11162019শনি
সোমবার, 12 মার্চ 2018 10:32

প্রকৃতির এক অপরুপ দ্বীপ আগুনমুখা

আইয়ুব খান, রাঙ্গাবালী(পটুয়াখালী)থেকে : উত্তাল নদীর ঠিক মাজখানে জেগে ওঠায় দ্বীপটির নাম রাখা হয়েছে আগুনমুখা। পটুয়াখালী জেলা সদর থেকে দক্ষিণে এর দুরত্ব ৬০ কিলোমিটার। এর তিন দিকে উত্তাল নদী আর দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সাগর। যত দূর দৃস্টি যায় শুধুই সবুজের বনাঞ্চল।পাখির কলতান,আঁকা-বাঁকা দীর্ঘ খালের সারি। রাঙ্গাবালী উপজেলায় দ্বীপটি অবস্তিত।কিন্তুু উপজেলাসদরের সঙ্গে এখনো সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় এ দ্বীপে যেতে হয়। প্রকৃতির অপরুপ দ্বীপ আগুনমুখা।কিন্তুু। এখানেও আছে মানুষের হাহাকার,অভাব আর দারিদ্র্য। আছে প্রকৃতির বৈরী অভিশাপ। প্রতিদিন সংগ্রাম করেই এখানকার মানুষকে নিত্যদিন এ আগুনমুখা পাড়ি দিয়েই ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যসব প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হয়। আগুনমুখা সাতটি নদীর মোহনা। এপার থেকে ওপারে যাওয়ার সময় চারদিকে কিছুই নজরে পড়ে না। শুধু অথেই জলরাশি। নৌকায় আগুনমুখা পাড়ি দেওয়ার সময় কত মানুষ যে মারা গেছে,তার হিসাব কেউ রাকেনি। প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস এ দ্বীপে। এখানকার ছোট ছোট ঘরগুলোতে ধানের নাড়া কিংবা খড়ের ছাউনি দেওয়া। কিছু ঘরে টিনের চাল দেখতে পাওয়া যায়। এখানকার মানুষ হোগলপাতার পাটি পেতে ঘুমায়। এ দ্বীপের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখার প্রবল আগ্রহ থাকলেও একনে কোনো স্কুল নেই। এখানে জীবনযাপনের জন্য বিদ্যুৎ ঔষাধপএ,ডাক্তার ও হাসপাতালের ব্যবস্থাও নেই। দারিদ্র্যের কারনে অনেকেই অল্প বয়সে জীবন সংগ্রামে নেমে পড়ছে। মেয়েশিশুদের জীবন আরও কস্টের। অল্প বয়সেই যেতে হচ্ছে স্বামীর সংসারে। হচ্ছে কিশোরী মা।এখানকার মানুষ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত। এখানে একটি রেডিও নেই,এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সংকেত বার্তাও এখানকার মানুষের কাছে পৌছায় না। ঘুর্নিঝড়সিডর ও আইলার কথা উল্লেখ করে আগুনমুখার বাসিন্দা শাহিনুর বেগম বলেন,বইন্যার সময় মোরা হগলডে নায়ে (নৌকায়)ওই জঙ্গলের মধ্যে আছিলাম। মোরা জানে বাঁউ”া গ্যালেও ঘরের কিছু বাঁচাইতে পারি নাই। সব ভাইস্যা গ্যাছে। বর্ষা ৫-৬ মাস দ্বীপটি জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয় বিশেষ করে অমাবস্যা-পূর্ণিমার সময়ে অন্তত ১২-১৫ দিন দ্বীপ জোয়ারের পানিতে ডুবে যায়। তখন লোকজন নৌকায় কিংবা উচু মাচা বসে সময় কাটায়। দ্বীপটিতে নেই বেড়িবাধঁ। যে কারণে ঘূর্ণিঝড়ের আশস্কা বাসিন্দাদের সর্বদাই তাড়া করে ফেরে। হাজারো সমস্যার মাঝেও দ্বীপ আগুনমুখায় রয়েছে নানা সম্ভাবনা। এখানকার মানুষ পরিশ্রমী। জমি উর্বর। এ দুটো শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করার রয়েছে যথেস্ট সুযোগ। এসব তথ্য জানালেন দ্বীপবাসীরাই। তারা বলেন,দ্বীপের চারপাশে বেড়িবাধঁ নির্মাণ করে খুব সহজে এক ফসলি জমিকে তিন ফসরিতে রুপান্তর করা যেতে পারে। ফলানো যেতে পারে নানা রবিশস্য। বিশেষ করে যেতে পারা শাকসবজির চাষ।
পড়া হয়েছে 277 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: সোমবার, 12 মার্চ 2018 10:46

ফেসবুক-এ আমরা