07232018সোম
মঙ্গলবার, 10 জুলাই 2018 08:17

খালেদাকে ছাড়া নির্বাচন নয়: ফখরুল

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামিন স্থগিতের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে সোমবার দলটির প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ফলের রস পান করিয়ে অনশন ভাঙান। অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিদ্রোহী নেতা ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিশাল শোডাউন থাকলেও নবগঠিত থানা কমিটির নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। এদিন রাজধানীসহ সারাদেশে জেলা সদরেও প্রতীকী অনশন পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এদেশে কোনো সংসদ নির্বাচন হবে না। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এদেশে নির্বাচন হবে, অন্যথায় হবে না। এতিমদের টাকা আত্মসাতের দায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপির এটি দ্বিতীয় প্রতীকী অনশন। এ ছাড়া বিক্ষোভ, প্রতিবাদ, মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছে দলটি। প্রতীকী অনশনে সংহতি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এই আওয়ামী লীগ তিন-তিনবার দেশের গণতন্ত্রকে বিধ্বস্ত করেছে। গণতন্ত্র আবার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ যে কোনো সময়ে আন্দোলনের ডাক আসতে পারে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, যদি আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয়, তাহলে একমাত্র বিকল্প হলো রাজপথ। এবার প্রস্তুতি নিন- কর্মসূচি দেওয়া হবে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীকে ছাড়া, বিএনপিকে ছাড়া, ২০ দলকে ছাড়া ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করতে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। তা আর বাস্তবায়ন করতে দেবে না জনগণ। বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে অনশনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদীন ফারুক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। একাত্মতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বক্তব্য রাখেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দারসহ অন্যান্য শরিক দলের শীর্ষ নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের আহ্বায়ক আখতার হোসেন খান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 8 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 10 জুলাই 2018 08:26