11212019বৃহঃ
মঙ্গলবার, 25 নভেম্বর 2014 23:41

১৮তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু বুধবার : যোগ দিচ্ছেন ৮ দেশের নেতা

ডেস্ক :
 
‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সার্ককে আরো গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপের মধ্য দিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রীয় সভা গৃহে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সার্কভুক্ত আটটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে এ সম্মেলন বসছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ এ অঞ্চলের সব শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দেবেন। সম্মেলনের সমাপনী দিন বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সার্কভুক্ত আটটি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কাঠমান্ডু ঘোষণা চূড়ান্ত হয়। বুধবার সম্মেলনের মূল পর্ব শুরু হবে কাঠমান্ডুর ভ্রীকুটি মন্ডপে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় সভাগৃহের নগর মিলনায়তনে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানেই চলবে শীর্ষ সম্মেলন।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় শীর্ষ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও সার্কের বিদায়ী চেয়ারপারসন আবদুল্লালহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম। এ সময় তার সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাও বাদ্যের তালে-তালে প্রদীপ প্রজ্বালন করবেন। এর আগে আটটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা মূল সম্মেলন মঞ্চে নিজ আসন গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিন তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুম, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজা পাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং স্বাগতিক নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা।
সার্ক সম্মেলন ঘিরে ‘হিমালয় কন্যা’ নামে খ্যাত কাঠমান্ডু নগরী বর্ণাঢ্য সাজে সেজেছে। নগরীতে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা-বলয়। ২৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে। রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে দিন-রাত নিরাপত্তা টহল চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কাঠমান্ডুতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা ছাড়াও ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে পারে— এমন সব অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে তিন দিনের জন্য। এ ছাড়া, সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চার দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বোপরি, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনস্থল রাষ্ট্রীয় সভাগৃহ ঘিরে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লালগালিচা সংবর্ধনা :

সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিজি ০৭১ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। কাঠমান্ডু ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান নেপালের উপপ্রধানমন্ত্রী বামদেব গৌতম। এ সময় নেপালের চিফ অব প্রটোকল কালী প্রসাদ পোখরেল এবং নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস উপস্থিত ছিলেন।  
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় নেপালের সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উভয় দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিমানবন্দরের এই উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল ক্রাউন প্লাজা সোয়েলটি- কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়। চার দিনের নেপাল সফরকালে অন্য ছয় দেশের (স্বাগতিক দেশ হওয়ায় নেপাল বাদে) রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের পাশাপাশি শেখ হাসিনাও এখানেই অবস্থান করবেন। আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

বুধবার সার্ক সম্মেলনের মূল পর্বের উদ্বোধনী অধিবেশনে সার্কের অন্য সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন এবং ভাষণ দেবেন। একই দিন শেখ হাসিনার নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ড. আশরাফ ঘানি ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লঅ­াহ ইয়ামিন আবদুল গাইয়ুমের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। এ ছাড়া, অন্যান্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে হোটেল ক্রাউন প্লাজা সোয়েলটিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন তিনি।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অবকাশের জন্য হেলিকপ্টার যোগে কাঠমান্ডু থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নেপালের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ধুলিখেলের ‘দাওয়ারিকা রিসোর্ট’-এ যাবেন। এ দিন দুপুরে সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে। সেখান থেকে ফিরে শীর্ষ নেতারা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অন্য রাষ্ট্র ও সরকাপ্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবনে নেপালের রাষ্ট্রপতি ড. রামবরণ যাদবের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। তারা নেপালের রাষ্ট্রপতির দেয়া ভোজসভায়ও যোগ দেবেন। একই হোটেলে থাকাকালে শেখ হাসিনার অন্য দেশগুলোর প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে।
এ দিকে, শেখ হাসিনাসহ সব সার্ক নেতাকে স্বাগত জানাতে কাঠমান্ডুর রাস্তায়-রাস্তায় উত্সবমুখর পরিবেশের সূচনা হয়। দেশটির জাতীয় পোশাকে সজ্জিত নারী-পুরুষরা নাচ-গানের মধ্য দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন। এর মাধ্যমে তারা নেপালের ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তোলেন।

কাঠমান্ডুর হোটেল সলটিতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্কভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৩৬তম বৈঠক সকাল থেকে দিনব্যাপী এ বৈঠকে সার্ক বিদ্যুত্ সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য সার্ক আঞ্চলিক রেল সহযোগিতা চুক্তি, সার্ক পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযান চালু করার বিষয়ে চুক্তিসহ সার্ক ডেভেলপমেন্ট গোল-২০১৫ সালের প্রতিবেদন, কার্যতালিকা তৈরি এবং কাঠমান্ডু ঘোষণাসহ আঞ্চলিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী। তার সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

পড়া হয়েছে 777 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বুধবার, 26 নভেম্বর 2014 00:08

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা