09202019শুক্র
শনিবার, 24 আগস্ট 2013 11:20

পাপনকে চ্যালেঞ্জ সাবের চৌধুরীর


স্পোর্টস রিপোর্টার
‘ক্রিকেট নয়, নির্বাচন নিয়েই মেতে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি। অথচ বয়সভিত্তিক দলগুলো বিদেশ সফরে হারের বৃত্তে আটকে রয়েছে। তাদের হারের পোস্টমর্টেম করা উচিত। তা না করে নির্বাচনে জিততে ছক কষা হচ্ছে’, বলেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
শুক্রবার পরিবাগে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল বিদেশ সফরে টানা হেরেছে। হারের কারণ কী? তার পোস্টমর্টেম করলে পুরো ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে। এটা এখন সময়ের দাবি। অথচ বিসিবির কর্মকর্তারা নির্বাচন নিয়েই বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন। খেলার চেয়ে কি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল? তারা যেভাবে চলছেন তাতে একসময় দেখা যাবে খেলা থাকবে না, বোর্ডই থাকবে।’ সাবের চৌধুরী বলেন, ‘পাপন সাহেব নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমি একে সাধুবাদ জানাই। আরও কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাহলে আমি তাদেরও স্বাগত জানাব। বিসিবির আসন্ন অর্থবহ ও আদর্শ নির্বাচন হোক। আমি চাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক। আমরা চাই না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মতো একটি অস্বচ্ছ নির্বাচন। আমরা বিশ্বাস করি, বিসিবিতে আদর্শ নির্বাচন হবে। কিন্তু নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপতৎপরতা চলছে। সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্বাচন করানোর রায় পাওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন গঠন হয়নি। কাউন্সিলর চূড়ান্ত হয়নি। ১২ আগস্ট কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি পাঠানোর কথা থাকলেও তা পাঠানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে শোনা গেল, ২২ আগস্ট চিঠি দেয়া হবে। সেটাও ঠিক থাকেনি। তাহলে বোঝা যাচ্ছে, যে নির্বাচনী ছক করা হয়েছিল সেই ছকের প্রতিও তাদের বিশ্বাস নেই। ফোরামের নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাÍক বক্তব্য দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি পাপন। অথচ আমরা দেখলাম, ফোরামের সমর্থনের কথা বলে পাঁচ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। এতে কী বোঝা গেল? পাপনকে সমর্থন করলেই ফোরাম ভালো। আর সমর্থন না করলেই ফোরাম দুর্নীতিবাজ হয়ে যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, হাতে হাতে কাউন্সিলর ফরম দেয়া হচ্ছে নিজস্ব লোকদের। কথা হচ্ছে আমরা যদি দেখি জেলা পর্যায়ের যে সব লোক পাপনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তারাই কাউন্সিলর হয়েছেন, তাহলে তো বোঝাই যাবে নির্বাচন কিভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে।’
সাবের চৌধুরীরর কথা, ‘ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ নিয়েও বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এক ক্লাব কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সাদা ফরমে স্বাক্ষর নিয়ে বাণিজ্য হচ্ছে। এখন সেই ফরম দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে কাউন্সিলর করার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। বোর্ডকে ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য বাগিয়ে নেয়া হচ্ছে। বিনা টেন্ডারে কাজ করা হচ্ছে। অভিযোগ শুনেছি, অ্যাডহক কমিটির কয়েকজন সদস্য এসব টেন্ডারের কাজ ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। বর্তমান অ্যাডহক কমিটি ক্রিকেটের অবকাঠামো ব্যবহার করে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ করছেন। যা অনৈতিক। সাহস থাকলে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিন। সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেন। তখন বুঝব কাউন্সিলররা কাদের বেছে নেন।’
বিসিবির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছু হবে। বিসিবির নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে যাতে হতে পারে তার ব্যবস্থা করা উচিত। পাপন সাহেব তার কথায় স্থির থাকেন না। একেক সময় একেক কথা বলেন। একবার বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় মাটির কাজে দুর্নীতি হয়েছে। আরেকবার বলেন, দুর্নীতিবাজদের চেহারা উšে§াচন করে দেবেন। আবার শুনলাম, দুর্নীতির মামলা করবেন। কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তার কিছুই করেননি। আমি বলতে চাই, আগের কমিটির সভাপতি ছিলেন মোস্তফা কামাল। তার আমলে দুর্নীতি যদি হয়ে থাকে, তার বিচার হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পাপন সাহেবের নয় মাসের মেয়াদে যেসব দুর্নীতি হয়েছে, তারও বিচার করতে হবে। বিসিবির গঠনতন্ত্রসহ ক্রিকেটাঙ্গন যে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে সভাপতি পাপনের সঙ্গে যে কোনো সময় বিতর্কে অংশ নিতে রাজি আছি। আশা করব, উনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন। ’
সাবের চৌধুরী বলেন, ‘শুধু আকসুর রিপোর্ট নিয়ে নয়, পুরো বিপিএল নিয়ে তদন্ত করতে হবে। কারা বিপিএলকে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যম বানিয়েছিল, বোর্ডের কোন কোন ব্যক্তি বিপিএলের সঙ্গে নেপথ্যে জড়িয়েছিল, তা খুঁজে বের করতে হবে।’ বিসিবির সাবেক সভাপতির কথা, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে দক্ষতার সঙ্গে বিসিবির নির্বাচন পরিচালনা করা উচিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদিত জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের সঙ্গে বিসিবির গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক। এসব অসঙ্গতি দূর করে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।’
বিসিবির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক পন্থায় সবকিছু হবে। বিসিবির নির্বাচন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে যাতে হতে পারে তার ব্যবস্থা করা উচিত। পাপন সাহেব তার কথায় স্থির থাকেন না। একেক সময় একেক কথা বলেন। একবার বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সময় মাটির কাজে দুর্নীতি হয়েছে। আরেকবার বলেন, দুর্নীতিবাজদের চেহারা উšে§াচন করে দেবেন। আবার শুনলাম, দুর্নীতির মামলা করবেন। কিন্তু তিনি যা বলেছেন, তার কিছুই করেননি। আমি বলতে চাই, আগের কমিটির সভাপতি ছিলেন মোস্তফা কামাল। তার আমলে দুর্নীতি যদি হয়ে থাকে, তার বিচার হওয়া উচিত। সেই সঙ্গে পাপন সাহেবের নয় মাসের মেয়াদে যেসব দুর্নীতি হয়েছে, তারও বিচার করতে হবে। বিসিবির গঠনতন্ত্রসহ ক্রিকেটাঙ্গন যে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে সভাপতি পাপনের সঙ্গে যে কোনো সময় বিতর্কে অংশ নিতে রাজি আছি। আশা করব, উনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবেন। ’
সাবের চৌধুরী বলেন, ‘শুধু আকসুর রিপোর্ট নিয়ে নয়, পুরো বিপিএল নিয়ে তদন্ত করতে হবে। কারা বিপিএলকে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যম বানিয়েছিল, বোর্ডের কোন কোন ব্যক্তি বিপিএলের সঙ্গে নেপথ্যে জড়িয়েছিল, তা খুঁজে বের করতে হবে।’ বিসিবির সাবেক সভাপতির কথা, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে দক্ষতার সঙ্গে বিসিবির নির্বাচন পরিচালনা করা উচিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদিত জেলা ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রের সঙ্গে বিসিবির গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক। এসব অসঙ্গতি দূর করে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছে।

পড়া হয়েছে 545 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 24 আগস্ট 2013 11:46