12162018রবি
বুধবার, 10 অক্টোবার 2018 18:47

তারেকের ফাঁসির জন্য আপিলের ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের ইতিহাসে বর্বরোচিত ভয়াবহ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এ হামলার মূলহোতা খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তিনি ষড়যন্ত্রের নায়ক। তাই রায়ে তারেকের মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত ছিল। গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।তবে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট বললেন আইনমন্ত্রী। তারেক রহমানসহ এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ- পাওয়া তিন আসামির মৃত্যুদ-ের জন্য আপিল করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, রায় পাওয়ার পর সেটি পর্যালোচনা করে তারেক রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও হারিছ চৌধুরীর সাজা ফাঁসিতে বর্ধিত করা যায় কি না, সে জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তাঁরা। মামলার বিচার শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পরে আমরা চিন্তা-ভাবনা করব যে এই রায়ে তারেক রহমানকে এবং আরও দুজন-কায়কোবাদ এবং হারিছ চৌধুরীকে যে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে সেটার জন্য আমরা উচ্চতর আদালতে গিয়ে তাদের ফাঁসির জন্য আমরা...এনহান্সমেন্ট বলে সেটা আইনে...এনহান্সমেন্টের জন্য আমরা আপিল করব কি না। এই হামলার মূল নায়ক তারেক রহমান। তিনি আওয়ামী লীগকে ও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সপাটে শেষ করে দেয়ার ষড়যন্ত্রের নায়ক ছিলেন। মূল হোতা তারেকের মৃত্যুদ- হওয়া উচিত ছিল।’ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শোভাযাত্রায় গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন; আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু গ্রেনেডের প্রচ- শব্দে তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়। শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলকে নেতৃত্বশূন্য করতেই এই হামলা হয়েছিল এবং তাতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বলে এ মামলার রায়ে উঠে আসে। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এই মামলার রায়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদ-। এছাড়া এ মামলার আসামি ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়েছে। আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে তখন জজ মিয়া নাটকের ব্যাপারটি উদ্ঘাটিত হলে আবার তদন্ত করা হয়। সুষ্ঠ তদন্তের পর যারা যারা এ মামলায় ষড়যন্ত্রে হত্যার কাজে এবং আলামত গুম করার জন্য দায়ী তাদেরকে বিচারে সোপর্দ করা হয়।’ পলাতক ১৮ আসামিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, এই মামলার রায়ে যারা দ-িত হয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করব। আমরা যেমন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি, তেমনভাবে এই মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত, হত্যাকারী, ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আদালত যাদের দ- দিয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা আমরা অবশ্যই করব। তিনি বলেন, আজকে আমরা মনে করি বিচার পেয়েছে দেশবাসী। কোনো মামলায়ই বিচার করেনি বিএনপি। এমনকি তারা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলারও বিচার করতে পারেনি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কোনোদিনই আইনের শাসন মানে না। আজকে আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছি, এখন সব মামলার বিচার হচ্ছে।##
পড়া হয়েছে 59 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 10 অক্টোবার 2018 18:54