10162019বুধ
শনিবার, 17 জুন 2017 22:16

ক্ষমতাসীন দলের নৌকা ডুবে গেছে: খালেদা জিয়া

শনিবার জাগপার ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শনিবার জাগপার ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া
নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক সরকারের ব্যর্থতায় ক্ষমতাসীন দলের ‘নৌকা ডুবে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, 'যে নৌকা ডুবে গেছে, সেই নৌকাকে হাজার লোক দিয়েও টেনে তুলতে পারবে না।' খালেদা জিয়া বলেন, 'একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।' শনিবার রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েল সেন্টারে ২০ দলীয় জোটের শরীক জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির (জাগপা) প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, 'নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন; আর সেখানে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন করে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন। নৌকার সঙ্গে ডানে-বামে ও আশে-পাশে যারা আছেন, যারা অন্য দল করে আওয়ামী লীগে এসেছে তারা কী জিনিস। তাদের লাইফ স্টাইল কী। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না, আওয়ামী লীগও দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে না।' তিনি বলেন, 'অবিলম্বে সরকারকে একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। তার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আর এক তরফা নির্বাচন হতেও দেয়া হবে না। সব রাজনৈতিক দল যাতে অংশ নিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে সবাই ভোট দিতে পারবে। সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত।' খালেদা জিয়া বলেন, 'বিএনপি ভিশন দিয়েছে। জনগণের কাছে যে ওয়াদা করা হয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তা অবশ্যই পুরণ করা হবে।' বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, 'সামনে ঈদ। এই ঈদের মানুষ দেশে যায়। কিন্তু রাস্তাঘাটের যে অবস্থা তাতে পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা ১০ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘণ্টা লেগে যায়।' পাবর্ত্য জেলায় পাহাড়ধসে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভুমিধসে মানুষ মারা গেলো, তাদের উদ্ধার করা, পুর্নবাসন করা বর্তমান সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না, কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না।' এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরেও সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। চালের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'চালের দাম এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। নিম্নমানের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকায়। এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।' বাজেটের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, 'বাজেটে ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়েছে। যে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে সেটার কোনো প্রয়োজন নেই।' অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ক করেন জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির ( কাজী জাফর) মোস্তাফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন। আলোচনা সভার ২০ দলীয় জোটের শরিক মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার পর মূলমঞ্চে ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাগপার সদ্য প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের সহধর্মিনী অধ্যাপক রেহানা প্রধান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার তাহমিয়া প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমানসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।
পড়া হয়েছে 274 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 17 জুন 2017 22:23