10152019মঙ্গল
ঈদে ঘুরে আসুন পাহাড়, নদী, সবুজ সমােরাহে। দিগন্তে সমুদ্র। চারদিকে সবুজের সমারোহ। ফাঁকে ফাঁকে ধানখেত, ছায়াচ্ছন্ন কুটির। নেটং পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা টেকনাফ শহর l প্রথম আলোকক্সবাজার কিংবা সেন্ট মার্টিনে সারা বছরই পর্যটকদের ঢল থাকে। তবে এমন অনেকে আছেন, যঁারা কক্সবাজার গিয়েও টেকনাফ না বেড়িয়েই চলে আসেন। অথচ নাফ নদী, জলিলের দিয়া, নেটং পাহাড়, কুদুম গুহা আর সাদা বালুর নিরিবিলি সৈকতের হাতছানি এড়ানো ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সত্যি কঠিন। এবার ঈদের ছুটিতে তাই টেকনাফ ঘুরে আসতেই পারেন। সমুদ্রসৈকত টেকনাফ: পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শেষ সীমানা হচ্ছে টেকনাফ। এবার সৈকতে হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখানে সেন্ট্রাল রিসোর্ট হোটেলে চাইলে রাত যাপন করা যায়। হোটেল লবি থেকে দেখা যাবে সাগরসৈকত। টেকনাফ পুরোনো বাসস্টেশন থেকে রিকশা, অটোরিকশা ও চাঁদের গাড়িযোগে (জিপ) সমুদ্রসৈকতে যাওয়া যায়। জিরো পয়েন্ট থেকে চার কিলোমিটার দূরে টেকনাফ সমুদ্রসৈকত। সেখানে গিয়ে দেখতে পাবেন সারিবদ্ধ লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, জেলেদের মাছ ধরার অপরূপ দৃশ্য। টেকনাফ সৈকত পাড় থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার উত্তরে শীলখালী নামের স্থানে গেলে দেখতে পাবেন বিশাল আকৃতির সব পাথর। টেকনাফ থেকে নয় কিলোমিটার দক্ষিণ শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়ায় ডোবাচরও দেখে আসা যায়। শীত মৌসুমে এখানে বিপুলসংখ্যক অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। টেকনাফ সমুদ্রসৈকতমথিনের কূপ: টেকনাফ বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পুলিশ কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক মাথিনের কূপ। কলকাতার পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্যের সঙ্গে টেকনাফের জমিদার ওয়ানথিনের একমাত্র কন্যা মাথিনের নিবিড় প্রেমের সাক্ষী এই কূপ। এই কূপ থেকেই পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ধীরাজের সঙ্গে দেখা হয় মাথিনের। নেটং পাহাড়: শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে নেটং পাহাড়ে গিয়ে বন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এই পাহাড়ে হাতি, হরিণ, বানর, ভুতুম প্যাঁচা, পাহাড়ি মুরগি, ময়ূর, মেছো বাঘসহ কয়েক প্রজাতির পশুপাখির বসবাস। নেটং পাহাড়ে যাওয়ার পথে পড়বে পাহাড়ের গা বেয়ে নামা ঝিরি-ঝরনা। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে দেখা যায় পাহাড় সারি আর নাফ নদীর অপরূপ দৃশ্য। এই পাহাড়ের খুব কাছেই রয়েছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় তৈরি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বাংকার ও ব্রিটিশ স্থাপনা টি অ্যান্ড টি ভবন। এখানে সরু পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে প্রাচীন বৌদ্ধমন্দিরও দেখে আসতে পারেন। নেটং পাহাড়ের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মোছনী নামক স্থানে প্রান্তিক লেক ও ন্যাচারাল পার্ক অবস্থিত। হাতে সময় থাকলে একই যাত্রায় প্রান্তিক লেক ও ন্যাচারাল পার্ক ঘুরে আসতে পারেন। পার্কের পাশেই একটি নিরিবিলি হ্রদের তীরে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে চলে আসতে পারেন। তবে এ জায়গায় দল বেঁধে যাওয়াই ভালো। পার্কে প্রবেশ ফি ১০ টাকা। কুদুম গুহানাফ নদী ও জলিলের দিয়া: যেকোনো এক বিকেলে বেরিয়ে পড়ুন নাফ নদীতে সময় কাটাতে। এ সময় নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে হাঁটতে বেশ ভালোই লাগবে। নাফ নদীর মাঝখানে টেকনাফ স্থলবন্দরের পূর্ব পাশে জলিলের দিয়ার অবস্থান। যুগ যুগ ধরে টেকনাফের কিছু লোক ওই দ্বীপে চিংড়ি ও লবণের চাষাবাদ করে আসছিল। বর্তমানে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ পর্যটন এলাকা। টেকনাফ সদর থেকে নাফ নদীর দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার। অনেকে শহরের দিকে না গিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত পর্যটন হোটেল নেটং, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলো ও বন বিভাগের বাংলোয় রাতযাপন করেন। টেকনাফের নোয়াখালিয়া পাড়ায় অবস্থিত ঘুর পাহাড়কুদুম গুহা: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসার পথে হোয়াইক্যং। হোয়াংক্যংয়ের পাহাড়ে কুদুম গুহার অবস্থান। হোয়াইক্যং স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে শামলাপুর যাওয়ার পথেই পড়বে এটি। সেখানে যেতে হলে সহযোগিতা নিতে পারেন হোয়াইক্যং বন বিভাগের বন প্রহরীদের। যেতে হবে হেঁটে। সময় লাগবে প্রায় এক ঘণ্টা। কীভাবে যাবেন টেকনাফ: চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন, বহদ্দারহাট ও সিনেমা প্যালেস থেকে সকাল ছয়টা থেকে রাত তিনটা পর্যন্ত সৌদিয়া, এস আলম বাস চলাচল করে। কক্সবাজার এসে লিংক রোড ও জেলা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত টেকনাফের বাস চলাচল করে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ আসতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা।
বৃহস্পতিবার, 01 সেপ্টেম্বর 2016 21:31

ঐতিহাসিক কারাকোরাম মহাসড়ক

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক ১৯৭৯ সালে গত শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক কারিগরি নিদর্শন সাড়া ফেলে দিয়েছিল চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে কারাকোরাম মহসড়ক উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে। পাকিস্তান সেনা বাহিনীর প্রকৌশলীরাই পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে পথ কেটে বানিয়েছিলেন এই রাস্তা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে দুর্গম পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে তেরশ কিলোমিটারের এই পথ পশ্চিম চীনের কাশগরের সঙ্গে যুক্ত করেছিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদকে। কারাকোরাম মহাসড়কের আরেক নাম চীনে ফ্রেন্ডশিপ হাইওয়ে। ১৯৫৯ সালে শুরু হয়েছিল এই সড়ক তৈরির কাজ। খাড়া পাহাড় এবং দুর্গম পাহাড়ে কাজের কঠিন পরিবেশের মধ্যে এই পথ নির্মাণের কারণে কখনও কখনও একে বলা হয় বিশ্বের অষ্টম আশ্চর্য। কারাকোরাম পর্বতমালার মত দুর্গম এলাকা বিশ্বে আর নেই বললেই চলে। এই পাহাড়ের ৬০টি শৃঙ্গ আছে। এগুলোর উচ্চতা গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ মিটার। পাকিস্তান সেনা বাহিনীর কারিগরি শাখার সেসময় ২৮ বছর বয়স্ক প্রকৌশলী পারভেজ আকমল বলেন ভূতাত্ত্বিকদের জন্য এই পাহাড় একটা স্বর্গ, কিন্তু সড়ক নির্মাতাদের জন্য এধরনের এলাকা একটা বিভীষিকা। কারাকোরাম মহাসড়ক জনগণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেবার মাত্র এক বছর আগে একশ কিলোমিটার পথ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয় মিঃ আলমকে। দুর্গম এই পাহাড়ে পথ তৈরি ছিল ১৯৬০-৭০এর দশকে বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। তিনি সড়ক ব্যবস্থাপনা ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু ১০০ কিলোমিটারের ওপর রাস্তা বানানোর দায়িত্বই তার উপর ছিল না, দায়িত্বে থাকাকালীন ওই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষনের ভারও তার উপরে ছিল। এছাড়াও খঞ্জোরাব গিরিপথ পর্যন্ত গিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ কেমন এগোচ্ছে তা তাকে দেখতে হতো। কারাকোরাম পর্বতে ৪৭০০ মিটার উচ্চতায় খঞ্জোরাব গিরিপথ পাকিস্তান ও চীন সীমান্তের খুবই কাছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই চীনের সঙ্গে সংযোগের একটি পথের প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করলেও ১৯৫৯ সালের আগে এই পথ তৈরির কাজ শুরু হতে পারে নি। মিঃ আলম বলেন, "দেশ-ভাগের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ভারত কাশ্মীরের একটা বড় অংশ নিজের অর্ন্তভুক্ত করে নেয়। ফলে সেসময় পাহাড় দিয়ে চলাচলের যে রাস্তাটা ছিল তা বন্ধ হয়ে যায়। একমাত্র যাতায়াতের পথ হয়ে ওঠে কাঘান উপত্যকা দিয়ে। কিন্তু ওই পথে একটা সমস্যা ছিল। ওই রাস্তাটা বছরে মাত্র তিন মাস খোলা থাকত। ১৯৫৮ সালে যখন জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতায় আসেন – প্রেসিডেন্ট হয়ে- তিনি তখন গিলগিট – কারুড়া পথটি তৈরির নির্দেশ দেন।" মেজর আকমল বলছেন এই রাস্তা তৈরির দক্ষতা তখন পাকিস্তানের ছিল না। পাথরস্খলন- ভূমিধস, পাহাড়ি উচ্চতায় কাজ করা এসব দিক দিয়ে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও সম্পদের দারুণ অভাব ছিল। সৈনিকদের মাঠে যেভাবে কঠিন জীবন কাটাতে হয়, প্রত্যেক প্রকোশলীকে ঠিক সেভাবে কষ্ট সহ্য করে থাকতে হতো। ''সেখানে আবহাওয়া ও পরিবেশ এমন ছিল যে কোথাও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় –তুষারে বরফে তাদের শরীরে ক্ষত তৈরি হত। আবার একইসঙ্গে প্রচণ্ড কড়া সূর্যের তাপে তাদের চামড়া ঝলসে যেত। কাজেই প্রতিকূল আবহাওয়া সইয়ে না নেওয়া পর্যন্ত খঞ্জোরাব পৌঁছে কাজ শুরু করা তাদের জন্য অসম্ভব ছিল। আবহাওয়া, উচ্চতা, সইয়ে নেবার সুযোগ আমাদের দেওয়া হয়নি। কোনও সাহায্য ছিল না, ফলে বিষয়টা খুবই কঠিন হয়েছিল আমাদের জন্য।'' মেজর আকমলের মুখে ঐতিহাসিক এই রাস্তা তৈরির কাহিনি - পরিবেশন করেছেন মানসী বড়ুয়। মেজর আকমলের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসির ফারহানা হায়দার।
বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ও লম্বা কাচের সেতু। এই সেতু থেকে পৃথিবীর তলদেশও যেন দেখা যায়। এতটাই ভয়ঙ্কর! এতটাই সুন্দর! এতটাই রোমাঞ্চকর! গত শনিবার চিনের ঝাংজিয়াজিতে এই কাচের সেতু উদ্বোধন করা হয়। পর্যটকদের জন্য কাচের সেতু খুলে দিলেও, এখন এটি ট্রায়ালে রাখা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কারণ, গত বছর চিনেরই একটি কাচের সেতুতে চিড় ধরে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন পর্যটকেরা। তাই নতুন এই কাচের সেতু কতখানি নিরাপদ হবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন পর্যটকরা। এই সেতুর সঙ্গে ঝাংজিয়ার তিয়ানমেন পাহাড় ঘিরে আরও একটি কাচের রাস্তা রয়েছে। কাচের সেতু ও রাস্তা থেকে কেমন দেখতে লাগছে পৃথিবীটাকে?
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাস যেখানে উপস্থিত সেখানে ইতিহাসের না মিলিয়ে যাওয়া অধ্যায় যে একেবারে হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় তা হয়তো সকলেরই জানা৷ হারিয়ে গেলে অতীতের গল্প হয়তো অজানাই থেকে যেত৷ কিন্তু সেই অতীত যদি জীবন্ত হয়? কিংবা জীবন এবং মৃত্যুর মাঝখানে সেতুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে যদি? তবে তাকে অলৌকিক বলা চলে কি? এমনই এক প্রাচীন সমুদ্র তীরবর্তী হোটেল হল ‘দ্য কুইন মেরি হোটেল’৷ খুব আশ্চর্যের কথা হল, এই হোটেল আসলে একটি জাহাজ৷ ১৯৩০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত উত্তর আর্টলান্টিক মহাসাগরে চলত এই জাহাজ৷ কিন্তু ১৯৭০ সাল থেকে সমুদ্রে ভাসমান হোটেল হিসাবে রয়ে গিয়েছে এটি৷ শোনা যায়, সমুদ্রে থাকাকালীন বেশ কিছু মৃত্যুর সাক্ষী রয়ে গিয়েছে এই জাহাজ৷ আর সেই মৃত্যুর ইতিহাস এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে কুইন মেরি হোটেল৷ হোটেলের ভৌতিক ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন বহু মানুষ৷ শোনা যায়, হোটেলের সুইমিং পুলে নাকি দুই অশরীরীর দেখা মেলে আজও৷ পাশাপাশি হোটেলের বি ৩৪০ ঘরটিতে এমন বহু ঘটনা ঘটে যাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করা অসম্ভব৷ পাশাপাশি, হোটেলের করিডরে দেখা যায় সাদা পোশাকের এক মহিলাকে, কখনও আবার জাহাজের এক আর্দালিকে দেখা যায় সেখানে৷ আর সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার কী জানেন? এই মূর্তিগুলি নাকি চোখের সামনে থাকতে থাকতেই হঠাৎ উধাও হয়ে যায়৷
< > নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক ছোটখাটো একটা পাহাড়। এর চূড়ার কিনারায় একটি পাথরে স্রেফ দুই পায়ের ব্যবহারে ঝুলে রয়েছেন এক তরুণ। এ ছবি দেখলে কার না দেহের লোম দাঁড়িয়ে যাবে? ভয়ে রীতিমতো কুঁকড়ে যাবেন আপনিও। এ ঘটনা ঘটালেন ব্রাজিলের ২৭ বছর বয়সী এক রায়োট পুলিশ অফিসার। লুইজ ফার্নান্দো ক্যানডিয়া থাকেন রিও ডি জেনিরোতে। পেদ্রা ডা তার্তারুগা পাহাড়ে গেছেন এই কসরত করতে। কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং রশি ছাড়াই মাটি থেকে ৩০০ ফুট ওপরের একটি পাথরের কিনারে দুই পায়ে ঝুলে পড়লেন তিনি! লুইজ একটা অসম্ভব শারীরিক দক্ষতা দেখিয়েছেন। দুই পায়ের স্রেফ আঙুলের ব্যবহারে তিনি ঝুলে থাকলে পাথরের কার্নিসে। সমুদ্রতল থেকে ৩০০ ফুট ওপরে এ কাজে ব্যাপক স্নায়ুচাপ থাকে। তিনি জানান, পাহাড়ের ওখানে উঠেনি রশি ব্যবহার করে। তারপরও দুই পায়ে ঝুলে পড়ি কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই। দারুণ ভয় করছিল তা ঠিক। পড়ে গেলে মৃত্যু নির্ঘাত। ওখানে উঠে এ কাজ করার সময় অসুস্থ বোধ করছিলাম। সত্যি কথা বলতে কি, এটা জীবনে কয়েকটি মুহূর্তের একটি যখন পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ভয় মনে জেগেছে। রশি থাকলেও পড় যাওয়ার ভয় থেক যায়। এ কাজে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। তা ছাড়া ঝুলে থাকাকালীন অন্যদের সঠিক কোণ থেকে ছবি তোলার কাজও অনেক কষ্টে। কিন্তু সবই মনে হয় সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, জানালেন এই অসম সাহসী পুলিশ অফিসার। সূত্র : ডেইলি মেইল
শুক্রবার, 05 আগস্ট 2016 10:52

মনে হল আয়ু আর দু’তিন মিনিট

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক আগেও বহু বার দুবাই গিয়েছি। এ বার সিট ছিল ইকনমির প্রথম ডান দিকে জানলার পাশে। উপর থেকে ছোট ছোট প্লেনগুলোও দেখতে পাচ্ছি। বুঝলাম এয়ারপোর্টের কাছে পৌঁছে গিয়েছি। হু হু করে প্লেন নামছে। সব কিছু নিয়মমাফিক, স্মুদ। ছোট্ট ঝাঁকুনিতে বুঝলাম প্লেন রানওয়ে টাচ করেছে। কিন্তু, তার পরেই গন্ডগোল। মনে হলো, প্লেনটা আবার উপর দিকে উঠে যেতে চাইছে। অবাক হলাম, কী হল রে বাবা! সেকেন্ডের মধ্যে জানলা দিয়ে দেখলাম ডান দিকের ইঞ্জিনটা প্লেন থেকে আলাদা হয়ে সেই ইঞ্জিন ও প্লেনে আগুন ধরে গিয়েছে। গলার কাছটা শুকিয়ে এল! এক বার মনে হল, আর বোধ হয় ২-৩ মিনিট বাঁচব। সিটবেল্ট খুলে ফেলেছি। কিন্তু প্লেন তো হু হু করে রানওয়ে দিয়ে ছুটছে। মোবাইল এরোপ্লেন মোড-এ রাখা ছিল। ভাবলাম এখন তো সিগন্যাল পাব। স্ত্রী শীলাকে ফোন করে বলি, ‘ভালো থেকো, আমি চললাম।’ আবার মনে হলো, ও শুনে সামলাতে পারবে না। এ ভাবে কত ক্ষণ কেটেছে, বলতে পারব না। মনে মনে যিশুকে ডাকছি। প্লেনের মধ্যে তখন চিৎকার। আচমকাই বিশাল ঝাঁকুনি! প্লেন দাঁড়িয়ে গেল। সামনের দেওয়ালটা ধরে ফেলেছিলাম। নয়তো বড়সড় আঘাত লাগত আমার। যাত্রীরা তখন ছোটাছুটি করছে। সামনে ককপিটের পাশে এমারজেন্সি দরজার দিকে এগোতেই ভকভক করে কালো ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করল প্লেনে। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। সামনের দিক থেকে এক বিমানসেবিকা আমাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বললেন, ‘পিছনের দিকে যান, এ দিকে আসবেন না।’ মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম পিছনের এমারজেন্সির দরজা দিয়ে নামার জন্য হুড়োহুড়ি। আবার মনে হল, নাহ্! আজ প্রাণ নিয়ে প্লেন থেকে বেরোতে পারব না। আচমকা দেখি ডান দিকে এক বিমামসেবিকা একটা এমারজেন্সি দরজা সবে খুলেছেন। একেবারে আমার কাছেই। লাফিয়ে গিয়ে তাঁকে বললাম, ‘প্লিজ নামিয়ে দাও।’ বেলুনের মতো স্লিপ। সেখানে লাফিয়ে প্রায় ১৫ ফুট নীচে মাটিতে গিয়ে পড়লাম। উঠেই দৌড়। জীবনে এমন দৌড়োইনি। ৫৮ বছর বয়স হয়েছে আমার। এই বয়সে প্রায় ৮ মিনিট একটানা দৌড়! পিছনে এক বার তাকিয়ে দেখেছি প্লেন তখনও দাউদাউ করে জ্বলছে। মনে হচ্ছিল আর পারব না। এ বার পড়ে যাব। ঠিক সেই সময়ে প্রকাণ্ড আওয়াজ। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম প্লেনটা থেকে একটা আগুনের গোলা ছিটকে উঠে গেল আকাশে। আবার ছুট। এক সময়ে মাটিতে বসে পড়লাম। আর এক পা চলার মতো শক্তি ছিল না। আমাদের একে একে উদ্ধার করে নিয়ে গেল এমিরেটসের কর্মীরা। বন্ধুরা এসেছিল রিসিভ করতে। এয়ারপোর্টে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁদের সঙ্গে হোটেলে এসে উঠেছি। হাত-ব্যাগ, স্যুটকেস কিছু সঙ্গে নেই। বন্ধুর বিয়ে উপলক্ষে একা দুবাই আসা। বৃহস্পতিবারই রিসেপশন। উপহার কিনেছিলাম। তা-ও নেই কাছে। শুধু বুদ্ধি করে পাসপোর্ট আর টাকা পকেটে রেখেছিলাম! অনেক যাত্রীর পাসপোর্ট রয়ে গিয়েছে হাত-ব্যাগে। সে সব বোধ হয় পুড়ে খাক। বৃহস্পতিবার সকালে তিরুঅনন্তপুরম থেকে ছেলে জীতেন চলে এসেছে দুবাই। মনে হচ্ছে, নতুন এক জন্ম পেলাম। বন্ধুর বিয়েতে এখন আমিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু!
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক যৌনতার জন্য তাঁর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা প্লেন। আর বিমানে যৌনতায় লিপ্ত থেকে বার বার নাকি ধরাও পড়েছেন তিনি! শুনে অবাক হচ্ছেন তো। কিন্তু নিজের জীবনের এই গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন মডেল তথা অভিনেত্রী কারা ডেলেভিনজনে। ‘পেপার টাউন’-খ্যাত অভিনেত্রী সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে শেয়ার করেছেন এই বিস্ফোরক তথ্য। কারার কথায়, ‘‘আমি অনেক বার প্লেনের মধ্যে সেক্স করেছি। কিন্তু প্রতি বারই ধরা পড়ে গিয়েছি। একবার ওই অবস্থায় প্লেনের চেয়ারে বসেছিলাম আর উল্টো দিক থেকে এক ব্যক্তি আমাকে দেখছিল। এমন অবাক হয়েছিল যে কিছু বলতে পারেনি। শুধু সেবারই বোধহয় ধরা পড়িনি।’’ এমনকী সাক্ষাত্কারের মাঝেও ‘সুইসাইড স্কোয়াড’-এর কো-স্টার মার্গট রোবির সঙ্গে কারা নাকি এ সব নিয়েই আলোচনা করছিলেন। আর কোন কোন গুপ্ত জায়গায় তাঁরা যৌনতায় মাতেন, সে সবও নাকি উঠে এসেছে তাঁদের আলোচনায়। সব মিলিয়ে কারার এই বিস্ফোরক সাক্ষাত্কার নিয়ে এখন তুমুল চর্চা চলছে সিনে মহলে।
বৃহস্পতিবার, 14 জুলাই 2016 08:07

দুই বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক মিনস্ক: মুখোমুখি সংঘর্ষ হল দুই বিমানের। ঘটনাটি ঘটেছে বেলারসের মিনস্ক বিমানবন্দরে। যদিও উক্ত ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিমান দু’টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বিমান ছোট এবং অন্য বিমানটি অনেক বড় ছিল। জানা গিয়েছে, বিমান দু’টির একটি বলিভিয়া এয়ারলাইন্সের এবং অপরটি রুবি স্টার এয়াই ক্যারিয়ার কোম্পানির।
< > নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক সবচেয়ে আরামদায়ক বিমান ভ্রমন। সময়মতো গন্তব্য পৌছানো যায়। উপরে উঠার এ ভ্রমনে সেবা নিয়ে আবাক করার কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে স্টুয়াডেস (বিমানবালা)। কাজেই হোক বা নিছক ভ্রমণ। কোনও জায়গায় জার্নি করতে গেলে বেশির ভাগেরই পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে থাকে বিমানে যাতায়াত। কিন্তু, বিমান সেবিকাদের এক বিস্ফোরক স্বীকারক্তি শুনলে বিমানযাত্রা করার আগে দু’বার ভাবতেই হবে আপনাকে। একটি বিদেশি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ রকম একটি খবরে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও বিদেশি ওই সব সংস্থার কোনও বিমান সেবিকার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কী প্রকাশিত হয়েছে ওই এয়েবসাইটে? ভাঙা বিমান- বিশ্বাস করতে অসুবিধা হলেও এটাই সত্যি যে যখন বিমান আকাশে ওড়ে তখন নাকি তার কোনও না কোনও অংশ ভাঙা থাকে। বিমানের কোন অংশ ভাঙা যেতে পারে তার একটি তালিকা রয়েছে। একে বলে মিনিমাম ইক্যুইপমেন্ট লিস্ট। সেই তালিকানুযায়ী বিমানের কিছু অংশ ভাঙা হয়। যেমন, যদি কোনও বিমানের সার্টেন লাইট ভাঙা থাকে তা হলে বোঝানো হয় এই উড়োজাহাজ শুধুমাত্র দিনের বেলাতেই চলবে। ব্যাগেজ- খোদ বিমান সেবিকা এবং গ্রাউন্ড স্টাফরা বলেন বিমানে আপনার ব্যাগেজ মোটেও সুরক্ষিত নয়। অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা- আপনি যদি অফারে টিকিট কেটে থাকেন তা হলে আপনাকে যে খাবার দেওয়া হয় তা নিম্নমানের হতেও পারে। কারণ বিমান সেবিকাদের হাতে প্রতিটি যাত্রীর কিছু ব্যক্তিগত তথ্য থাকে। কোন যাত্রী বিমানযাত্রায় কতটা অভ্যস্ত, অফারে টিকিট কেটেছেন কিনা তাও জানা থাকে। সেই অনুযায়ী খাবার পৌঁছয় আপনার কাছে। পানীয় জল- বিমান সেবিকারা জানাচ্ছেন, বিমানে যতটা সম্ভব খোলা জল পান না করাই ভাল। কারণ জলের ট্যাঙ্ক অনেক দিন পর পর পরিষ্কার করা হয়। তবে প্যাকেজড ওয়াটার খেলে অসুবিধা নেই। ইলেকট্রনিক্স- এমনিতেই বিমানে ওঠার সময় সমস্ত ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় যাত্রীদের। কিন্তু জানেন কি বিমান সেবিকারা খোদ বিমানে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবহার করেন। বালিশ ও কম্বল- খোদ বিমান সেবিকারাই জানাচ্ছেন, বিমানের বালিশ, কম্বল প্রতি বার ব্যবহারের পরেই কাচা হয় না। সারা দিনের শেষে গন্তব্যে পৌঁছেই সেগুলি পরিষ্কার করা হয়। পাইলটই বস- জানেন কি বিমানের চালকের হাতে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া থাকে। যদি কোনও যাত্রী বিমানের মধ্যে গণ্ডগোল করতে থাকেন, বা কোনও সমস্যার সৃষ্টি করেন তা হলে চালকের অধিকার থাকে তাঁকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার। অক্সিজেন- বিমান সেবিকারা জানাচ্ছেন, যদি কোনও কারণে বিমানে অক্সিজেনের অভাব ঘটে, তা হলে আপনি ওই পরিবেশে সর্বাধিক ১৫ মিনিট সুস্থ থাকতে পারবেন। তার বেশি নয়।
< > নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক বালির পর বালি ছড়িয়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। আর মধ্য মুখ ঢেকে রয়েছে সুপ্রাচীন একটি সৌধ। তা আবার আড়াই হাজার বছর আগেকার। দক্ষিণ জর্ডনের পেট্রায় মাটির তলায় লুকিয়ে থাকা ওই সৌধের হদিশ মিলেছে সম্প্রতি। পেট্রার ওই এলাকাটি রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মধ্যেই পড়ে। একেবারে হালে জার্নাল ‘আমেরিকান স্কুল্‌স অফ ওরিয়েন্টাল রিসার্চ’-এ প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ ও ড্রোন থেকে তোলা ছবি ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমেই খ্রিস্টের জন্মের আগে চতুর্থ শতকে নির্মিত ওই সৌধটির হদিশ মিলেছে। তখনকার জর্ডনে সেটা নেবাতিয়ান রাজত্বের সময়। সেই সময় নেবাতিয়ান সভ্যতার বিস্তার ছিল জর্ডন, ইরাক থেকে শুরু করে লেবানন ও সিরিয়া পর্যন্ত। প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, পেট্রায় যে এলাকায় ওই সুপ্রাচীন সৌধের হদিশ মিলেছে, সেটি লম্বায় একটা অলিম্পিকের সুইমিং পুলের মতো। আর চওড়ায় সোটা তার প্রায় দ্বিগুণ। বেলেপাথর দিয়ে বানানো ওই সৌধটি নেবাতিয়ান রাজত্বে একটি রাজকোষ ছিল বলেই মনে করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। যে গবেষকদল ওই সুপ্রাচীন সৌধটি আবিষ্কার করেছেন, তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন বার্মিংহামের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক সারা পার্কাক ও ‘কাউন্সিল অফ আমেরিকান ওভারসিজ রিসার্চ সেন্টার’-এর কার্যনির্বাহী অধিকর্তা ক্রিস্টোফার টাট্‌ল। < >