সোমবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে সম্মত

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সফররত প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সংস্কার নীতিকে সহায়তা করতে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।

বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ) ও বর্ধিত তহবিল সুবিধার (ইএফএফ) আওতায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার এবং রেজিলিয়েন্স সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ১.৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ হবে ৪২ মাস।

১০-সদস্যের আইএমএফ স্টাফ প্রতিনিধিদলের নেতা রাহুল আনন্দ আজ বুধবার সচিবালয়ের অর্থ বিভাগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্টাফ-লেভেলের এ সমঝোতা আইএমএফ ব্যবস্থাপনার অনুমোদন এবং নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষ। আর তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার পর ঋণ পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ-এর সহায়তা এবং কর্তৃপক্ষের ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে আইএমএফ-এর একটি প্রতিনিধিদল গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা সফর করে।

আইএমএফ দলটি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দলটি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, দ্বিপক্ষীয় দাতা, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছে।

মোট ঋণ সহায়তা সাত কিস্তিতে ২০২৬ সাল প্রদান করা হবে। প্রথম কিস্তি আসবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে।প্রথম কিস্তিতে আসবে ৪৪৮ মিলিয়ন ডলার। এর জন্য বাংলাদেশকে কোনো সুদ দিতে হবে না। পরবর্তী সাত কিস্তিতে বাকি অর্থ আসবে। প্রতি কিস্তি অর্থের পরিমাণ হবে ৫৫৯ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। এটার জন্য বাংলাদেশকে দুই দশমিক দুই শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে।

৪২ মাস মেয়াদি নতুন প্রায় ৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি ইসিএফ/ইএফএফ ব্যবস্থা এবং একই সাথে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারের একটি আরএসএফ ব্যবস্থার আওতায় ঋণ দেওয়া হবে।

রাহুল আনন্দ বলেন, নতুন ইসিএফ/ইএফএফ ব্যবস্থার লক্ষ্য হল সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা এবং দৃঢ় অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তায় কাঠামোগত পরিবর্তনকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলদের রক্ষা করার জন্য ভঙ্গুর সমন্বয় রোধ করা।

বাংলাদেশের বৃহৎ জলবায়ুু অর্থায়নের চাহিদা প্রতিফলিত করে উপলব্ধ সম্পদের পরিপূরক সমসাময়িক আরএসএফ। ইসিএফ/ইএফএফ-এর অধীনে, কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় চিহ্নিত জলবায়ুু অগ্রাধিকারের অর্থায়নের জন্য আর্থিক ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করবে এবং আমদানি-মুখী জলবায়ুু বিনিয়োগের ওপর বাহ্যিক চাপ কমানোসহ অন্যান্য অর্থায়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এবং মহামারীর ফলে বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্থ হয়েছে, যার ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দ্রুত পতন, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে।
তিনি বলেন, এমনকি বাংলাদেশ যখন এই তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার হুমকিসহ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত সমস্যা মোকাবেলা করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) অবস্থা থেকে সফলভাবে স্নাতক হওয়া এবং ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ, যা এর অতীতের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে় তুলতে এবং প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ুু স্থিতিস্থাপকতা তৈরি করতে কাঠামোগত সমস্যা মোকাবেলা করতে ভূমিকা রাখবে।

রাহুল বলেন, এই পটভূমিতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রাথমিক পদক্ষেপ অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষ আইএমএফ সমর্থিত একটি কর্মসূচি গ্রহন করেছে – যা অত্যধিক প্রয়োজনীয় সামাজিক উন্নয়ন এবং জলবায়ুু ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এর বাহ্যিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, দুর্বলতা হ্রাস করবে এবং একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সর্বশেষ

ফেসবুকে যুক্ত থাকুন

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষঃ