10192019শনি
মঙ্গলবার, 16 সেপ্টেম্বর 2014 23:25

হজ ফ্লাইটের টিকিট নিয়ে এবারো অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
হজ ফ্লাইটের টিকিট নিয়ে এবারো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একটি সিন্ডিকেট এই অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললেও অজ্ঞাত কারণে তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে। হজ এজেন্সিগুলোর মধ্যে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় হজযাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আল্লাহর ঘরের মেহমান হিসাবে তারা অভিযোগ করতেও অনেক ক্ষেত্রে রাজি হন না। কিন্তু দুর্ভোগ থেকে রেহাই মিলছে না তাদের। হজযাত্রীদের পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকা ফ্লাইটের টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চলতি বছর ৯৮ হাজার ৭৬২ জন হজযাত্রী হজে যাবেন। এর অর্ধেক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলইন্সের হজ্ব ফ্লাইটে এবং বাকি হজ যাত্রীরা সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সে যাবেন। অন্যান্য বছর একাধিক এয়ারলাইন্স হজযাত্রী বহন করলেও এবার শুধু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স হজযাত্রী পরিবহনের দায়িত্ব পেয়েছে। হজ শুরু হওয়ার আগের ১০ দিন টিকিটের চাহিদা থাকে বেশি। সাধারণত উচ্চবিত্ত ও ব্যবসায়ীরা শর্ট প্যাকেজ নিয়ে শেষ দিকে হজ পালন করতে জেদ্দা যান। এ কারণে ওই সময় টিকিট সংগ্রহের জন্য হিড়িক পড়ে। আর এ বিশেষ চাহিদাকে পুঁজি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়াবিয়ান এয়ারলাইন্স এবারের শর্ট প্যাকেজের টিকিট বিক্রি করছে বেশি দামে। অনেক ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
জানা গেছে, হজ ফ্লাইটের টিকিট নিয়ে এবারের অনিয়ম যেন অনেকটা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। মূলত একটি সিন্ডিকেটের ওপর ভর করেছে হজ ফ্লাইটের টিকিট। ১০ থেকে ১৫টি হজ ও ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগসাজশ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সিন্ডিকেট অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। বিমানের এ সিন্ডিকেটের মূল হোতা এর আগে লন্ডনস্থ বিমান অফিসে ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে মতিঝিল সেল্স অফিসের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেদ্দায় এক্সেস ব্যাগেজ কেলেংকারির সাথে জড়িত বিমানের অপর এক কর্মকর্তাও মতিঝিল অফিসে এবার হজ টিকিট বিক্রির দায়িত্ব পেয়েছেন। এবারের হজ ফ্লাইটের টিকিট নিয়েও তারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন।
এ দিকে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের টিকিট নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের অয়িমের অভিযোগ। অন্যান্য বছরের মতো এবারো প্রথমে চিহ্নিত ৫টি ট্রাভেল এজেন্সির অনুকূলে বরাদ্দ দিয়ে দেয় ঢাকাস্থ সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। সে ক্ষেত্রে ওমরাহসহ সারা বছর টিকিট বিক্রেতাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। যারা বিক্রির দিক থেকে এগিয়ে তাদেরকে বেশি টিকিট দেয়ার কথা বলা হয়। মূলত ওমরাহর টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে যারা অনিয়ম করেছিল সে সব চিহ্নিত এজেন্সিগুলোকে শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়। গত ওমরাহ মৌসুমে এ নিয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। হজের সময় সেই কয়েকটি এজেন্সিই অধিকাংশ টিকিট পেয়েছে। এর মধ্যে ৫টি এজেন্সিকে সিংহভাগ টিকিট দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সৌদি এয়ারলাইন্স বরাদ্দকৃত টিকিটের জন্য প্রথমে টিকিট মূল্যের ৩০ শতাংশ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করেছিল। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি এয়ারের হজ ফ্লাইট শুরুর পর  টিকিটের পুরো টাকাই অগ্রিম জমা দেয়ার শর্ত আরোপ করে। ফলে যারা ১০০ থেকে ১০০০টির মতো টিকিট পেয়েছিলেন তাদের অনেকে টিকিট ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এবার ভিসা ইস্যুসহ হজ ব্যবস্থাপনার কিছু জটিলতার কারণে হজ এজেন্সিগুলো টিকিট বরাদ্দ দিলেও আগেই সমুদয় টাকা পরিশোধ করে টিকিট পুরোপুরি কনফার্ম করতে পারছেন না। শুরু থেকেই বুকিং পরিবর্তন করে এক এজেন্সির নামে বরাদ্দকৃত টিকিট অন্য এজেন্সির, যাদের ভিসা হচ্ছে তাদের দিয়ে ব্যালেন্স করে আসছেন। এই অবস্থায় পুরো মূল্য আগেই সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করা বাধ্যবাধকমূলক করা হয়। টিকিট বিক্রির অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে তা সারেন্ডার করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর যারা কম চাহিদার সময়ের টিকিট পেয়েছেন তারাও বিক্রির অনিশ্চয়তার কারণে টিকিট সারেন্ডার করছেন। এই সুযোগে সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ২-৩টি এজেন্সিকে রাতারাতি সব টিকিট দিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ প্রসঙ্গে হাবের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল কবির খান জামান জানান, বিমানের হজ টিকিট নিয়ে অনিয়মের ঘটনা প্রতিবছরই ঘটছে। তবে থার্ড ক্যারিয়ার ওপেন থাকলে এই অভিযোগ উঠার সুযোগ থাকতো না।
সৌদি এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিকিট নিয়ে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই এজেন্সিগুলোর অনুকূলে টিকিট দেয়া হচ্ছে।  এজেন্সি বেশি টাকা নিচ্ছে কি না, সেটা তাদের জানা থাকার কথা নয়।

পড়া হয়েছে 548 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: মঙ্গলবার, 16 সেপ্টেম্বর 2014 23:37