10242019বৃহঃ
শিরোনাম:
বৃহস্পতিবার, 16 মার্চ 2017 11:32

ভারতীয় সৈন্যদের পরিবারকে অর্থ না দেয়ার পরামর্শ

কূটনৈতিক রিপোর্টার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগী ভারতীয় সৈন্যদের সম্মানিত করার জন্য তাদের পরিবারকে আর্থিক সম্মাননা না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভারতে বাংলাদেশের বন্ধুরা সম্প্রতি এ পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অর্থ সহায়তা না দিয়ে তাদেরকে অন্যভাবে সম্মানিত করা যেতে পারে। অপরদিকে, ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা হলেও আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা সম্ভব নয়। কারণ, জাতিসংঘের অধীনে ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস আগেই ঘোষণা করা আছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসকে আগেই অনুমোদন করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, সচিব মো. শহিদুল হক এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমি সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়েছিলাম। সেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারী অনেক বন্ধুর সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। আমি তাদের বলেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী ভারতীয় সৈন্যদের সম্মাননা দেবেন। এ সময় আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা বলেছেন, যেসব সৈন্য আত্মত্যাগ করেছেন তাদের পরিবারে অনেক উত্তরাধিকার রয়েছেন। অনেক সৈন্যের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাই, বোন বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে আর্থিক সম্মাননা দেয়া হলে উত্তরাধিকারদের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ভারতীয় বন্ধুরা আমাকে বলেছেন, আর্থিক সহায়তার বদলে অন্যভাবে সম্মানিত করতে পারলে ভালো হয়। এ কথাটিই আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীকে বলেছি।’ আর্থিক সহায়তা ছাড়া সৈন্যদের পরিবারবর্গকে আর কীভাবে সম্মাননা জানানো যায় জানতে চাইলে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলেছি, ভারতীয় সৈন্যদের পরিবারবর্গকে সম্মানসূচক বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য। পাশাপাশি, আমরা যেসব বিদেশী বন্ধুকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দিয়েছি, তাদেরও বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দেয়া উচিত।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবেই সম্মাননা জানানো হবে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রায় ১৭০০ ভারতীয় সৈন্য আত্মত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকালে এসব সৈন্যের কয়েকটি পরিবারকে সম্মাননা জানানোর কথা রয়েছে। অবশিষ্ট আত্মত্যাগী সৈন্যদের পরিবারবর্গকেও পর্যায়ক্রমে সম্মাননা দেয়ার কথা রয়েছে। এসব সৈন্যের পরিবারবর্গকে আর্থিক সহায়তা ও সম্মানসূচক ক্রেস্ট দেয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ থেকে ১০ এপ্রিল দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি যাচ্ছেন। এ সফরকালে ভারতীয় সৈন্যদের কয়েকটি পরিবারকে সম্মাননা জানানোর কথা রয়েছে। গণহত্যা প্রসঙ্গ : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। ওই রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা অনেক শিশু, নারী, বৃদ্ধ, যুবককে ধরে নিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সে কারণে বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। এ দিবসটিকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা যায় কিনা সে বিষয়েও কোনো কোনো মহলে আলোচনা হচ্ছে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করা সম্ভব নয়। কারণ জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। আমাদের দাবি ছিল, ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করতে হবে। আর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালন করতে হবে। বাংলাদেশ আগেই ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে অনুমোদন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের দাবি করছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা সেই দাবি জানিয়েছি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তার একটা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকা প্রয়োজন।
পড়া হয়েছে 451 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 16 মার্চ 2017 11:43

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা