইয়া বলেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তার সম্মানহানি করা হচ্ছে। তাকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলা চিঠি (বিবৃতি) পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে শতাধিক নোবেলজয়ী রয়েছেন। এই খোলা চিঠির প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীদের বিবৃতি লেখা কাগজে আইনজীবীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে আইনজীবীদের ‘নাম’ ও ‘স্বাক্ষর’-ঘর রয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ড. ইউনুসের পক্ষে ১০৭ জনেরও বেশি নোবেল বিজয়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রেসিডেন্টসহ অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ড. ইউনূসকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে। এর বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে নোটিশ করা হয়েছে যে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করার জন্য। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।’ তবে এ কার্যালয়ের অন্যরা বলছেন, এ বিষয়ে কোনো নোটিশ বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

কেন করবেন না এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেখেন ইসরাইলে বিচার সম্পর্কিত বিষয়ে আইন সংস্কার হচ্ছে, এর বিরুদ্ধে সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল অবস্থান নিয়েছেন। তাই এটা আমার নিজস্ব চিন্তা সেই রকমই।’ তিনি বলেন, ‘যে বিবৃতিটা ড. ইউনূসকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন দিয়েছেন এটার সঙ্গে আমি একমত। আমি মনে করি ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তাকে সম্মানহানি করা হচ্ছে, এটা বিচারিক হয়রানি।’

এদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেন, রাষ্ট্রের একজন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসাবে তিনি বলেছেন, ড. ইউনূসকে জুডিশিয়াল হয়রানি করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের পক্ষে দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। তিনি বলেন, এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া যে পদে আছেন সেই পদে থেকে এমন অবস্থান নিতে পারেন না। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতায় পড়ে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একাধিক আইন কর্মকর্তা বলছেন, খোলা চিঠির প্রতিবাদে বিবৃতির জন্য গত রোববার থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন সাধারণ আইনজীবীরা। যার একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকেই সই করেছেন, আবার কেউ কেউ করেননি। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে এতে সই করতে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ