09212018শুক্র
শিরোনাম:
বুধবার, 16 মে 2018 07:48

ক্ষমতাসীনরা সব কেন্দ্রে হানা দিয়েছে : ফখরুল

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অযোগ্যতার কারণে পুলিশের হামলার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খুলনার ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিএনপিকর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেরাই নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। তিনি ইসি পুনর্গঠনেরও দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার রাতে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানী নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃতীয় দফা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিক্রিয়া জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনিও অভিযোগ করেন যে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদদে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ১৫০টির বেশি ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়েছে। রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। খুলনায় সেনা মোতায়েন থাকলে ফলাফল যাই হোক ভোট ব্যবস্থা এমন হতো না। বিরোধী দল সুন্দরভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারত। সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে—এমন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেটা প্রমাণ হয়েছে যখন আমরা ওখান থেকে খবর পাচ্ছি এক ধরনের, সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে আরেক ধরনের এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রচার হয়েছে আবার ভিন্নভাবে। তারা (সরকার) আসল ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেয়নি। ’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যখন সংবাদ এলো দুপুর ১টার পর একের পর এক কেন্দ্র দখল হয়েছে। তখন সিইসিকে (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ফোন করি, বলি খুলনা নির্বাচনে অনিয়মের কথা। তিনি আমাকে বলেন, আপনারা রাজনৈতিক দল, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিন। কোথাও কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি। আমি যখন বললাম, আমি আপনাকে সোর্স বলছি, তখন সিইসি নূরুল হুদা বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে দেখায়নি। তখন আমি সংবাদমাধ্যমগুলোর নাম বললে তিনি বলেন, আমি দেখছি। এখনো তিনি দেখছেন। এর আগে গাজীপুরে আবদুল্লাহ আল নোমানকে আটকের বিষয়ে জানালে তিনি তখনো বলেছেন, আমি দেখছি। তিনি শুধুই দেখছেন। ’ সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত কয়েকটি ফুটেজ উপস্থাপন করা হয়। এর আগে এসব ফুটেজ নিয়ে বিএনপি নেতারা আলোচনা করেন। সরকার নির্বাচনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এমনকি সাবেক সিইসি শামসুল হুদা ও কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। ’ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে রিজভী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল ঝালকাঠি সদর উপজেলার কোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দদোশ ইউপি নির্বাচনে সব কেন্দ্র ক্ষমতাসীনরা দখল করেছে বলে অভিযোগ করেন। এর আগে দুপুর পৌনে ১টা ও সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রুহুল কবীর রিজভী।
পড়া হয়েছে 54 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 16 মে 2018 07:53