11212019বৃহঃ
বৃহস্পতিবার, 27 নভেম্বর 2014 08:40

‘মতপার্থক্য সরিয়ে সমৃদ্ধি আনতে কাজ করুন’

ডেস্ক
 
মতপার্থক্য এক পাশে রেখে এতদাঞ্চলের জনগণের প্রকৃত সমৃদ্ধি আনতে সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য সার্ক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার নেপালের কাঠমান্ডু সিটি হলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। খবর: বাসসের।

শেখ হাসিনা বলেন, সার্ক প্রকৃতপক্ষেই সার্বিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও উচ্চাশা অর্জন করতে পারে। এজন্য আমাদের মতপার্থক্য একপাশে রেখে জনগণের প্রকৃত সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি আনয়নে সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে।
আরো বাস্তবসম্মত, ফলাফলমুখী এবং সম্মিলিত সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পারস্পরিক কল্যাণমূলক অংশীদারিত্বের পদক্ষেপ গ্রহণে সার্ক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসুন, আরো শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া গঠনে অবদান রাখার অঙ্গীকার করি।
তিনি বলেন, দ্রুত উন্নয়নে সার্ক দেশগুলোকে তাদের সার্বিক প্রচেষ্টা, উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রয়োগ সবপর্যায়ে জোরদার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য ও জলবায়ূ পরিবর্তন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরো গভীরতর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সার্কের কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনয়নে আমাদের মধ্যে আরো খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র সার্ক অঞ্চলের অভিন্ন ও প্রধান শত্রু এটি এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নকে ব্যাহত করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধানের আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনগণের পুষ্টির নিরাপত্তা অর্জন এবং দারিদ্র বিমোচনে প্রধান খাদ্যশস্য, অভ্যন্তরীণ মৎস্য ও পশুসম্পদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি খাতে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য সার্ক ফ্রেম ওয়ার্কের আওতায় ফুড ব্যাংক ও সিড ব্যাংক পরিচালনা খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্ক অঞ্চলে রয়েছে বিপুলসংখ্যক তরুণ জনসংখ্যা। মানসম্পন্ন শিক্ষা ও কার্যকর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিকভাবে মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
নারী ও পুরুষ সবার কাছে মানসম্পন্ন কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য হতে হবে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি।
বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, পুরুষের সঙ্গে জীবনের সর্বস্তরে তাদের সমান অংশগ্রহণ টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

শেখ হাসিনা বলেন, অভিযোজন ও প্রশমনে তাঁর সরকার এ পর্যন্ত নিজস্ব সম্পদ থেকে ৩৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে। সার্ক পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তঃসীমান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক চুক্তি ও পরিকল্পনার নিরাপদ ও ফলাফলমুখী বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
জ্বালানি খাতে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে এ খাতের উন্নয়নে আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ গ্রহণের।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জনগণের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য জ্বালানির সর্বোচ্চ সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে তিনি জ্বালানি সহযোগিতা সংক্রান্ত সার্ক ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের অগ্রগতিকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক শান্তি, অগগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে যোগাযোগ বিস্তারে আগ্রহী। আমরা চিন্ত-ভাবনা, জ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, জনগণ, সড়ক-রেল-বিমান, পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ ও চলাচলে যোগাযোগ বিস্তারে বিশ্বাসী।

তিনি বলেন, সার্ক দেশগুলোর আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের ওপর আলোকপাত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া সাপটা’র দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি।
শেখ হাসিনা সার্ক ফোরামের পর্যবেক্ষকদের অবদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিগত বছরগুলোতে তারা জ্ঞানভিত্তিক সমর্থন দিয়েছে। বাংলাদেশ তাদের অবদানকে মূল্য দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সার্ক ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় প্রতিষ্ঠিত সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় সমর্থন দেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পণ্য, জ্ঞান ও ধারণার বাহক। এগুলোর উন্নয়নে আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিতে হবে।
 
 

পড়া হয়েছে 716 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 27 নভেম্বর 2014 09:03

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা