11192018সোম
বৃহস্পতিবার, 08 জুন 2017 08:29

এই প্রাকৃতিক মিনারের চূড়ায় বাস করেন একজন, সঙ্গে ২০০০ বছরের ইতিহাস

পুরনো চার্চের অবশেষ ছাড়াও এই মিনারের চূড়োয় তিনটি কুঠুরি রয়েছে, যেখানে প্রাচীন কালের সন্ন্যাসীরা থাকতেন। কাতাস‌্‌খি পিলার। ছবি: ইউটিউব পুরনো চার্চের অবশেষ ছাড়াও এই মিনারের চূড়োয় তিনটি কুঠুরি রয়েছে, যেখানে প্রাচীন কালের সন্ন্যাসীরা থাকতেন। কাতাস‌্‌খি পিলার। ছবি: ইউটিউব
বেশি দিনের কথা নয়, ১৯৯০ সালেই এই নিঃসঙ্গ প্রাকৃতিক মিনারের চূড়ায় নির্মিত হয়েছে একটি মনাস্টারি। এখানে বাস করেন মাক্সিম কাভতারাদজে নামক এক সন্ন্যাসী। একা। ১৯৯০ সালে এখানে মঠ নির্মিত হলেও জর্জিয়ার ইমেরেতি অঞ্চলের কাতাস্‌খি পিলারেরে ইতিহাস কিন্তু ২০০০ বছরের প্রাচীন। ৪০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি এই মিনারটি একদা এই অঞ্চলের পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বী সন্ন্যাসীরা ব্যবহার করতেন ধ্যান-অভ্যাসের জন্য। সেই সময়ে এই মনোলিথকে উর্বরাশক্তির দেবতার প্রতিভূ মনে করা হতো। ওই অঞ্চলে খ্রিস্টধর্ম বিস্তৃত হলে ৬-৮ খ্রিস্টাব্দে একটি চার্চ নির্মিত হয় মিনার শীর্ষে। আজ সেখানে সামান্য ধ্বংসাবশেষ ছাড়া তার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। বিংশ শতকে বিশেষজ্ঞরা এই মিনারকে পর্যবেক্ষণ করেন। ১৯৪৪ সালে কাতাস্‌খি পিলার প্রথম জরিপ করা হয়। দেখা যায়, পুরনো চার্চের অবশেষ ছাড়াও এই মিনারের চূড়োয় তিনটি কুঠুরি রয়েছে, যেখানে প্রাচীন কালের সন্ন্যাসীরা থাকতেন। এখানেই একটি শিলালেখর সন্ধান পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা, যাতে ‘গিয়র্গি’ নামের এক ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়। অনুমান করা হয়, এই গিয়র্গিই ছিলেন এই সন্ন্যাসী-আবাসের রক্ষী। আজ এই পিলারে বাস করেন মাক্সিম। তিনি তাঁর সন্ন্যাস-শপথ গ্রহণের পরেই এখানে চলে আসেন। এখানেই এক ছোট কুঁড়ে বানিয়ে তাতে তিনি বাস করতে শুরু করেন। মাক্সিমের ধারণায়, মিনার শীর্যের এই নির্জনবাস তাঁকে ঈশ্বরের কাছাকাছি রেখেছে। কেবল রসদ আনতে তিনি নীচে নামেন। সপ্তাহে দু’বার তাঁকে নীচে নামতে হয়। নীচে নামার জন্য একটা লোহার সিঁড়ি রয়েছে। মাক্সিম তাঁর নির্জনবাসের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের মানসিক সমস্যার সমাধানে সাহায্যও করেন।
পড়া হয়েছে 252 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, 08 জুন 2017 09:29