10242019বৃহঃ
শিরোনাম:
শনিবার, 11 ফেব্রুয়ারী 2017 23:54

সার্চ কমিটি সফল হয়নি: আকবর আলি খান

নিউজ ফ্ল্যাশ প্রতিবেদক দশ বছরে কোনো সার্চ কমিটিই সফল হয়নি বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি বলেছেন, গত দশ বছরে একটা সার্চ কমিটিও এমন কোনো নাম দিতে পারেনি; যেখান থেকে কমিশনে সফল ব্যক্তিত্ব এসেছেন। যাদের আসা সম্ভব ছিল, তাদের নাম সার্চ কমিটি দিতে পারেনি। তাই সার্চ কমিটি এখনও সফল হয়নি। শনিবার 'ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ২০১৭'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) যৌথভাবে এফডিসিতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। আকবর আলি খান বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কী হবে না, তা রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সেই সিদ্ধান্ত দিতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণভোট গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণভোট হবে হরতালের বিকল্প। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও দেশে যে বিষয়ে বিতর্ক দেখা দেবে তাতে গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, এ দেশে গণভোট শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যে দেশে রাজনৈতিক দলগুলো বিবাদে লিপ্ত থাকে, একে অপরকে অভদ্র ভাষায় গালাগাল করে এবং কথায় কথায় শোধ নেওয়ার চেষ্টা করে; সেখানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়া কঠিন। অর্থনীতিবিদ আকবর আলি বলেন, আমরা কথায় কথায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের উদাহরণ দিই- কিন্তু সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রশাসনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলি না। যদি প্রশাসনে রাজনৈতিকীকরণ হয় তবে তার পক্ষে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে প্রশাসনের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনে এমন লোকদের নিয়োগ দেওয়া উচিত, যারা কোনো রাজনৈতিক দলের কিংবা তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্য ছিলেন না। অভিজ্ঞতা আছে; যাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই তাকে নিয়োগ দেওয়া উচিত। গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। ব্যক্তির প্রতি বিচার নয়, এটা নির্বাচন করার জন্য। আকবর আলি খান বলেন, খবরদারিমূলক প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য লোক সার্চ কমিটির মাধ্যমে নাও পাওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের অনেক কমিশন যেমন এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন যাদের সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি সফল না হওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটিকে ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তারা বিভিন্ন দল থেকে প্রার্থীর নাম নিয়ে তাদের পছন্দমতো নাম বাছাই করেছে। এত সহজে, বহু লোকের তালিকা দেখে দশ দিনে বাছাই করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পদ্ধতি অনসরণের পরামর্শ দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন কমিশনার সরকার থেকেই মনোনয়ন দেওয়া হয় তবে তাদের বিষয়ে পার্লামেন্টে জেরা হয়। আরও দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে- সুপ্রিম কোর্টের রায়ের এ বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ধরে নিই, রায় অনুসারে অনির্বাচিত লোকদের দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যাবে না। কিন্তু তারও বিকল্প আছে। ক্ষমতাসীন দল থেকে ৫ জন ও বিরোধী দল থেকে ৫ জন নিয়ে নির্বাচনকালীন নির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা যেতে পারে। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউসিবির চেয়ারম্যান এম. এ. সবুর। অনুষ্ঠানে ছায়া বিতকের্র বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল 'সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার নয়, বর্তমান সরকারই যথেষ্ট'। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা জয়ী হন। বছরব্যাপী এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সারাদেশের ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে।
পড়া হয়েছে 564 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শনিবার, 11 ফেব্রুয়ারী 2017 23:58