09172019মঙ্গল
রবিবার, 18 জুন 2017 08:04

জেনেভায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা : জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির বিষয়ে বৈশ্বিক আইনগত স্বীকৃতি এবং দায়িত্ব বণ্টনের প্রতিফলন থাকতে হবে

শনিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কোস্ট ট্রাস্ট (বাংলাদেশের একটি বেসরকারি সংস্থা), এনআরসি এবং শরণার্থী সংক্রান্ত জাতিসংঘ হাইকমিশন (ইউএনএইচআরসি) যৌথভাবে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ অভিমত প্রকাশ করেন যে, শরণার্থী এবং স্থানত্যাগ সংক্রান্ত জাতিসংঘের দুটি গ্লোবাল কমপ্যাক্টে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে বৈশ্বিক আইনগত স্বীকৃতি এবং দায়িত্ব বণ্টনের প্রতিফলন থাকতে হবে। ইউএনএইচসিআর’র চলমান বার্র্ষিক সংলাপ উপলক্ষে আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন: গ্লোবাল কমপ্যাক্টে চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা” শর্ষিক এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় জেনেভা ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে। প্লাটফরম ফর ডিজাস্টার ডিসপ্লেসম্যান্ট (পিডিডি)-এর এটলে সোলবার্গ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। পিডিডি একটি আন্তরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বর্তমানে র্জামানী এর সভাপতি। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরী, এনআরসি’র নেইল টারনার, অক্সফাম ইউএসএ’র সারনাটা রেনল্ডস এবং ইউএনএইচসিআর’র মেরিন ফ্রাংক। রেজাউল করিম চৌধুরী তাঁর উপস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও এর প্রভাবে বাংলাদেশ কিভাবে তার এক তৃতীয়াংশ ভূমি হারাবে এবং কিভাবে এটি দেশের অসহনীয় ঘনবসতির সংকটকে আরও প্রকট করে তুলবে, কিভাবে তা দেশটির অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে সংকট তৈরি করবে সে বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করছে, কিন্তু এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুবই অপ্রতুল। তিনি এই বিষয়ে আর্ন্তজাতিক আইনী কাঠামো দাবি করেন এবং আসন্ন গ্লোবাল কমপ্যাক্টে এর প্রতিফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এনআরসি’র নেইল টারনার আফ্রিকা অঞ্চলে এল নিনো এবং লা নিনোর প্রভাব, বিশেষ করে সোমালিয়ায় এর প্রভাব এবং এর ফলে সৃষ্ট বাস্তুচ্যুতির প্রকটতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি ৩ থেকে ৮ বছরের ব্যবধানে লা নিনো এক দিকে খরার সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে এল নিনো সৃষ্টি করছে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির। গ্লোবাল কমপ্যাক্টের বিষয়ে তিনি টেকসই সমাধান, জনদাবির প্রতি সম্মান এবং দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানান। ইউএনএইচসিআর’র বার্র্ষিক সংলাপের উদ্বোধনী সেশনে দুটি গ্লোবাল কমপ্যাক্টে, বিশেষ করে কমপ্রিহেনসিভ রিফিউজি রেসপন্স ফ্রেমওয়ার্ক (সিআরআরএফ)-এ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির বিষয়টি গুরত্ব পাবে বলে উল্লেখ করায় সংস্থাটির সহকারী হাই কমিশনার ভোলকার টারকের ভূয়সী প্রশংসা করেন অক্সফাম ইউএসএ’র সার্নাটা রেনল্ডস। সিআরআরএফ ইউএনএইচসিআর’র একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারী ও শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তিনি সে বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এর ফলে এসব দেশে সামাজিক পুঁজির সংকট তৈরি হচ্ছে। মেরিন ফ্রাংক সিআরআরএফ-এ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির বিষয়ে ইউএনএইচসিআর’র প্রতিশ্রুতির পুনরুল্লেখ করেন। এটলে সোলবার্গ ছয়টি বিষয়ের কথা তুলে ধরেন, সেগুলো হলো: সমন্বিত নীতি, দুটো কমপ্যাক্টেই জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির বিষয়টির প্রতিফলন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বিপদাপন্নতা, অনুমান এবং দুরদৃষ্টি সম্পন্ন পূর্ব প্রস্তুতি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব এবং বোঝার বণ্টন এবং এই বিষয়ে বৈশ্বিক সহানুভূতি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।
পড়া হয়েছে 402 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: রবিবার, 18 জুন 2017 08:13

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা