12092019সোম
শুক্রবার, 25 এপ্রিল 2014 09:29

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে : গিলবার্ট হংবো

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজফ্ল্যাশ টোয়েন্টিফোর বিডি ডটকম

 

রানা প্লাজা ধসের ঘটনা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করছেন বিদেশি কূটনীতিকরা। 

বৃহস্পতিবার এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মত বিনিমিয় অনুষ্ঠানে তারা বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানাগুলোতে কর্ম পরিবেশ উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। শ্রমিক অধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট হয়েছে। কারখানার অবকাঠামোগত সুরক্ষা ও অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ ও সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে সব কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। তবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। 

 

রাজধানীর একটি হোটেলে 'রানা প্লাজা ধসের এক বছর: উন্নতি এবং অগ্রগতি' শীর্ষক এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গিলবার্ট হংবো, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের হেড অব ডেলিগেশন উইলিয়াম হানা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, আইএলও'র কান্ট্রি ডিরেক্টর শ্রীনিবাস বি রেড্ডি, কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন, নেদারল্যান্ডের বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং,  শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট আতিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

 

গিলবার্ট হংবো বলেন, রানা প্লাজার ঘটনার পর আইএলও'র সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের কারখানাগুলোর নিরাপত্তামূলক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে পর্যবেক্ষণের প্রতিবেদন হতে হবে বিশ্বাসযোগ্য, সঠিক ও স্বচ্ছ। কারণ প্রতিবেদনে যদি কোনো ত্রুটি হয় তবে মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে।

 

ড্যান মজীনা বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনের মতো দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে এটাই হওয়া উচিত সরকারের প্রতিজ্ঞা। এজন্য কারখানাগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা, কাঠামোগত সুরক্ষা এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো জিএসপি ফিরে পেতেও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। রানা প্লাজার ঘটনায় দাতাগোষ্ঠী ও উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে হলে সব পোশাক কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো সহায়তা দিতে আগ্রহী।

 

হিদার ক্রুডেন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর ক্রেতারা এ খাতে শ্রমিকদের সুরক্ষায় কারখানাগুলোতে সংস্কার দেখতে চায়। রবার্ট গিবসন বলেন, রানা প্লাজার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী অনেক আলোচনা হচ্ছে। তবে যারা আলোচনা করছেন তারা কেউই বাংলাদেশের খারাপ চান না। 

 

গার্বেন ডি জং বলেন, এখনও কিছু কিছু কারখানায় নিম্ন মজুরি, যৌন হয়রানি এবং শ্রমিকদেরকে মারধরের ঘটনা ঘটছে। 

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেন, রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন ফ্যাশনের মতো ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য আইএলও এবং উন্নত দেশগুলোর সহায়তা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে এবং কারখানার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ বছরেই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সমাধানমূলক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

পড়া হয়েছে 1070 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 25 এপ্রিল 2014 09:42