01282020মঙ্গল
শিরোনাম:
শুক্রবার, 09 ডিসেম্বর 2016 08:27

শীতের পাখি হাতিরঝিলে

< > নিউজ ফ্ল্যাশ ডেস্ক হাতিরঝিলে শীতের পাখি। বিষয়টি সবাইকে চমকে দিয়েছে। হাতিরঝিলের পাশ ঘেঁষে হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ পাখির কিচিরমিচির শব্দে অবাক। তখন ভোর সাড়ে ৫টা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা হাতিরঝিলের আকাশে উড়ছিল এক ঝাঁক পাখি। নিজস্ব ভাষায় শব্দ করে উড়ছিল। এমন দৃশ্য শুধু সোহরাব শান্তই নন, হাতিরঝিলে প্রাতঃভ্রমণে আসা অন্যরাও দেখলেন। কান খাড়া করে ওপরে তাকাচ্ছিলেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা। চমকে গিয়ে অনেকেরই স্বাভাবিক হাঁটা-দৌড়ানোর ছন্দ ব্যাহত হয়। হাতিরঝিলের রামপুরা অংশের জলধারায় উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে নামছিল ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। সকাল ৬টার দিকে হাতিরঝিলে হাঁটতে বের হন পরিবেশকর্মী ইবনুল সাঈদ রানা। তখন কুয়াশা কিছু কেটে গেছে। স্পষ্ট হচ্ছে পাখিগুলোর আকৃতি ও রঙ। তিনিও দেখলেন এক ঝাঁক পাখি। তিনি বলেন, হাঁসজাতীয় পাখিগুলোর গায়ের রঙ বাদামি। সময় যত যাচ্ছে কুয়াশাও কাটছে। এক পর্যায়ে পাখিগুলো একটি টেলিভিশন ভবনের উল্টো পাশে ঝিলের পানিতে নামে। ততক্ষণে কৌতূহলী মানুষের সংখ্যাও বেড়ে গেছে। হাতিরঝিলের দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর পাড় ধরে হেঁটে চলা প্রাতঃভ্রমণকারীরা দাঁড়িয়ে পাখি দেখছিলেন। কেউ কেউ সঙ্গে আনা শিশুদের পাখি দেখাতে ব্যস্ত হলেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উৎসুক মানুষকে হাতিরঝিলের পাড়ে দাঁড়িয়ে অতিথি পাখি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। বিকেল বেলা পাখিগুলোকে আর দেখা যায়নি। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরেও এমন দৃশ্য দেখেছেন হাঁটতে বের হওয়া মানুষ। এইদিন হাতিরঝিল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঝিলের পানিতে নেমে খাবারের সন্ধান করছে পাখি। এ সময় অনেকে আশঙ্কাও করেন, 'পাখিগুলো এখানে বসবে তো? হাতিরঝিলে তো মাছ নেই। ওরা খাবে কী?' হাতিরঝিল খুলে দেওয়ার পর থেকে এমন দৃশ্য কখনও চোখে পড়েনি নিয়মিত হাঁটতে বের হওয়া ষাটোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আতাউর রহমানের। তিনি বলেন, কখনও এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। খুব ভালো লাগছে। তবে খাবারের অভাব হলে পাখিগুলো হয়তো চলে যাবে। হাতিরঝিলের দক্ষিণ পাড়ঘেঁষা উলন এলাকার বাসিন্দা ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার আমিন রুহুল। তিনি ভোর থেকেই অতিথি পাখিগুলোর ছবি তুলছিলেন। জানালেন, হাতিরঝিলে উপযুক্ত পরিবেশ পেলে হয়তো নিয়মিতই অতিথি পাখি আসবে। স্থানীয় বাসিন্দা নাসিমা আক্তার, আসলাম হোসেন, মোবারক হোসেন বলেন, 'শুনেছি এখানে ওয়াটারবোট চালু হচ্ছে। তখন তো পাখিগুলো ভয়েই হাতিরঝিলে আসবে না।' রামপুরার বাসিন্দা গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার নূপুর বলেন, ভোরে এক ফেসবুক বন্ধুর পোস্ট দেখে তিনি আগ্রহ নিয়ে পাখি দেখতে বেরিয়েছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম বলেন, 'এগুলো আমাদের দেশীয় সরালি হাঁস। বর্ষা মৌসুমে এরা উপকূলীয় এলাকায় থাকে। শীত বাড়তে থাকলে অপেক্ষাকৃত কম ঠাণ্ডা জায়গায় আশ্রয় নেয়। তারা দিনে বিচরণ করে আর রাতে জলাশয়ে থাকে। ছোট পোকা-মাকড় ও মাছ খেয়ে এরা বেঁচে থাকে।' তিনি বলেন, 'হাতিরঝিলে পাখির আগমন বিরাট সুখবর। এসব পাখিকে বার বার আসতে দিতে হবে। একবার যদি হাতিরঝিলকে তারা নিরাপদ মনে করে তাহলেই বার বার আসবে। পাখির সংখ্যাও বাড়বে। শীতের সময় হাতিরঝিল হবে পাখির অভয়ারণ্য।' পাখির নিরাপত্তায় প্রাণিবিদ্যার এই অধ্যাপক কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, 'হাতিরঝিলের চারপাশে পাখি সুরক্ষায় কিছু বিলবোর্ড লাগিয়ে দিতে হবে, নিরাপত্তা কর্মী ও দর্শনার্থীদের পাখির প্রতি যত্নবান হতে হবে এবং পাখির খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।' পাখিবিশারদ শরীফ খান বলেন, 'হাতিরঝিলে আসা পাখিগুলো ছোট সরালি হাঁস। এগুলো আমাদের দেশের হাঁস। তারা আমাদের দেশের বিভিন্ন বড় বিল-হাওরে বর্ষাকালে ঘুরে বেড়ায়। শীতকালে পানি শুকিয়ে গেলে বা খাবারের অভাব দেখা দিলে জায়গা বদল করে। মূলত খাদ্যের সন্ধানে এরা দলবেঁধে ছুটে বেড়ায়। হাতিরঝিল পাখির খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে জানি। তবে হাতিরঝিলে যেহেতু সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে সেহেতু এখানে পাখিগুলো অনেকটা নিরাপদে থাকবে। তবে খাবার না পেলে যে কোনো সময় পাখিগুলো চলেও যেতে পারে। তাই ময়লা পানি পরিশোধন করতে পারলে ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বসবাস উপযোগী হবে। এসব খেতে পেলে পাখিরা বারবার আসবে।'
পড়া হয়েছে 607 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 09 ডিসেম্বর 2016 08:39

এ বিভাগের সর্বশেষ সংবাদ

ফেসবুক-এ আমরা