12142019শনি
শিরোনাম:
শনিবার, 02 মে 2015 08:22

মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে ‘সংঘাতময়’ বাংলাদেশ!

ডেস্ক

মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাব-কমিটির শুনানিতে প্যানেল আলোচকদের বক্তব্যে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হলো সংঘাতময় এক দেশ হিসেবে। যে দেশটি বহুমুখী সমস্যায় আক্রান্ত। আর সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থানকে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে অধিকাংশ প্যানেল আলোচক তাদের বক্তব্যে নেতিবাচক বিষয়গুলো তুলে ধরলেও উল্লেখ করেননি বাংলাদেশের সাফল্যের কথা।
 
এ দিকে, প্যানেল আলোচকদের একতরফা বক্তব্যে দর্শক সারিতে সমালোচনা শুরু হলে শুনানির দ্বিতীয় পর্বে কোনো কোনো আলোচক বাংলাদেশের সমস্যা, উন্নয়ন ও সাফল্যের বিষয়ে ভারসাম্য বক্তব্য দেন। পরে এ সব বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান ম্যাট সালমন বলেন—এই শুনানি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। কোনো দেশের সরকারকে হেয় করার জন্য নয়। বরং একটি দেশ কিভাবে অগ্রগতি অর্জন করতে পারে সে বিষয়গুলো মার্কিন প্রশাসনের নজরে আনা।

দুপুরে ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার এই শুনানিতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ, হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্ট্যাডিজ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কার্টিজ, হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের পরিচালক চে কানসারা, বাংলাদেশে ব্যাবসা করেন যুক্তরাস্ট্রের নাগরিক ফ্লেচলি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউনিট্সল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো আলিসা আয়ার্স।

শুনানিতে নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশের নানান সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন।
 
শুনানিতে কংগ্রেসম্যান ম্যাট সালমন বলেন—বাংলাদেশ একটি সংঘাত বিক্ষুব্ধ দেশ। দেশটি বহু দিন ধরে রাজনৈতিক কোন্দলে আক্রান্ত। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন—তখন থেকেই সহিংসতা-সংঘাত ব্যাপক আকারে শুরু হয় দেশটিতে। তিনি বলেন—প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কোন্দলের ফলে কয়েক শত সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়। তিনি বলেন—সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদের উত্থানের সংবাদ। আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠী যখন বিভিন্ন দেশে তাদের যোদ্ধা নিয়োগ দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র যখন দক্ষিণ এশিয়ায় তার অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে, তখন বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে ভালো ধারণা নেয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই লক্ষ্যে এই শুনানিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে এই সাব-কমিটি।
 
শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে ২২ জন নেতা দর্শক সারিতে অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নেতা শরাফত হোসেন বাবু। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসেরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ওয়াশিংটন থেকে টেলিফোনে ইত্তেফাককে জানান—প্যানেল আলোচকরা শুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন—এ ব্যাপারে অধ্যাপক আলী রীয়াজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিরতির পর তিনি বাংলাদেশের বেশ কিছু সাফল্য, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
 
ড. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন—বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনেছে। অর্থনৈতিকভাবেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে। তিনি বলেন—শুনানিতে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের সন্ত্রাস-সহিংসতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।  তিনি উল্লেখ করেন—চলতি বছরের ৫ জানুয়ারির পর টানা তিন মাসের আন্দোলনে পেট্রোল বোমায় দুই শ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। একটানা হরতাল-অবরোধে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ সব বিষয় উল্লেখ করে তিনি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান ম্যাট সালমনের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। এ সময় তিনি ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’ নামে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের সহিংস আন্দোলনের একটি সচিত্র প্রকাশনাও কংগ্রেসম্যানকে উপহার দেন।
 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, আওয়ামী লীগের নেতা শামসুদ্দিন আজাদ, আব্দুস সামাজ আজাদ, আইরিন পারভিন, মুজাহিদুল ইসলাম, শাহানারা রহমান, ইমদাদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নজরুল, মাহমুদুন্নবী বাকী, রফিক পারভেজ, শেখ সেলিম, ড. খন্দকার মনসুর প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 347 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 02 মে 2015 08:35