10192019শনি
ডেস্ক ভারতে তাজমহলের সিঁড়িতে সেলফি তোলার সময় পা পিছলে পড়ে জাপানি এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে খবরটি জানিয়েছে বিবিসি। প্রত্যক্ষদর্শী সাগর সিং বিবিসি’কে বলেন, 'তাজমহলের রাজকীয় ফটকের উপর ‘সেলফি’ তোলার সময় ওই পর্যটক সিঁড়ি থেকে পড়ে যান।' পুলিশ জানায়, পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জ্ঞান হারান। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। আগ্রার পর্যটক পুলিশ কর্মকর্তা সুশান্ত গৌড় বলেন, দুর্ঘটনার সময় জাপানের ওই পর্যটকের সঙ্গে আরো তিনজন ছিলেন, যাদের একজন পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পান। তার পায়ের হাড়ে চিড় ধরেছে। ওই পর্যটকের মৃত্যুর খবর জাপানের দূতাবাসে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে সেলফি তুলতে গিয়ে হরহামেশাই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। ভারতেও 'দুঃসাহসিক' সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল নয়। দেশটিতে চলন্ত ট্রেনের সামনে সেলফি তুলতে গিয়ে এক তরুণ কাটা পড়েছিল। মে মাসে মস্কোয় ২১ বছর বয়সী এক তরুণী বন্দুক মাথায় ধরে সেলফি তোলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিল। অগাস্টে স্পেনে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ‘বুল রানিং’ উৎসবে দৌড়ানোর সময় সেলফি তুলতে গেলে ষাঁড়ের শিংয়ের আঘাতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের ট্যুরিস্ট এরিয়াগুলোকে পর্যটক আকর্ষণীয় করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা সংস্কৃতি রয়েছে। এগুলোকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে পর্যটক আকর্ষণীয় করে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি। আগামী ২৭-২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য ‘বুদ্ধিষ্ট হেরিটেজ সার্কিট ট্যুরিজম’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক এ কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন বিষয়ক সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আখতারুজ্জামান খান কবির। বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বৌদ্ধ পূরাকীর্তি, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমূহ এবং দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের লিভিং বুদ্ধিষ্ট হেরিটেজসমূহ বিশ্বের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এ কর্মশালা আয়োজন করে। এ কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। আগামী ২৭-২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে কর্মশালায় চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধসমূহে বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পুরাকীর্তি ও লিভিং হেরিটেজসমূহের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ, প্রতিকার, সম্ভাবনা ও পর্যটন সম্পর্কিত গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়। রাশেদ খান মেনন বলেন, দেশে অনেক স্থাপত্য কীর্তি রয়েছে, যা সহজেই পর্যটক আকর্ষনীয় হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে পর্যটন সংস্কৃতি গড়ে না ওঠায় আমাদের এই অমূল্য সম্পদ আমরা কাজে লাগাতে পারছিনা। উপরন্তু স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা থাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তার অভাব ঘটছে। তিনি ট্যুরিজম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট অপারেটর ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গণমাধ্যমসহ সব স্টেকহোল্ডরদের নিয়ে একটি ‘টাস্কফোর্স’ গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে এই টাস্কফোর্স পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বাধাসমূহ চিহ্নিত করবে এবং সমাধানের উপায় খুঁজে বের করবে। তিনি এ ব্যাপারে প্রাইভেট সেক্টরকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ব্যস্ত এলাকা টাইম স্কয়ারসহ অন্যান্য বেশ কিছু এলাকায় মেয়েদের 'খুললাম খুল্লা' নামের পোশাক নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। এ ধরনের পোশাক পরিহিত নারীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মেয়র ডি ব্লাজিও। নানা মহলের আপত্তির মুখে ওই নারীদের তৎপরতা বন্ধে উপায় খোঁজার কথা জানিয়েছেন মেয়র ব্লাজিও। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করার কথা বলেছেন তিনি। জানা যায়, টাইম স্কয়ারে প্রায়ই জেগে থাকা একদল প্রায় বিবস্ত্র নারী তাঁদের শরীরে নানা আঁকিবুঁকি নিয়ে নানা রংঢঙে পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যস্ত থাকেন। লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলার বিনিময়ে তাঁরা বকশিশ নেন। এভাবে তাঁদের ভালো রোজগার হয়। নিউ ইয়র্কে অর্ধনগ্ন হয়ে শরীরে চিত্র আঁকা এবং তা প্রদর্শন বেআইনি নয়। এ ব্যাপারে নানা মহল আপত্তি জানিয়ে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের মেয়র ডি ব্লাজিও বলেন, টাইম স্কয়ারে এসব নারী তাঁদের নাগরিক অধিকারের চেয়ে বেশি কিছু করছেন। শরীরে আঁকা ছবি দেখিয়ে তাঁরা উপার্জনে নেমেছেন। তাঁদের তৎপরতা বন্ধের উপায় খোঁজা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রথম সংশোধনীতে নাগরিকদের মত ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অধিকার প্রকাশ করে অর্থ উপার্জন নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা- তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসা-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, আইন অনুযায়ী টাইম স্কয়ারের ওই নারীদের নিয়ন্ত্রণ করার তেমন সুযোগ নেই।
বিশেষ প্রতিনিধি বিদেশী এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে লিজে আনার এক সপ্তাহের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়েছে বোয়িং ৭৬৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। বৃহস্পতিবার এই উড়োজাহাজটি আবুধাবি থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চলতি হজ মৌসুমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে মেগা মালদ্বিপ এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে ৩০০ আসন বিশিষ্ট উক্ত বোয়িং উড়োজাহাজটি তিন মাসের জন্য লীজ নিয়েছে। গত ১৫ আগস্ট এটি ঢাকায় পৌঁছে। বুধবার এই উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আবুধাবি যায় এবং বৃহস্পতিবার সকালে আবুধাবি থেকে চট্টগ্রাম আসে। সেখানে কিছু যাত্রী নামিয়ে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানাত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। কিন্তু শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের আগেই আকাশে এই উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ারে মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পাইলট ঝুঁকি নিয়েই উড়োজাহাজটি অবতরণ করান। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিমানবন্দরে হ্যাঙ্গারে নিয়ে এর কারিগরি ত্রুটি নির্ণয় এবং তা দূর করার চেষ্টা করছেন। তবে আপাতত এই উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব নয় বলে বিমানের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এদিকে লীজে আনা উড়োজাহাজটি অকেজো হয়ে পড়ায় আবুধাবি, মাস্কাট, কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিমানের কোন কর্মকর্তাই মুখ খুলতে রাজি হননি।
সোমবার, 17 আগস্ট 2015 22:14

পর্যটনে যৌনতা

ডেস্ক যৌনতার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সেই বহুকাল আগে থেকেই। জৈবিক চাহিদা মেটাতে সমাজের রীতি অনুযায়ী মানুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। কেউবা সমাজের রীতি উপেক্ষা করেই বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। আবার কেউবা শুধুমাত্র যৌনতার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য অন্যদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এটাকে পর্যটকরা সেক্স ট্যুরিজমই বলে থাকেন। বিশ্বে সেক্স ট্যুরিজমের মানচিত্রে নিত্যনতুন যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। পর্যটকরা যৌনতার ক্ষুধা মেটাতে ছুটে যান এসব দেশে। নারী সান্নিধ্যের আশায় পছন্দ ও সাধ্যের ভিত্তিতে পাড়ি জমান দেশে দেশে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় যৌন ব্যবসার নানা রূপ। স্ট্রিপ ডান্স বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও স্পা-তে সুলভে দৈহিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এমনকি ছুটি কাটাতে এসে টানা কয়েক দিনের জন্যও সঙ্গী মেলে কেনিয়ায়। নিসর্গ, সংস্কৃতি ও চুরুটের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় প্রতি বছর পাড়ি জমান অজস্র পর্যটক। তবে এদের বড় একটি অংশ আসেন যৌনতার আকর্ষণে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, মনপছন্দ নাবালক যৌনসঙ্গী সুলভে মেলে এই দেশে। গত এক দশকে রাশিয়ায় দেহ ব্যবসার রমরমা শুরু হয়েছে। মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের পর্যটকরাই এখানে যৌনতার টানে ছুটে আসেন। তবে রুশ যৌন বাজারে দালালদের দাপট বেশি। ১৮৮৭ সাল থেকে আর্জেন্টিনায় বৈধতা পেয়েছে সমকামিতা। এই কারণে আর্জেন্টিনায় সমকামী দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদা তুঙ্গে। সরকারের পক্ষথেকেও সমকামী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে। যৌন পর্যটনের হাত ধরেই অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চাইছে মারাডোনার দেশ।পর্যটনে যৌনতা যৌন পর্যটনের পীঠস্থান সানি বিচ রিসোর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বাস্তব ও কল্পনার অভাবনীয় মিশেল। শোনা যায়, এই সৈকতে প্রতিদিন কয়েক হাজার দেহ ব্যবসায়ী ভিড় জমান। তাঁদের অনেকেই আসেন প্রতিবেশী দেশ থেকেও। দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌনতা নিয়ে শুচিবায়ু নেই। ক্ষণিকের শয্যাসঙ্গী জোগাড় করতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয় না। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে রয়েছে একাধিক এসকর্ট সার্ভিসের ব্যবস্থা। হোটেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়াও মেলে সুলভে। কলম্বিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা বলে যৌন পর্যটনস্থল হিসেবে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই দেশ। দরিদ্র দেশে এসে নামমাত্র খরচে দেদার ফূর্তি লুটতে প্রতি বছর পাড়ি জমান ইউরোপ ও আমেরিকার পর্যটকরা। দুনিয়ার অন্যতম বড় যৌন ব্যবসা চালায় কম্বোডিয়া। কিন্তু তার বেশির ভাগই অবৈধ। তবে আইনের ফাঁক গলে অবাধ যৌনতার হাতছানিতে সাড়া দিতে প্রতি বছর ছুটে আসেন বিশ্বের কামতাড়িত মানুষ। স্লোভাকিয়ার প্রাহা শহর ১৯৮৯ সাল থেকে ইউরোপের যৌনতার রাজধানী তকমা পেয়েছে। অসংখ্য জেন্টলম্যানস ক্লাব অথবা রিল্যাক্সেশন ক্লাবে অল্প খরচে শরীরী বিনোদনের সম্ভার মেলে। হিংসাত্মক ঘটনাও এখানে সংখ্যায় খুব কম। রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পোখরা ও তরাইয়ের শহরাঞ্চলে দেহ ব্যবসা রমরমা। বাণিজ্য জমে উঠে হোটেলের দামি ঘর থেকে শুরু করে নিষিদ্ধপল্লির অন্ধকার আস্তানামায় যৌন ব্যবসায়ীর বসত ভিটেতেও। কাঠমান্ডুর থামেলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ম্যাসাজ পার্লার, যেখানে অবৈধ দেহ ব্যবসার পসার সাজানো। এছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরাঁর কেবিন ও ডান্স বারগুলিতেও মিলবে অফুরন্ত দেহজ বিনোদনের সম্ভার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যৌনতার নয়া ঠিকানা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। ব্যাঙ্ককের বিখ্যাত দপিং পিংদ শো-ই হোক অথবা বিভিন্ন স্পা-এর ছদ্মবেশে যৌনতার আস্তানা। দেশজুড়ে অবাধ ও নিরাপদ দেহ ব্যবসার রমরমা বছরভর। তাই দেশটি বিশ্বের নানা দেশের নারী-পুরুষরকে সহজেই আকৃষ্ট করছে।
ডেস্ক ৫৪ আরোহী সহ নিখোঁজ হওয়া ইন্দোনেশিয়ার বিমানটির ধংসাবশেষের খোঁজ মিলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন প্রত্যন্ত পশ্চিম পাপুয়া এলাকায় ধংসাবাশেষ দেখা গেছে। গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ২:৫৫ মিনিটে ত্রিগানা এয়ারের ফ্লাইটটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাদেশিক রাজধানী জয়পুরা থেকে বিমানটি ওকসিবিলে যাচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিনটাং পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয়রা বিমানটি খুজে পেয়েছেন। এরপর উদ্ধারকারী বিমানও ধংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করেছে। ইন্দোনেশিয়ার পোস্টাল অফিস বিবিসিকে জানিয়েছেন, পাপুয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র গ্রামবাসীদের জন্য বিমানটিতে করে প্রায় ৫ লাখ ডলার নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় মূদ্রায় যার অঙ্ক ৬৫০ কোটি। বিমানের যাত্রীদের মধ্যে ৪৪ জন ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক। এছাড়া পাচ শিশু ও নবজাতক ছিল। বিমানের ক্র ছিলেন আরও পাচ জন। দূর্ঘটনা থেকে কেউ বাচতে সক্ষম হয়েছেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায় নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো ইউডোডো টুইটারে সমবেদনা জানিয়ে ভুক্তোভুগীদের জন্য দেশবাশীকে একসঙ্গে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। দূর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায় নি। তবে খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার, 25 জুলাই 2015 09:58

সম্ভাবনার রাঙ্গামাটি

ডেস্ক পাহাড়-নদী-ঝরনার অনন্য মিশেলে গড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য রাঙ্গামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে আছে রাঙ্গামাটির ছোট্ট জেলা শহর। শহরের আশপাশে তো বটেই, গোটা জেলার পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছটা। এখানকার জায়গাগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে সাজে ভিন্ন ভিন্ন রূপে। এই সৌন্দর্যকে পুঁজি করেই রাঙ্গামাটি হয়ে উঠতে পারে অর্থনৈতিকভাবে অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র। কেবল পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে রাঙ্গামাটি থেকে বছরে আয় হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি বা ২০ কোটি ডলার। কেবল সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। রাঙ্গামাটির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি সরকারের পর্যটন বিভাগের উপর নির্ভর করছে। ১৯৬০ সালে জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের লক্ষ্যে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিলে সৃষ্টি হয় ৭০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ। এই হ্রদ ঘিরেই রয়েছে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা হাতছাড়া হচ্ছে বছরের পর বছর। রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য বিনোদনেরও ঘাটতি রয়েছে। শুধু নতুন ও পুরাতন একটা করে কটেজ ও হানিমুন কটেজ আর মান্ধাতার আমলের বোট দিয়ে চলছে পর্যটন শিল্প। পর্যটক আকর্ষণ করার যে স্পটগুলো রয়েছে সেগুলোতে লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। একমাত্র ভরসা পর্যটনের ঝুলন্ত ব্রিজ। এটিও আবার নভেম্বরের দিকে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে তলিয়ে যায়। আর নিরাপত্তার অভাবে পর্যটকদের চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পর্যটন কর্তৃপক্ষ। শহরে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠেনি বিনোদন স্থান। কাপ্তাই হ্রদে মাছ চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এই হ্রদে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন হয়। প্রজননের সময় তিন মাস নিষিদ্ধ থাকে মাছ শিকার। এই সময়ে মাছ শিকার যাতে সত্যিই কেউ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা গেলে মাছের বংশ বিস্তার বেড়ে যাবে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হবে। এছাড়া কৃষকদের উত্পাদিত আনারস, কাঁঠাল, আম লেবু, পেয়ারা প্রয়োজনীয় হিমাগারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। অথচ সেখান থেকে প্রচুর টাকা আয় করা যায়। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি জেলায় উত্পাদিত ফুলের ঝাড়ু পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। রাঙ্গামাটিতে রয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। পুরো জেলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর ইতিহাস সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা মিলবে এই জাদুঘরে। এটি খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। জাদুঘরে বড়দের প্রবেশ মূল্য পাঁচ টাকা ও ছোটদের দুই টাকা। উপজাতীয় জাদুঘর থেকে কাছেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান রাজবন বিহার। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নানান আচার অনুষ্ঠান দেখতে পাওয়া যায় এখানে। রাজবন বিহারের পাশেই কাপ্তাই লেকের ছোট্ট একটি দ্বীপ জুড়ে রয়েছে চাকমা রাজার বাড়ি। নৌকায় লেক পাড়ি দিয়ে সেখানে যাওয়া যায়। রাজবাড়ির আঙিনায় পর্যটকদের যেতে বাধা নেই। শীত মৌসুম জুড়ে যেন উত্সব লেগে থাকে এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটিতে। ১০টি ভাষাভাষীর ১১টি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও কৃষ্টির স্বাদ নিতে হলে শীত মৌসুমেই রাঙ্গামাটি সফর করা ভাল। রাঙামাটি শহরের বাইরে রয়েছে আরণ্যক পিকনিক স্পট, বালুখালী কৃষি ফার্ম, পেদাতিংতিং ও টুকটুক ইকো ভিলেজ। অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা এক আবাস রাইন্যা টুগুন ইকো রিসোর্ট। এটি শুধু রিসোর্ট নয়। এখানে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকজ পরিবেশের পাশাপাশি আধুনিক সুবিধায় মুগ্ধ করে পর্যটকদের। সকালের সূর্য যখন উঁকি দেয় তখন সোনালি আলোকছটায় লেকের পানির বর্ণিল রূপ ফুটে ওঠে। পাহাড় আর হ্রদের সাথে যেন এখানে সূর্যের দারুণ মিতালী। পড়ন্ত বিকেলের আলোকরশ্মি লেকের পানিতে আরো মোহনীয় হয়ে ওঠে। পাল্টে যায় লেকের পরিবেশ। পর্বতপ্রেমী পর্যটকরা যেতে পারেন সুভলং অভিমুখে। বর্ষায় এখানকার ঝরনা হয়ে ওঠে চঞ্চল, ছন্দময়। কিন্তু শীত মৌসুমে ঝরনা যেন মৃতপ্রায়। এছাড়াও রাঙ্গামাটিতে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে ডিসি বাংলো, পলওয়েল পর্যটন, বনবিথী, বেতার কেন্দ্র, টেলিভিশন উপকেন্দ্র, বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র (অনুমতি সাপেক্ষে)। পর্যটন থেকে আয় হতে পারে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ২০১৮ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে ১০ লাখ পর্যটক আনার পরিকল্পনা নিয়ে ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় এ খাতে ৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ও ২০ কোটি মার্কিন ডলার (দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি) আয় করা সম্ভব বলে মনে করছে সরকার। জানা যায়, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে তিন বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে—দেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক নিয়ে আসা, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, কর্মসংস্থান ও এ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ। আর এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শ। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গত ৩ বছরে গড়ে ৫ লাখ পর্যটক বাংলাদেশে এসেছে। প্রতিবছরই পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। সে হিসেবে প্রথম বছর ২০১৬ সালে বিদেশি পর্যটক আনা হবে ৬ লাখ ৭৭ হাজার। এ সময়ে বৈদেশিক আয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার এবং কর্মসংস্থান হবে ১ লাখ ৩০ হাজার জনের। দ্বিতীয় বছর ২০১৭ সালে পর্যটক আসবে ৭ লাখ ৭৯ হাজার। ওই বছর বৈদেশিক আয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং কর্মসংস্থান হবে ৩ লাখ ২০ হাজার জনের এবং ২০১৮ সালে পর্যটক আনার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার। ওই বছর আয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং কর্মসংস্থান হবে ৩ লাখ ৫০ হাজার জনের। এজন্য এ খাতের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন বলেন, এই পার্বত্য জেলা পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানে যারা আসবেন পর্যটনের স্বার্থে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। এ ব্যাপারে কিছু দিন আগে রাঙ্গামাটি পর্যটন বিকাশ ও সম্ভাবনা এবং কিভাবে প্রকল্প প্রণয়ন করা যায় এ নিয়ে পেশাজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের জন্য ভিডিও কনফারেন্স করা হয়েছে। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, প্রধানমন্ত্রীর এটুআই প্রকল্পের কনসালটেন্ট ও জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে রাঙ্গামাটি অঞ্চলের বন সংরক্ষক শামসুল আজম বলেন, এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ধরে রাখার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিকভাবে বনায়ন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক এত ছোট গাছে আম ধরে! চোখ বড় বড় করে বলছিল এক বাচ্চা মেয়ে। পাশের গাছে হাত দিয়ে যেন অবাক সে। আরে বাহ্! লাল টুকটুকে ডালিম ধরে রয়েছে দেখি। খানিক দূরে দৌড়ে গিয়ে আরেক গাছের পাশে দাঁড়িয়ে বললো, এত্ত বড় পেয়ারা! দেখো বাবা, আকার দেখে মনে হচ্ছে গাছের চাইতে ফল বড়। মেয়ে ক্লাস ফোরের ছাত্রী আরিবার বিস্ময় দেখে বেশ মজা পাচ্ছিলেন মা-বাবা। তবে তারাও বেশ অবাক। ঠিকই তো এতো ছোট ছোট গাছে ফল ধরে রয়েছে। অবাক করা ঘটনাই তো! শহুরে মানুষদের মুখে এমনই বিস্ময় হয়ে দেখা দিয়েছে জাতীয় বৃক্ষ ও পরিবেশ মেলা ২০১৫। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাণিজ্য মেলার মাঠে চলছে মাসাধিককালব্যাপী এই বৃক্ষমেলা। আজ বুধবার মেলার শেষ দিন। গত ৬ জুন থেকে বৃক্ষমেলা চললেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। এবারের শ্লোগান: ‘পাহাড় সমতল উপকূলে, গাছ লাগাই সবাই মিলে।’ রাজধানীতে প্রতিবছরই জাতীয় বৃক্ষমেলা শহরের মানুষদের কাছে সবুজ প্রাণের হাতছানি নিয়ে উপস্থিত হয়। কানাডার জাতীয় পরিবেশ এজেন্সির একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে: ‘গড়পড়তায় দুটি পরিপূর্ণ বৃক্ষ যে অক্সিজেন সরবরাহ করে, তা চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট।’ তাই নির্দ্বিধায় স্বীকার করতেই হবে বৃক্ষের মতো উপকারী বন্ধু-আত্মীয় হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো পৃথিবীতে আর কেউ নেই। বৃক্ষমেলায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তাই মন ভালো হয়ে যায়। সারি সারি স্টল। স্টলের সামনে সাজানো শত শত গাছ। সেইসব গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে ঘুরে গাছ কিনছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। এ মেলায় ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের ৮৭টি স্টল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি নার্সারি ৬১টি, সরকারি ১৫টি, এনজিও একটি ও অন্য ১০টি স্টল। মেলায় প্রতিটি স্টলেই রয়েছে বাহারী বৃক্ষের চারা। দোকানিরা জানালেন, প্রতিবছর তারা এ মেলায় পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেন। মেরুল-বাড্ডা থেকে মেলায় এসেছেন ব্যবসায়ী সৌম্য আরেফিন। ছাদে রাখার জন্য ফলের গাছ কিনেছেন তিনি। বললেন, ‘ঢাকা শহরটা তো গাছহীন হয়ে গেছে। তাই বাড়ির ছাদে কিছু গাছ রাখতে চাই। তাছাড়া পছন্দের দুইটা ক্যাকটাসের চারা কিনলাম।’ মেলার ভিতরের পরিবেশ বেশ ভালো বলে মত দেন তিনি। এদিকে এই মেলা সারাদেশের মানুষের মাঝেই বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন প্রকৃতি বিষয়ক পেজের সদস্যরাও এই বৃক্ষমেলাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মচারি জাকিয়া আক্তার জুঁই বললেন, ‘সব গাছ তো জেলা শহরগুলোতে পাওয়া যায় না। তাই এ বৃক্ষমেলার সময় ঢাকায় আসি। আমাদের গ্রুপের অনেক সদস্যই আসেন এসময়। নিজেদের মধ্যে গাছ নিয়ে আলোচনা হয়। ভিন্নধর্মী একটা গ্রুপ। ভালো লাগে।’ এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের ঢাকা সদর রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার মনিরুজ্জামান জানান, বৃক্ষমেলা প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলাই নয়, প্রতিটি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে বন বিভাগ নিয়মিত বৃক্ষমেলার আয়োজন করে থাকে। এতে মানুষ গাছ লাগানোর ব্যাপারে যেমন সচেতন হয়ে উঠছে তেমনি নতুন নতুন গাছ লাগানোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। হরেক রকম গাছ: মেলায় ঘুরে দেখা যায় বাহারী সব বৃক্ষের সমাহার। শোভাবর্ধক, ফলদ, বনজ, ঔষধি ও জলজ বৃক্ষ নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করেছে প্রায় অর্ধশতাধিক নার্সারী। শোভাবর্ধক বৃক্ষ সাধারণত ঘর, অফিস, হোটেল বা অন্যান্য স্থাপনা সাজানোর জন্য ব্যবহার হয়। শোভাবর্ধক বৃক্ষের মধ্যে রয়েছে প্যাগোড, বিভিন্ন রকমের ক্যাক্টাস, সাইকাস লাউ, পাতা লতা, এথনোরিয়াম, বিভিন্ন রকমের বনসাঁই, ফিছুদিয়া পাম, কুচিয়াবল, মুনস্টার, বিচিত্র ড্রেসিনা, বনঝাউ, নদীঝাউ অন্যান্য। পপি নার্সারীর বিক্রেতা রহমান বলেন, ‘বেচাবিক্রি আশানুরূপ ভালো হয়েছে। তবে প্রচারের অভাব ছিল। মেলা সঠিক সময়ে উদ্বোধন করতে পারলে বেচাবিক্রি আরো ভালো হতো।’ ঔষধি গাছ নিয়ে এসেছে ডজনখানেক নার্সারী। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে দারুচিনি, জাকের আন্দা, আলু বেড়া, পোলাউ পাতা, মিশ্র মশলা, পাথরকুচি, অরহর, উলটকম্বল, আকন্দ, বামতুলসী, তুলসী, সজিনা, পুদিনা, চন্দন, তমাল, নাগেশ্বর, অর্জুন, শিমুল, হরতকী, রেইন্ট্রি, চই, ছাতিয়ান, নাগলিংগম, উলট চন্ডাল, কাঠ বাদাম ইত্যাদি। দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে ছিল বলে দাবি করলেন পুষ্পকানন এন্ড ইকবাল নার্সারীর বিক্রেতা সোহেল রানা। এছাড়া এলাচি লেবু, জামরুল, মিষ্টি করমচা, আনারস, ডালিম, লটকন, আঙ্গুর, মিশরী ডুমুর, কামরাঙ্গা, বিভিন্ন রকমের পেয়ারা, হরেক রকমের বরইসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের নানা মৌসুমের ফলদ বৃক্ষের চারা ও কলম নিয়ে এসেছে উত্তরা ভাই ভাই নার্সারি, অনুভব নার্সারি, বরিশাল নার্সারি, বিএলএফ নার্সারি, পটুয়াখালী নার্সারি, অমনি কনস্পে নার্সারি, মানিকগঞ্জ নার্সারি, রাশিদা নার্সারিসহ অর্ধশতাধিক নার্সারি। মেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠান: মেলায় বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিক্রি ও প্রদশর্নীকে কেন্দ্র করে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ ১৫টি সরকারি প্রতিষ্ঠান। কেন্ট, কেইট, আমেরিকান পালমাল, বৈশাখী, চৌফলা, ত্রিফলা, হাঁড়িভাঙ্গা, মাহালিশা, ফিলিপাইন সুপারসুইট, বারি হাইব্রিড-৪, থাই কাঁচামিঠা, সিন্দুরীসহ দেশি ও বিদেশি ২৯ প্রজাতির আমসহ ২৭ জাতের ফলের কলম, ৩৩ প্রজাতির ফলের চারা, ৪৯ প্রজাতির ফুলের কলম, ১৭ প্রজাতির ফুলের চারা, ১৩ প্রজাতির ওষধি চারা নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। এসব গাছের চারা বা কলমের দাম ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রেতা শেখ ওহিদুর রহমান বলেন, ‘মেলা দেরিতে উদ্বোধন হলেও পুরো মাসজুড়ে বিক্রি-বাট্টায় কোন ঘাটতি ছিল না। যেদিনটিতে কম বিক্রি হয়েছে সেদিনও ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করেছি। আমরা গাছের সঠিক জাত নিশ্চিত করি বলে ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে কিনছেন।’ এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, মাসব্যাপী এ মেলায় তারা আগ্রহীদের বাড়ির ছাদে বাগান করার পদ্ধতি, গাছের রোগবালাই দমন পদ্ধতি, একটি বাড়ি, একটি খামার তৈরি করা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কৃষকদের নতুন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের স্টলে। এছাড়া রাবার চাষ, সংগ্রহ ও ব্যবহারের নানা প্রদ্ধতি প্রদর্শনী করা হয়েছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের স্টলে। কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে বাঁশ চাষের নানা পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়েছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্টলে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, কঞ্চি কলম সংগ্রহ, বালির বেড তৈরি, বেডে কঞ্চি কলম রোপণ, কলম স্থানান্তর এবং পুনরায় রোপণের নানা নমুনা মেলায় প্রদর্শন করা হয়েছে। আগ্রহীরা এসব প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেছেন, চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানছেন এবং অনেকে নিজে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ‘গাছ লাগাই সবাই মিলে’: মানুষের মনে গাছের প্রতি এই ভালোবাসা থাকলেও বাংলাদেশে বনাঞ্চল কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। ‘দাঁত থাকতে যেমন মানুষ দাঁতের মর্যাদা বোঝে না’ -জাতি হিসাবে আমরাও তা বুঝিনি। ফলে বন উজাড় হয়েছে আর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ১৯৫০ সালে বায়ু মণ্ডলে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি মেট্রিক টনেরও কম, আর বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি ৪৬৫ মেট্রিক টনেরও বেশি। গত ১০০ বছরে বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী ৬০-৭০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা গড়ে ৪.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একটি দেশের মূল ভূ-খণ্ডের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। গ্রামীণ বনায়ন রয়েছে ৭ ভাগ। ফলে দেশের পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের রিসার্চ অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয় না। বাংলাদেশে ঘনবসতিকে মাথায় রেখে আমাদের বনায়ন কার্যক্রমে আরো বেশি জোর দেয়া প্রয়োজন। বৃক্ষ ধ্বংস মানে প্রাণ ধ্বংস: ইন্ডিয়ান ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি বৃক্ষ মানবসমাজকে কতটা আর্থিক সুবিধা দেয়, তার একটা হিসাব তুলে ধরে বলছেন, ‘বায়ু দূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচায় ৫ লাখ, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরাশক্তি বাড়িয়ে বাঁচায় ৫ লাখ, গাছে বসবাসকারী প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ, আসবাবপত্র ও জ্বালানি কাঠসহ ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার এবং বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দিয়ে বাঁচায় আরো ৪০ হাজার টাকা।’ অথচ আমরা সেই গাছকেই কাটছি নির্বিচারে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি, প্রতি বছর পৃথিবী থেকে ৩২ মিলিয়ন একর বনভূমি হারিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে, গত ১০ বছরে বিশ্বে বিলুপ্ত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ হেক্টর বনাঞ্চল। সেই হিসাবে প্রতি মিনিটে ধ্বংস হচ্ছে প্রায় আট হেক্টর বনভূমি। বাংলাদেশেও বনভূমি উজাড় হচ্ছে। ভূমিদস্যুরা দখল করছে। নগরায়নের কারণে বিলীন হচ্ছে গাছ। এমনকি আন্দোলনের নামেও উজাড় হচ্ছে গাছ। সরকারি হিসাব মতে, হরতাল-অবরোধে গত বছর ১৪ হাজার ২৭০টি বৃক্ষ নিধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের তথ্য মতে, রাজনৈতিক সহিংসতায় ২০১৩ সালের মার্চ, মে, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সারাদেশে নিধন হয়েছে ৬৩ হাজার ৯০০ বৃক্ষ। এতে সারাদেশের পরিবেশগত আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।
বিশেষ প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারোর ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, কারো কাছে হাত পাততেও চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে কারো কাছে মাথা নত না করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা আছে। আর এই আস্থা নিয়েই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবো। রোববার ঢাকায় খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৫ এবং জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০১৫ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা সরকার চালাই দেশের স্বার্থে। ইতিমধ্যে তা আমরা প্রমাণ করেছি। বিশ্বব্যাংক আমাদের অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। সবার মনে রাখতে হবে আমরা তাদের কাছ থেকে ঋণ নেই, ভিক্ষা নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু তহবিল গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আরো বলেন, ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের জাতি হয়েছি। আমাদের মাটি সোনার মাটি। সবাই আন্তরিকতার সাথে কাজ করলে আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে এটি করতে হবে। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও তিনটি করে গাছ লাগানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানো। বনায়নে তার সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ছয় বছরে দেশের বনভূমির পরিমাণ ৯ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এটিকে ২৫ শতাংশে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা আছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা লেকের দুরবস্থার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় এখানে ভোলা গ্রাম ছিলো। সেখানে এখন যারা বসবাস করেন তারা বড়লোক। অনেকে বড় হাসপাতাল করেছেন। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোন ব্যবস্থা নেননি। আবার অনেকে লেক ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থে লেকগুলো বাঁচাতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার এ বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ‘জগত্ মাতার’ সুরক্ষায় আমরা সবাই যত্নবান হলে সবুজ প্রবৃদ্ধি বিকাশের মাধ্যমে দেশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এ পৃথিবীকে যতটুকু যত্নে লালন করব, পৃথিবী ঠিক ততটুকু সম্ভাবনা ধারণ করবে আমাদের জন্য। কাজেই প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার এবং সংরক্ষণ আমাদের নিজেদের ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের স্বার্থে করতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার মতো কঠিন কাজ করা সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি দেশের সব নাগরিককে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন ও পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগী হতে এবং প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেককে অন্তত ১টি বনজ, ১টি ফলদ ও ১টি ভেষজ বৃক্ষের চারা রোপণের আহ্বান জানান। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মণ্ডল বক্তৃতা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন :আনোয়ার হোসেন মঞ্জু অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় আছে। আমরা সবাই ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। কিন্তু এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যে ধরনের ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হবার প্রয়োজন ছিলো তা এখনো হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো নানা মতবিরোধ, মতপার্থক্য এবং টানাপোড়েন রয়ে গেছে। তবে এ মতবিরোধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচিতে দাতারা ট্রিলিয়ন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। কিন্তু তারা বিলিয়ন ডলারও দেয়নি। তেমনিভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাতারা বিপুল পরিমাণ সাহায্যের অঙ্গীকার করেছিলো। কিন্তু সে পরিমাণ অর্থ তারা দেয়নি। তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোর এমন কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক হবে না যা রাখা যায় না। পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ফোরামে সভা-সেমিনারে পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকার জন্য আইনজীবী মনজিল মোরশেদ এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল মুকিত মজুমদারকে (বাবু) পরিবেশ পদক-২০১৫ প্রদান করেন। তিনি ব্যক্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার সংস্থা, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন ধরনের এনজিও’র বৃক্ষরোপণের জন্য বঙ্গবন্ধু বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পদক-২০১৫ এবং প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পদক-২০১৪ প্রদান করেন। এ বছর বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম মনিরুল হাসান ও র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), নওগাঁ ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা নিশান-এর পরিচালক মহিদুল রহমান এবং রাজশাহীর পুটিয়ার এম আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধু বন্য প্রাণী সংরক্ষণ পদক লাভ করেন। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক বনায়নে নওগাঁ ও গাজীপুরের দুজনকে মুনাফার চেক প্রদান করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন চত্বরে একটি হৈমন্তীর চারা রোপণ করেন এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন মাঠে বৃক্ষমেলা-২০১৫ ও পরিবেশ মেলা উদ্বোধন করেন। উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জেকব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার দেশের পরিবেশ ও বন উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে। ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, পরিবেশ দূষণরোধে সরকার এ সংক্রান্ত আইন এবং বিধি-বিধান যুগোপযোগী করেছে। এনফোর্সমেন্টের আওতা বাড়িয়ে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাইসুল আলম মণ্ডল বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পরিবেশ ছাড়পত্রের বিষয়টি অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ইউনুস আলী বলেন, চলতি বছরে সারাদেশে মোট চার কোটি গাছ লাগানো হবে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে দেশের জনগণও বনায়নে উত্সাহী হয়েছে। বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন নৌবাহিনী প্রধানের ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৫’ সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও কাপ্তাইসহ দেশের সকল নৌ ঘাঁটি, উপকূলীয় স্থাপনা এবং এলাকাসমূহে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব বনানীর নৌ সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি গাছের চারা রোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে নৌ সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঢাকা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নাবিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী সংবাদদাতা রাজশাহী-ঢাকা অভ্যন্তরীণ রুটে বেসরকারি বিমান সংস্থা ‘ইউএস-বাংলা’র ফ্লাইট চালু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটির বিমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফ্লাইটের যাত্রা শুরু করবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পর দ্বিতীয় কোন প্রতিষ্ঠান এ সেবা দিতে যাচ্ছে। এতে করে ফ্লাইটের সংখ্যা রাজশাহীতে আরো তিনদিন বাড়লো। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে তিনদিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন উইং সদস্য শেখ সাদী শিশির জানান, শনিবার বিকেল চারটা ১০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি বিমান সংস্থার ফ্লাইটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। সপ্তাহে তিনদিন ওই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ৭ এপ্রিল এ অভ্যন্তরীণ রুটে আবারো চালু হয় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র ফ্লাইট। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সপ্তাহের শুক্র, রবি ও মঙ্গলবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ।