08182019রবি
শুক্রবার, 22 মে 2015 08:13

বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিতে মিয়ানমারকে বলবে যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে সমুদ্রে ভাসমান বাংলাদেশি-রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে ও মানবপাচার বন্ধে রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এ অবস্থায় সাগরে ভাসমান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উদ্ধার ও তাদের জরুরি ত্রাণ সরবরাহের কাজে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে সমুদ্রে ভেসে থাকা প্রায় সাত হাজার মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ঘোষণার পর এবার তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাবে মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এ অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। অন্যদিকে, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে। গতকাল এক বাংলাদেশিসহ সন্দেহভাজন নয় পাচারকারীকে আটক করেছে থাইল্যান্ডের পুলিশ। আন্দামান সাগরে অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো ভাসমান মানুষগুলোকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ইতিমধ্যে তারা সাত হাজার অবৈধ অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। এসব মানুষের জীবন বাঁচাতে রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (যুক্তরাষ্ট্রের সময়) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিয় প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে উঠে আসে সুমদ্রে ভাসমান মানুষের ইস্যুটি। দপ্তরের উপ-মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ বলেন, সমুদ্রে ভাসমান অভিবাসীদের সমায়িকভাবে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সিদ্ধান্ত কার্যকরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে হার্ফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্লিনকেন দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে অবস্থান করছেন। বুধবার তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানিছেন। ব্লিনকেন তার সফরের অংশ হিসেবে মিয়ানমারে যাবেন। দেশটিতে অবস্থানকালে তিনি সাগরে ভাসমান বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উদ্ধার ও তাদের জন্য জরুরিভাবে ত্রাণ সরবরাহের কাজে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন। মুখপাত্র মারি হার্ফ বলেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রতি মিয়ানমার সরকারের নীতি, ধর্মীয় বৈষম্যের বিষয়গুলো সেখানে ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে আসবে। রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা ইস্যুগুলো সমাধানে এবং রোহিঙ্গা জনসংখ্যা মিয়ানমারে যেসব ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে, তার সমাধানে মিয়ানমার সরকার দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করবে বলে আমরা আশা করছি। একইসঙ্গে সেখানে নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানানো হবে। কীভাবে ভাসমান মানুষদের যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপ-মুখপাত্র বলেন, যদি ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের মতো সংস্থা দেশগুলোকে সহযোগিতায় অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়, সেক্ষেত্রে আমরা সে অনুরোধগুলো বিবেচনা করবো। একইসঙ্গে অন্য দেশগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা চালাবো। কিছু রোহিঙ্গা ও ভাসমান মানুষদের নতুন দেশে পুনরায় বসবাসের ব্যবস্থার (রিসেটেলমেন্ট) বিষয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর পরিচালিত যে কোন বহু-রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে পুনরায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আরো অর্থ দিচ্ছি। ইতিমধ্যে প্রায় ১০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মানবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পুনরায় স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থায় আমরা বহু-রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টায় নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে পারি। কিন্তু সকল রোহিঙ্গার দায়িত্ব আমরা নিজেরা নিতে পারি না। সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান চালাবে মালয়েশিয়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেছেন, আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গাদের বহনকারী ভাসমান নৌকা খুঁজে বের করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এসব অভিবাসীর জন্য সাগরে এবং স্থলভাগে মানবিক সাহায্য দেয়া হবে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী তার টুইটার বার্তায় বলেন, ক্ষুধার্ত এবং অসুস্থ মানুষকে সহায়তা করা একটি মানবিক বিষয়। যাতে কোন প্রাণহানী না হয় সেজন্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। এজন্য দেশটির নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাগরে ভাসমান অভিবাসন প্রত্যাশীকে সাময়িক আশ্রয় দিতে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া সম্মত হবার পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এদিকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিষয়ে কথা বলার জন্য মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখন মিয়ানমারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিসহ নয় পাচারকারী আটক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে মানবপাচার নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে সন্দেহভাজন আরো নয় পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে থাইল্যান্ডের পুলিশ। এর মধ্যে একজন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশটির প্রাদেশিক পুলিশের ৯ -অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার মেজর জেনারেল পুথিচার্ত একাচান গতকাল এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ৯ জনের মধ্যে ৪ জন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আর পরোয়ানাভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি। পুথিচার্ত জানান, গ্রেফতার হওয়া ৯ জন সংখলা, সাতুন ও র্যানংয়ের মানবপাচার চক্রের সদস্য। তাদেরকে মানবপাচারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পড়া হয়েছে 314 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 22 মে 2015 08:34