09202019শুক্র
সোমবার, 13 জুলাই 2015 09:18

পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, কারো কাছে হাত পাততেও চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে কারো কাছে মাথা নত না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে। আর এই আস্থা নিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবো। রোববার ঢাকায় খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৫ এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সরকার চালাই দেশের স্বার্থে। ইতিমধ্যে তা আমরা প্রমাণ করেছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। সবার মনে রাখতে হবে আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেই, ভিক্ষা নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের জাতি হয়েছি। আমাদের মাটি সোনার মাটি। সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে এটি করতে হবে। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও তিনটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো। বনায়নে তার সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছরে দেশের বনভূমির পরিমাণ ৯ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা আছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা লেকের দুরবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় এখানে ভোলা গ্রাম ছিলো। সেখানে এখন যারা বসবাস করেন তারা বড়লোক। অনেকে বড় হাসপাতাল করেছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোন ব্যবস্থা নেননি। আবার অনেকে লেক ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থে লেকগুলো বাঁচাতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার এ বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘জগত্ মাতার’ সুরক্ষায় আমরা সবাই যত্নবান হলে সবুজ প্রবৃদ্ধি বিকাশের মাধ্যমে দেশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ পৃথিবীকে যতটুকু যত্নে লালন করব, পৃথিবী ঠিক ততটুকু সম্ভাবনা ধারণ করবে আমাদের জন্য। কাজেই প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং সংরক্ষণ আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার মতো কঠিন কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি দেশের সব নাগরিককে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন ও পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগী হতে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেককে অন্তত ১টি বনজ, ১টি ফলদ ও ১টি ভেষজ বৃক্ষের চারা রোপণের আহ্বান জানান। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মণ্ডল বক্তৃতা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন :আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আছে। আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। কিন্তু এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে ধরনের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হবার প্রয়োজন ছিলো তা এখনো হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো নানা মতবিরোধ, মতপার্থক্য এবং টানাপোড়েন রয়ে গেছে। তবে এ মতবিরোধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে দাতারা ট্রিলিয়ন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু তারা বিলিয়ন ডলারও দেয়নি। তেমনিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাতারা বিপুল পরিমাণ সাহায্যের অঙ্গীকার করেছিলো। কিন্তু সে পরিমাণ অর্থ তারা দেয়নি। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক হবে না যা রাখা যায় না। পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ফোরামে সভা-সেমিনারে পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকার জন্য আইনজীবী মনজিল মোরশেদ এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মুকিত মজুমদারকে (বাবু) পরিবেশ পদক-২০১৫ প্রদান করেন। তিনি ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থা, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন ধরনের এনজিও’র বৃক্ষরোপণের জন্য বঙ্গবন্ধু বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পদক-২০১৫ এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পদক-২০১৪ প্রদান করেন। এ বছর বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম মনিরুল হাসান ও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), নওগাঁ ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা নিশান-এর পরিচালক মহিদুল রহমান এবং রাজশাহীর পুটিয়ার এম আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধু বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পদক লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক বনায়নে নওগাঁ ও গাজীপুরের দুজনকে মুনাফার চেক প্রদান করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন চত্বরে একটি হৈমন্তীর চারা রোপণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে বৃক্ষমেলা-২০১৫ ও পরিবেশ মেলা উদ্বোধন করেন। উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার দেশের পরিবেশ ও বন উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবেশ দূষণরোধে সরকার এ সংক্রান্ত আইন এবং বিধি-বিধান যুগোপযোগী করেছে। এনফোর্সমেন্টের আওতা বাড়িয়ে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাইসুল আলম মণ্ডল বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পরিবেশ ছাড়পত্রের বিষয়টি অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইউনুস আলী বলেন, চলতি বছরে সারাদেশে মোট চার কোটি গাছ লাগানো হবে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দেশের জনগণও বনায়নে উত্সাহী হয়েছে। বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন নৌবাহিনী প্রধানের ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৫’ সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও কাপ্তাইসহ দেশের সকল নৌ ঘাঁটি, উপকূলীয় স্থাপনা এবং এলাকাসমূহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব বনানীর নৌ সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌ সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঢাকা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নাবিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
পড়া হয়েছে 503 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 13 জুলাই 2015 09:25