01272020সোম
শিরোনাম:
মঙ্গলবার, 01 ডিসেম্বর 2015 08:03

বরিশালের চমক

চট্টগ্রাম থেকে সংবাদদাতা বরিশালের ব্যাটিং মাত্র শুরু। মাঠে তখনও দর্শকসমাগম তেমন হয়নি, তবে একের পর এক উইকেট পতনের আনন্দে হৈ-হৈ করে উঠছিলেন টিকিট নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো চট্টলার দর্শকরা। মাঠে প্রবেশের পর তাদের সে আনন্দ আর স্থায়ী হয়নি। বিস্ময় নিয়ে দেখেন রিয়াদ-প্রসন্ন-কুপারের দুরন্ত ব্যাটিং এবং নিজ দলের এলটন চিগুম্বুরার আজব বোলিং ও কামরান আকমলের বিস্ময়কর রানআউট। ১১ ওভারের পর থেকে শুরু হওয়া বরিশাল বুলসের দাপট শেষ হয় ৩৩ রানের জয় দিয়ে। ঘরের মাঠে জ্বলে ওঠার বদলে যেন বরিশাল বুলসের কাছ থেকে চমকই উপহার পেল চিটাগাং ভাইকিংস। বরিশালের মতো চিটাগাংয়ের ব্যাটিংয়ের সূচনাটাও ভালো হয়নি। দলীয় ৫১ রানের মধ্যেই তামিম, দিশলানসহ ৫ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো চিটাগাংয়ের কেউ কেউ রুখে দাঁড়াতে পারেননি। সেকুগ্নে প্রসন্ন, কেভিন কুপারের মতো কেউ মারমুখী ব্যাটিংও করতে পারেননি। উল্টো স্কুলবালকের মতো রানআউট হয়ে এসেছেন কামরান আকমল। অবশ্য নাঈম ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে মাত্র। আর নিজেদের পারফরম্যান্সকে একই গল্পের পুনরাবৃত্তি বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন তামিম ইকবাল। গল্প একই হলেও তার দলের কামরান আকমলের রানআউট এবং চিগুম্বুরার করা ১৯তম ওভারটি নিয়ে কিন্তু কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ম্যাচের ব্যবধানটা হয়েছে মূলত বরিশালের ইনিংসের শেষ সাত ওভারে। শেষ ৭ ওভারে ৯৮ রান তুলে দুর্দান্ত ফিনিশিং দেয় বরিশাল বুলস, যেখানে নেতৃত্বে ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অথচ বরিশালের শুরুটা দেখে মনে হচ্ছিল, চট্টগ্রামেও বুঝি রানখরা অব্যাহত থাকবে। বরিশালের বাজে সূচনার পেছনে আম্পায়ারেরও কিছুটা অবদান আছে। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ইভান লুইসের বিপক্ষে এলবির সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার শরফউদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। কিন্তু স্পিনার দিলশানের ডেলিভারিটি উইকেটে পড়ে স্পিন করে লেগস্টাম্পের বাইরে দিয়ে যাচ্ছিল। তৃতীয় ওভারে সাবি্বর রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া এলবির সিদ্ধান্তটিও সন্দেহ মু্ক্ত নয়। মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বরিশাল যখন চরম বিপদে, তখন তরুণ মেহেদী মারুফের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তারা দু'জন দলের রান পঞ্চাশ পার করেন। আর ২৫ বলে ২৮ রান করে নিজের জাত চিনিয়ে দেন মারুফ। চিগুম্বুরার অফস্টাম্পের বাইরের লো-ফুলটস তিনি যেভাবে হাঁটু গেড়ে বসে কব্জির মোচড়ে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে সীমানা পার করেন, তা অনেক দিন দর্শক মনে রাখবেন। বরিশালের আক্রমণটা শুরু হয় ১৪ নম্বর ওভার থেকে। জিয়াকে দুটি ছয় মেরে শুরুটা করেন সেকুগ্নে প্রসন্ন। তবে এক ওভার পর ওই জিয়ার হাতেই ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। শফিউলের বলে লং-অফে ক্যাচ তুলেছিলেন প্রসন্ন; কিন্তু জিয়া সেটি ধরার বদলে উল্টো ছয় বানিয়ে দেন। এমন ফিল্ডিংয়ে সম্ভবত মেজাজ খারাপ হয়ে যায় বোলারের। কোমরের ওপরে ফুলটস মারেন শফিউল। ওই বলেও লং-অনে ক্যাচ দিয়েছিলেন প্রসন্ন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেটিও ছয় বানিয়ে দেন ফিল্ডার নাঈম। অবশ্য ক্যাচ ধরলেও লাভ তেমন হতো না, কারণ আম্পায়ার নো-বল ডেকেছিলেন। তবে ছয়টি রান তো বাঁচানো যেত! এর মাঝে এ জুটি ভাঙার আরও একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন চিটাগাং ভাইকিংসের উইকেটকিপার কামরান আকমল। দুই রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন রিয়াদ। বল ধরে স্টাম্পও ভেঙে দিয়েছিলেন কামরান। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল ধরার আগে বেলস ফেলে দিয়েছেন কামরান আকমল। বরিশালের ইনিংসে সবচেয়ে নাটকীয় ছিল চিগুম্বুরার করা উনিশতম ওভারটি। ৯ বলের ওই ওভার থেকে রান ওঠে ২২টি। আর প্রথম দুই বলে সব মিলিয় ১৪ রান! চিগুম্বুরার বিমার এবং উইকেটের মাঝখানে ফেলা ডেলিভারি দেখে অন্য সন্দেহও দানা বাঁধতে পারে!
পড়া হয়েছে 313 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 01 ডিসেম্বর 2015 08:12