10222017রবি
শুক্রবার, 06 অক্টোবার 2017 16:53

পর্যটন সম্ভাবনাময় মৌলভীবাজার, বছরে যান ২ লাখের বেশি পর্যটক

পর্যটনে অমিত সম্ভাবনাময় জেলা মৌলভীবাজার। সেখানে পর্যটনকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে পাঁচতারা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ এবং দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা নামের দুটি হোটেল ও শতাধিক ছোট বড় কটেজ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আনুমানিক হিসাবে দর্শনীয় স্থানগুলোতে প্রতিবছর বেড়াতে আসে প্রায় ২ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক। তাদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, সবুজ বনানী, হরেক রকমের পাখপাখালি, চা বাগান, লেক, হাওর, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ, আনারস, লেবু, পান, আগর, রাবার বাগান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আর ঐতিহাসিক স্থানগুলো। পর্যটকদের আনাগোনায় সারা বছরই জেলার দোকানপাটগুলোতে কেনাকাটা ভালো হয়। জেলায় আছে ৯২টি চা বাগান। ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ একর জমির ৮৫ হাজার ১৪০ একরে গড়ে তোলা এই চা বাগানগুলোতে বার্ষিক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হয়। চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, শ্রমিকদের পাতা তোলার কৌশল, কারখানায় চা উৎপাদন প্রক্রিয়া এ সব কিছুই যেন পর্যটককে মুগ্ধতায় ভরিয়ে দেয়। চা বাগানগুলো দেখে মনে হয় কোনো শিল্পী যেন সুনিপুণ হাতে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্তরে স্তরে সবুজকে সাজিয়ে রেখেছেন, কখনো মনে হয় সাগর যেন সবুজ ঢেউ দিচ্ছে; আবার কখনো মনে হয় পাহাড়ের ঢালে সবুজ গালিচা বিছানো মাঠ। প্রতিটি চা বাগানে আছে দৃষ্টিনন্দন বাংলো। বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ রয়েছে এই জেলায়। পর্যটক আকর্ষণের জন্য জেলায় যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), চা জাদুঘর, চা কন্যা ভাস্কর্য, সাতরঙা সুপেয় চা, ডিনস্টন সিমেট্রি, মাধবপুর লেক, ভাড়াউড়া লেক, রাজঘাট লেক, হরিণছড়া লেক, সাতগাঁও লেক, আগর-আতর, রাবার বাগান, খাসিয়া পানের বাগান, বাংলা পানের বরজ, শীতলপাটি, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর, বাইক্কা বিল, কাউয়াদিঘি হাওর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবছড়া ও পাথারিয়া পাহাড়, জলপ্রপাতের মধ্যে—মাধবকুণ্ড, পরিকুণ্ড, হামহাম জলপ্রপাত, ফুল ঢালনী ঝেরঝেরি ও ইটাহরী ফুলবাগিচা জলপ্রপাত, ঐতিহাসিক দিঘিগুলোর মধ্যে—কমলা রানীর দিঘি (ঘরগাঁও, রাজনগর), কালীদিঘি বা বেগদালি দিঘি (ঘরগাঁও, রাজনগর), দেওয়ান দিঘি, (টেংরা, রাজনগর), জামাল খাঁর দিঘি (রাজনগর), খোঁজার দিঘি (গয়গড়, মোস্তফাপুর), রাজচন্দ্রের দিঘি (সাধুহাটি, মৌলভীবাজার), হিয়ালী দিঘি (সম্পাশী, মৌলভীবাজার), দত্তের দিঘি (মোস্তফাপুর, মৌলভীবাজার), নবাব দিঘি (পৃথিমপাশা, কুলাউড়া), বড়দা ঠাকুরের দিঘি (নাছনি, ব্রাহ্মণবাজার, কুলাউড়া), ছয়ছিরি দিঘি (রহিমপুর, কমলগঞ্জ), রাজদিঘি (পতনউষার, কমলগঞ্জ), কুলাউড়ার গগন টিলা, শ্রীমঙ্গলের ওফিং হিল, বড়লেখার মাধবছড়ার কেরোসিন টিলা, কুলাউড়া-জুড়ীর লাঠি টিলা, কমলগঞ্জের মোকাম টিলা, কালেঞ্জী খাসিয়া টিলা, গারো টিলা ও আদমপুর বনবীট টিলা। নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে—খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, ওঁরাও, ভূঁইয়া, নায়েক, গড়, কাহার, গঞ্জু, অলমিক, পাসি, হাজরা, দোসাদ, ননিয়া, রবিদাস, পরাধান, বাউরি, পান, পবর, তেলেগো, ভূমিজ, ঘাসি, হাজং, বড়াইক, তাতি, লোহার, তুরি, মহালি, কিসান, নাগিসিয়া, রাজগন্দ, মালপাহাড়িয়া, খারওয়ার ও খবিয়া। ক্ষুদ্রজাতির মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, উৎসব ও ভাষা। মণিপুরি, খাসিয়া, সাঁওতাল, টিপরা ও গারো সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র জীবনাচার এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবন ও সংস্কৃতি দেখলে ক্ষণিকের জন্য হলেও পর্যটকদের পাহাড়ি হয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে মন চাইবে। মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলায় ছড়িয়ে আছে বহু স্মৃতিজাগানিয়া শতাধিক পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে পর্যটকের মন হারিয়ে যাবে ইতিহাসের অন্য এক খেরোপাতায়। মৌলভীবাজার শহরের তিন মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে গয়ঘর নামক গ্রামে মধ্যযুগের ঐতিহাসিক নিদর্শন পাঠান বীর খাজা ওসমানের দিঘি, গড়, দুর্গ ১৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর অন্যতম খোজার মসজিদ। মৌলভীবাজার শহরের দরগামহল্লায় ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হজরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ)-এর মাজার। সদর উপজেলার জগত্সী গ্রামে দোল গোবিন্দ আশ্রম। জেলা শহরের পশ্চিমবাজার মনু নদীর জাহাজঘাট। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবালা ইউনিয়নে কামরূপ রাজ ভগদত্তের উপরাজধানী দিনারপুর ভগ্নাবশেষ। প্রায় ২০০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে কুলাউড়ার পৃথিমপাশা নবাববাড়ী, মসজিদের ফুলেল নকশা ও ইমামবাড়া পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় স্থান। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪০০ বছরের পুরনো শ্রীশ্রী নিমাই শিববাড়ী। শ্রীমঙ্গলের কালাপুরের শতাব্দী প্রাচীন রাধা গোবিন্দের মন্দির। বিলাস নদীর লঞ্চঘাট। লাউয়াছড়ার জাতীয় উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বসবাস। বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত। বনের মধ্যে কিছু সময় কাটালেই উল্লুকের ডাকাডাকি শুনতে পাওয়া যায়। বর্তমানে ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৬৭টি ইউনিয়ন ও ২১৩৪টি গ্রাম নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার বিস্তৃতি।
পড়া হয়েছে 7 বার। সর্বশেষ সম্পাদন করা হয়েছে: শুক্রবার, 06 অক্টোবার 2017 17:13
এই ক্যাটাগরিতে আরো: « ছুটিতে কোথায় যাবেন