10162019বুধ
শুক্রবার, 29 এপ্রিল 2016 20:24

সাংবাদিক অঞ্জলির সঙ্গে ডেটিংয়ে সচিন!

ডেস্ক সচিন রমেশ তেন্ডুলকর৷ ভারতীয় ক্রিকেটকে যিনি দীর্ঘ বাইশ বছর ধরে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছেন৷ গোটা ভারত এমনকি গোটা বিশ্বের তামাম ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ ক্রিকেট থেকে অবসরের পর এখনও সচিনের অন্ধভক্ত৷ তাঁকে ঘিরে অনেক ঘটনা ঘটেছে এই বাইশ বছরে৷ যেগুলির মধ্যে বেশিরভাগের বর্ণনা রয়েছে সচিনের আত্মজীবনী ‘প্লেয়িং ইটস মাই ওয়ে’-তে৷ তাতেই বেশ মজাদার কয়েকটি ঘটনাও রয়েছে মাস্টার ব্লাস্টারকে ঘিরে৷ কখনো ২০১১ বিশ্বকাপে আউট হওয়ার পর ফাইনাল না দেখা৷ আবার কখনো সাংবাদিকদের এড়ানোর জন্য বোরখা পরা, আবার বিয়ের আগে সাংবাদিক হিসেবে আসা অঞ্জলির সঙ্গে নিজের বাড়িতে সাক্ষাৎ৷ সেরকমই কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হল নীচে: ১. সচিন ও অঞ্জলির প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৯০ সালে মুম্বই এয়ারপোর্টে৷ এরপর ফোনে কয়েকদিন কথা বলার পর দু’জনেই দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু ততদিনে সেলিব্রিটি হয়ে যাওয়া সচিনের পক্ষে বাইরে দেখা করতে যাওয়াটা সম্ভব ছিল না৷ আবার রক্ষণশীল মারাঠী পরিবারের বাড়িতে একজন অবিবাহিত মেয়ের দেখা করতে আসাটাও সচিনের বাবা-মা মেনে নিতেন না৷ তাই সচিনের বাড়িতে প্রথম ডেটিংয়ে অঞ্জলি একজন সাংবাদিক সেজে এসেছিলেন৷ জানিয়েছিলেন তিনি মাস্টার ব্লাস্টারের সাক্ষাৎকার নিতে চান৷ তেন্ডুলকর কয়েকটি চকোলেট প্লেটে করে এনে অঞ্জলিকে খেতেও দেন৷ বাড়ির অন্যরা সন্দেহ না করলেও সচিনের বৌদি ব্যাপারটিতে অন্যরকম একটা ‘গন্ধ’ অবশ্য পেয়েছিলেন৷ ২. সচিনের বড় ভাই অজিত তেন্ডুলকর আবার ছোট ভাইয়ের ম্যাচের আগে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন৷ কিছুতেই তিনি সচিনকে হাঁসের মাংস খেতে দেন নি৷ তিনি মনে করেছিলেন হাঁসের মাংস খেলে ছোট ভাই ম্যাচে ‘ডাক’(শূন্য রানে আউট হওয়া) করবে৷ অজিত তেন্ডুলকর পরে এর কারণও জানিয়েছিলেন৷ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,‘১৯৯৯ সালে আমি কোথাও পড়েছিলাম যে কয়েকজন ইংরেজ ব্যাটসম্যান ম্যাচের আগের দিন হাঁস খাওয়ার পর তাঁরা প্রত্যেকে ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন৷ তাই সচিন যখন ম্যাচের আগের দিন হাঁসের মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল আমি সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল করে দিয়েছিলাম৷ ’ ৩. ২০০৪ সালে ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের সময়ে সচিন ও জাতীয় দলের সেই সময়কার তাঁর সতীর্থ অজিত আগরকর টানা তিনদিন একই রেস্টুর‍্যান্ট থেকে এখই খাবার খেয়েছেন৷ সচিন নিজে জানিয়েছেন প্রথম দিনের খেলা শেষে ৫৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি৷ ওই রেস্টুর‍্যান্ট থেকে খাবার খাওয়ার পর পরের গোটা দিন ব্যাট করেছিলেন মাস্টার ব্লাস্টার৷ রাতেও সেই একই খাবার খান তিনি৷ তিন নম্বর দিন যখন সেখানে সচিন ফের গেলেন তখন আর অর্ডার দিতে হয়নি৷ ওয়েটার নিজে থেকেই একই খাবার এনে দেন৷ ৪.২০০৭ সালে ভারত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সচিন-সৌরভদের প্রতি ভারতের সবাই খুবই রেগে গিয়েছিলেন৷ সচিন-পুত্র অর্জুন তেন্ডুলকরের তখন মাত্র সাত বছর বয়স৷ কিন্তু তাঁকে বারণ করে দেওয়া হয়েছিল স্কুলে কেউ কিছু বললে অর্জুন যেন তাতে কোনরকম গুরুত্ব না দেয়৷ কিন্তু একটি বাচ্চা অর্জুনকে তাঁর বাবার জন্য ভারত হেরে গিয়েছে বলার পরেই সে রেগে গিয়ে তাঁকে ঘুষি মেরে বসে৷ ৫. ভারতে সচিনকে নিয়ে উন্মাদনা বহুদিনের৷ কখনো কখনো তা সীমাও অতিক্রম করে ফেলে৷ সচিনের সমর্থকেরা তাঁকে একবার দেখার জন্য যেকোনও পর্যায়ে যেতে পারে৷ এহেন বিখ্যাত ব্যক্তির দিকে তাই মিডিয়াও সবসময় তীক্ষ্ণ নজর রেখে দেয়৷ এরকমই একবার সচিনকে নিজের চোট পরীক্ষা করানোর জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ার দরকার পড়েছিল৷ তখন তাঁকে ‘বোরখা’ও পরতে হয়৷ কারণ তিনি চাননি তাঁর চোট নিয়ে মিডিয়া বেশি তোলপাড় করুক৷ ৬. সচিন নিজেও কিছুটা হলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন৷ ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে আউট হওয়ার পর তিনি ম্যাচটি আর দেখেননি৷ পাশাপাশি বীরেন্দ্র সেহওয়াগকেও দেখতে দেননি৷ এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন,‘আহমেদাবাদে আগের ম্যাচে আমি ম্যাসাজ নিচ্ছিলাম৷ বীরু সেই সময় আমার সঙ্গে ছিল৷ ওই ম্যাচটি জেতার পর ফাইনালের দিনও আমি ম্যাসাজ টেবিলে গিয়েছিলাম এবং বীরুকেও সঙ্গে রেখে দিয়েছিলাম৷ সেহওয়াগ বলছিল ও খেলা দেখবে কিন্তু আমি ওকে বারণ করে পরে টিভিতে রিপ্লে দেখে নিতে বলি৷ এবং আমরা বিশ্বকাপ জিতে যায়৷’
পড়া হয়েছে 440 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 29 এপ্রিল 2016 20:34