10242019বৃহঃ
শিরোনাম:
বুধবার, 15 ফেব্রুয়ারী 2017 08:43

জঙ্গিবাদে জড়ানো সন্তান হারানোর করুণ কাহিনি শোনালেন এক মা

ঢাবি. প্রতিবেদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সোসাইটি অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (সেভ)’ বিষয়ে গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। ইনোভেশন ফর ওয়েল বিং ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গোলটেবিল অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণদের চরমপন্থায় জড়ানো ও চরমপন্থা প্রতিরোধের বিষয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উগ্রবাদ নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন আ?ইএসে যোগ দেওয়া এক সন্তানের মা ও সোসাইটি অ্যাগেইনস্ট ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম (সেভ) এর প্রতিষ্ঠাতা সালিহা বেন আলী। সালিহা জানান, ২০১৩ সালের এক ভোরবেলায় তিনি ঘুম থেকে উঠে তার সাড়ে ১৮ বছরের ছেলে সাবরি বেন আলীর বিছানা শূন্য দেখেন। তিন মাস পর অপরিচিত একজন ফোনে আইএসের হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে তার সন্তানের নিহতের খবর দেন। প্রসঙ্গত, তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত সালিহা বেন আলী বেলজিয়ামের নাগরিক। সিরিয়ার গিয়ে সাবরির মৃত্যুর পর তিনি লজ্জায় লুকিয়ে থাকেননি। তিনি প্রথম ইউরোপীয় নারী, যিনি ছেলের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া নিয়ে মুখ খুলেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইনোভেশন ফর ওয়েল বিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মনিরা রহমান,বাংলাদেশ সাইকিয়েস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সেলিম সামাদ, নারী ঐক্যের সদস্য শিরিন হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রমুখ। মাহমুদুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের অভাবে সমাজে বিচারহীনতা দেখা যায়। সর্বত্র আজ বৈষম্য, বর্ণবাদ বিদ্যমান রয়েছে। এটা ক্রমশ আমাদের সমাজকে কঠিন পথে ঠেলে দিচ্ছে। এগুলো থেকে উত্তোরণের জন্য তিনি ম্যাক্রো ও মাইক্রো লেভেলে গবেষণা করার জন্য বলেন। একই সঙ্গে তিনি সমাজে ক্ষমতার সুষম বণ্টনের জন্য বলেন। অনুষ্ঠানে পলিসি মেকার, মানবাধিকার, অ্যাকাডেমিক গবেষক, গণমাধ্যম বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বাংলাদেশের পলিসি মেকাররা মনে করে শুধু দরিদ্র ঘরের সন্তানরাই সন্ত্রাসবাদে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদে জড়িতরা উচ্চবিত্ত ঘর থেকেও আসছে। আইডেনটিটি ক্রাইসিস সন্ত্রাসবাদে ঝুঁকে পড়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। চরমপন্থা প্রতিরোধের বিষয়ে বক্তারা পারিবারিক সচেতনতা, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির বিকাশসহ সমাজে গণতন্ত্র, সাম্য ও শক্তির সুষম বণ্টনের কথা বলেন। তারা বলেন, চরমপন্থা প্রতিরোধে পরিবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু মায়ের ওপর নির্ভর করলে আহম্মকি হবে। কারণ আমাদের সমাজে মায়েরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে না। উগ্রবাদ নিয়ে সালিহা বেন আলী বলেন, ?ভুল সময়ে ভুল মানুষের খপ্পরে পড়েছিল তার সন্তান সাবরি। সে আর দশটা কিশোর তরুণের মতোই স্বাভাবিক ছিল। নিয়মিত স্কুলে যেত। গান ভালোবাসত। খেলাধুলাও করত নিয়মিত। ছবি তুলতেও খুব ভালোবাসত। একসময়ে সে স্কুলে বিরতি নিয়ে কাজে যোগ দিতে চাইল। সবাই বলল, লেখাপড়া শেষ করে আসতে। সাবরির মাথায় ঢুকেছিল যে সারা বিশ্বের মুসলিমরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সরকার কী করছে, সাবরি ও তার পরিবারই বা কী করছে? তখন থেকেই সে ধর্ম নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ সময়ই সে ভুল মানুষের খপ্পরে পড়ে যায়।
পড়া হয়েছে 483 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 17 ফেব্রুয়ারী 2017 11:31

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা