09202019শুক্র
বৃহস্পতিবার, 02 এপ্রিল 2015 22:29

ইয়েমেনে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে

ডেস্ক

হুতিরা সানা দখল করে নেয়ার পর বিমান হামলা শুরু করেছে সৌদি আরব

ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে বিমান হামলা চলছে। তবে রাজধানী সানা আর বেশ কয়েকটি শহর এখনো রয়েছে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে।

বিদ্রোহীরা এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসও দখল করে নিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে। এই অবস্থায় ইয়েমেনে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী।

ইয়েমেনে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস নেই। একজন অনারারি কাউন্সিলর থাকলেও, যুদ্ধের পর থেকেই তার সাথে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইয়েমেনে থাকা বাংলাদেশীদের বিষয় দেখভাল করা হচ্ছে কুয়েতে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে।

কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোঃ. আসহাব উদ্দিন বলছেন, এখন পর্যন্ত তারা সানা ও এডেন মিলিয়ে প্রায় চারশো বাংলাদেশীর তালিকা করেছেন।

তিনি বলেন, ভারত বা চীনকে অনুরোধ করে, তাদের বিমান বা জাহাজে করে বাংলাদেশীদের সরিয়ে আনতে তারা কুটনৈতিকভাবে চেষ্টা করছেন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকেও জাহাজ বা বিমানে তাদের আনার চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দূতাবাসের একটি দল, ইয়েমেনের প্রতিবেশী দেশ জিবুতি যাবে। যেখান থেকে তারা পুরো বিষয়টি সমন্বয় করবে।
ইয়েমেনের অনেকগুলো শহর দখল করে নিয়েছে শিয়া হুতিরা

তবে এখনো বাংলাদেশীদের সরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি।

ইয়েমেনে এখনো কতজন বাংলাদেশী আটকে রয়েছেন, সেই সংখ্যা নিয়ে দুইরকম তথ্য পাওয়া গেছে।

কুয়েত দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি হবে না। তবে ইয়েমেনের প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানিয়েছেন, সেখানে বৈধ অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা দশ হাজারের বেশি হবে।

এর মধ্যেই কয়েকটি বিশেষ বিমানে ভারতীয়দের সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা পায়নি বাংলাদেশী নাগরিকরা।

রাজধানী সানার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বুধবার রাতে বিবিসিকে বলছিলেন, প্রতিদিন রাতেই গোলাবর্ষণ ঘটছে। গ্যাসের সংযোগ নেই। সব দোকানপাট, অফিস বন্ধ হয়ে গেছে।

"আমাদের সংগ্রহে যে সামান্য শুকনো খাবার রয়েছে, সেগুলো দিয়েই কোন মতে দিন পার করছি," তিনি বলেন।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কোন টেলিফোন নাম্বারেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার ইডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসও দখল করেছে বিদ্রোহী বাহিনী

সানা ও অন্য শহরগুলোতে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

আইওএম জানিয়েছে, ইয়েমেনে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো যে কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আটকে পড়েছে, তাদের কোন পদ্ধতিতে সেখান থেকে বের করে আনা যায়, এখন তারা সেটি নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন।

সংস্থাটির বাংলাদেশ অফিসের মুখপাত্র অনিন্দ্য দত্ত বলছেন, তারা বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তার অনুরোধ পেয়েছেন।

আইওএমের একাধিক অফিস বিষয়টি সমন্বয় করছে। আটকে পড়া নাগরিকদের কোন পদ্ধতিতে বের করে আনা যায়, সেটি তারা বিবেচনা করছেন।

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা বলছেন, ইয়েমেনে বাংলাদেশীদের সম্পর্কে খোজ নিতে তারা প্রবাসীদের নিয়ে একটি সেল তৈরির চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু দুদিন ধরে তাদের সাথেও টেলিফোন যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।

তবে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়েমেনের নতুন দফার সংঘর্ষ প্রায় একসপ্তাহ ধরে চললেও, কোন বাংলাদেশীর হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পড়া হয়েছে 517 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 02 এপ্রিল 2015 22:37