10162019বুধ
বৃহস্পতিবার, 16 নভেম্বর 2017 11:07

রংপুর সিটি নির্বাচনে দেওয়া হবে জোটের একক প্রার্থী

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক চার মাস পর ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকে দেশের ১৯ জেলায় খালেদা জিয়ার সফরের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটগতভাবে একক প্রার্থী মনোনয়ন ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের ব্যানারে শিগগির সম্মেলন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জোটগতভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জোটের মধ্যকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়। গতকাল বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার গুলশানের কার্যালয়ে রাত ৯টায় এ বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন সামনে রেখে শরিক দলগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেন। এ সময় জোটের নেতারা বিভাগসহ ১৯টি জেলায় খালেদা জিয়াকে সফরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। খালেদা জিয়াও এ প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেন বলে বৈঠক সূত্র জানায়। এ সময় সিদ্ধান্ত হয়, শিগগির সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার এ কর্মসূচি শুরু হবে। বৈঠকে শরিক দলের নেতারা বলেন, আগামীতে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবেন না। খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না বা হতে দেওয়া হবে না। এ প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া এখন থেকেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শরিক দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। জোটের একাধিক নেতা জানান, রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপি থেকে যাকেই মেয়র প্রার্থী করা হবে, তাকেই শরিক দলগুলো সমর্থন জানাবে। তবে মেয়র প্রার্থী ছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থী হতে আগ্রহী জামায়াতসহ অন্যান্য শরিক দলের কেউ থাকলে নাম দিতে বলেছেন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিগগির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে একটি সম্মেলন হতে পারে। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে প্যানেল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের বিষয়টি বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়। আইনজীবী ফোরামের সম্মেলনে এ বিষয়ে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি আরও জোরদার করার বিষয়ে নেতারা আলোচনা করেন। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১৭টি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। এর মধ্যে কল্যাণ পার্টি ও পিপলস লীগের নেতারা অনুপস্থিত ছিলেন। অবশ্য লেবার পার্টিকে সংগঠনটির উপদলীয় কোন্দলে বিভক্ত নেতৃত্বের কারণে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। লেবার পার্টির কোন্দলের বিষয়টি সুরাহার জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে লেবার পার্টির নেতা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের ওপর অধিকাংশ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। বৈঠক চলাকালে লেবার পার্টির একাংশের নেতাদের বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। সেখানে ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, যুগ্ম মহাসচিব শামসুদ্দিন পারভেজসহ আরও কয়েকজন নেতা। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুল হালিম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) খোন্দকার গোলাম মুর্তজা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ও ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাইফুদ্দিন মনি। গত ১৫ জুলাই লন্ডন যাওয়ার আগে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন খালেদা জিয়া।
পড়া হয়েছে 346 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 16 নভেম্বর 2017 11:14