08242017বৃহঃ
বৃহস্পতিবার, 10 আগস্ট 2017 23:37

বিচারপতি খায়রুল ও আ' লীগ নেতাদের বক্তব্য একই সুরে গাথা: বিএনপি

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্য একই সুরে গাথা বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঐতিহাসিক, দিকনির্দেশনামূলক দলিল। অথচ সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার বা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগেই সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু অশালীন নয়, আদালত অবমাননার শামিল। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে জরুরি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জনগণ আশার আলো দেখছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্যে জনগণ উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠিত। অবশ্য বিচারপতি হকের রায়ের পর থেকেই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা এবং মানুষের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। সরকার গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, বিচার বিভাগকেও একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আইনমন্ত্রী হিসেবে এ বিষয়ে কথা বলা তার একেবারেই উচিত নয়। কারণ তার দায়িত্ব হচ্ছে আদালত যে রায় দেন, তা বাস্তবায়ন করা। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি যে অপরাধ করেছেন, সেজন্য একদিন তাকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তার লজ্জাবোধ নেই। কারণ ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে তিনি বলেছেন, আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে। জনগণের স্বার্থে তা করা উচিত। অথচ ১৬ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় দেওয়ার সময় তিনি তা আর বলেননি। এটা অনৈতিক। এটা জুডিসিয়াল ক্রাইম- বিরাট অপরাধ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, উপদেষ্টা সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।
পড়া হয়েছে 11 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 10 আগস্ট 2017 23:43

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা