11142019বৃহঃ
সোমবার, 29 জুন 2015 22:01

নারী নেতৃত্বকে ‘শো-পিস’ বলে তোপের মুখে এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয় সংসদের শীর্ষ পদে থাকা নারীদের ‘শোপিস’ বলায় সংসদে নারীদেরই ক্ষোভ-তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ। সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরে এরশাদের ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আর স্বামীর বক্তব্যে শব্দ চয়নে এই ধরনের ভুলের জন্য সংসদে দাঁড়িয়ে ‘বোন’দের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ। সোমবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এরশাদ বলেন ‘মাননীয় স্পিকার, নারীর ক্ষমতায়ন। আমরা কথায়-কথায় বলি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, সংসদদের উপনেতা নারী, বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী। এরাতো শোপিস। বাইরে কিন্তু এই অবস্থা না। বাইরে কোনো সম্মান নেই।’ এরশাদের এই বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী উপস্থিত না থাকলেও ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। নারী নেতৃত্বকে ‘শোপিস’ বলায় সঙ্গে-সঙ্গেই সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যরা একযোগে চিত্কার করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীসহ কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে, টেবিলে শব্দ করে তীব্র আপত্তি জানান। দু’একজন নারী সদস্য দাঁড়িয়েও প্রতিবাদ করেন এবং এরশাদের ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্চের দাবি জানান। স্পিকার তখন সবাইকে শান্ত থাকতে অনুরোধ করেন। হইচই-প্রতিবাদের মধ্যে এরশাদ তাদের উদ্দেশে বলেন ‘প্লিজ আমাকে বলতে দিন।’ এসময় এরশাদের বামে থাকা জাপা নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ ও দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে বিচলিত দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ প্রতিবাদকারী নারীদের হাত দিয়ে ইশারা করে শান্ত হওয়ার অনুরোধ করেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে এরশাদ বলেন ‘বাইরে কিন্তু নারীরা অসহায়, বাইরে কিন্তু নারীরা অসহায়। মানীয় স্পিকার, আপনার মনে আছে, আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি মালা দিতে যাই শহীদ মিনারে। সেখানে কেউ থাকে না। মধ্যরাতে কেন সেখানে কোনো নারী যায় না, কারণ তারা ভয় পায়।’ তখনও প্রতিবাদ চলতে থাকলে এক পর্যায়ে এরশাদ বলেন, ‘ঠিক আছে, আমি যদি বলে থাকি, তাহলে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’ এরপর জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের কথা মনে আছে, আমি ভুলিনি, কি ঘটেছিল, কোথায় ঘটেছিল, ভিডিও ফুটেজ দেখিছি, তার কী বিচার হয়েছিল, বিচার হয়নি। নারীরা আজ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে।’ এরশাদের বক্তব্য শেষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘একটু আগে মাননীয় সদস্য (এরশাদ) নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বলতে গিয়ে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন পদে আসীন নারী সদস্যদের সম্পর্কে যে অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেইসব শব্দাবলী ৩০৭ বিধি, কার্যপ্রণালী বিধির আলোকে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হলো।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নারী সংসদ সদস্যসহ সরকারদলীয় সদস্যরা একযোগে টেবিল চাপড়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এরপর বাজেট আলোচনায় অংশ নিতে দাঁড়িয়ে প্রথমেই স্বামীর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং অন্য যারা বোনেরা আছেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করছি। ওনার হয়তো শব্দ চয়ন ঠিক ছিল না। সে কারণে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ সরকারি দলের সদস্যরা তখনও টেবিল চাপড়ে রওশনকে ধন্যবাদ জানান। এরশাদকে তখন মাথা নিচু করে হাসতে দেখা যায়। অবশ্য রওশনের এই দুঃখপ্রকাশে জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ জাপার কয়েক সদস্যকে উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পরে জাপা মহাসচিব বাবলু বলেন ‘সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী একজনের বক্তব্য আরেকজন প্রত্যাহার করতে পারে না, অন্য কেউ দুঃখপ্রকাশও করতে পারে না। যিনি বক্তব্য রাখেন, কিছু প্রত্যাহার করতে হলে তাকেই করতে হয়, অথবা স্পিকার একপাঞ্চ করতে পারেন, এটিই নিয়ম।’ বক্তব্যে ‘উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোনো অফিস নেই’-একথা বলেও সরকার দলীয় এমপিদের দ্বিতীয় দফায় মৃদু প্রতিবাদের মুখে পড়েন এরশাদ। এরশাদ বলেন ‘চেয়ারম্যানদের কোনো অফিস নেই, সরকার বলে আছে।’ এসময় সরকার দলীয় এমপিরা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন ‘নো, নো, তাদের অফিস আছে।’ তখন এরশাদ বলেন ‘ওইটা ওদের বাড়ি।’ এমপিরা বলেন ‘বাড়ি নয়, ওইটা তাদের অফিস, সব চেয়ারম্যানের অফিস আছে।’ এবার এরশাদ বলেন ‘গাইবান্ধায় আমার দলের একজন্য উপজেলা চেয়ারম্যান আছেন, অফিস না থাকায় তাকে অনেক কষ্ট করে কাজ করতে হয়।’ দুপুরে সংসদের এই ঘটনার বিষয়ে বিকেলে এরশাদ বলেন ‘নারীর ক্ষমতায়ন আসলে বাস্তবে হচ্ছে কিনা-আমি সেটিই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। নারীরা এখনও পদে পদে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত। ওরা ভয়ে শহীদ মিনারে যায় না, রাতে ঘর থেকে বের হয় না। কিন্তু ওরা আমার কথা না বুঝেই হইচই করেছে।
পড়া হয়েছে 433 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 29 জুন 2015 22:10