07092020বৃহঃ
শিরোনাম:
পিরোজপুর সংবাদদাতা
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে নতুন পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানে তাদের সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মন মানসিকতায় বেড়ে উঠছে তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। দেশে যে পরিবর্তনের ধারা বহমান সেদিকে বর্তমান সরকার যেমন অগ্রাধিকার প্রদান করেছে তেমনি তা কার্যকর করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরতে পিরোজপুরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৫” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রধানতম সাফল্য ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার। তিনি চান পৃথিবীর সাথে সাথে আমাদেরও গতি বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সাব মেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়েছে। অনেক দিন আগে বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে ঢুকতে পেরেছে সত্য। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী হিসাবে অধুনা আমাদের দেশ পরিচিতি পেয়েছে। মোবাইল ফোন ক্রমান্বয় আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে গেছে।

তথ্য প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু করতে আমরা সক্ষম হওয়ায় দেরিতে হলেও অন্যান্য দেশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম আধুনিক জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করতে সুযোগ পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম দেশের প্রচলিত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। টাইম ইজ মানি-এই ধারণা নতুনদের আকৃষ্ট করছে। তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানকে আয়ত্ত করে নিম্ন আয়-স্বল্প আয় এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে নতুনদের আগ্রহ বাড়ছে। এটাই উন্নয়নের সূচক, যার সাথে আমাদের   রাজনীতিবিদদের চিন্তা-চেতনার ব্যবধান লক্ষণীয়। তথাকথিত রাজনীতিবিদরা উত্খাত-মোকাবেলা, জ্বালাও-পোড়াও প্রতিহত করা ইত্যাদি প্রথা সিদ্ধ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করে চলেছেন তা নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা। মনে রাখতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বর্তমান সরকারের আধুনিক ও সময় উপযোগী কার্যক্রম হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যাপক সম্প্রসারণ। যা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য উত্স্বর্গকৃত।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের নিজের দিকে, সমাজের দিকে, মানুষের দিকে তাকিয়ে চলার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। তাঁরা যা চাচ্ছেন তা সনাতনী ধারায় অর্জন সম্ভব নয়, তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নতুন ধারার চিন্তা ভাবনায় যুক্ত করতে ব্যর্থ হলে তারাই পিছনে পড়ে যাবেন। মানুষের বর্তমান চাহিদা বা প্রত্যাশা আগের দিনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ২০/৩০ বছরে মানুষ জিআর-টিআর-কাবিখা-ঢেউ টিন ইত্যাদি নানা সাহায্য সহযোগিতা দাবি করত। যা তাদের দারিদ্র্যের সাথে সহাবস্থানে অভ্যস্ত করে তোলা বা ক্ষোভ-রোষ প্রশমনের কাজে লাগাতো মহল বিশেষ। এখন তাদের জীবন মানের পরিবর্তনের ধারায় চাহিদার তালিকায় এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি। যে তালিকায় তথ্য প্রযুক্তি উপকরণাদিও রয়েছে। নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল চিন্তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। নেতাদের এই পরিবর্তন ধারার প্রতি খেয়াল করে সেকেলে নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রজন্মের আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাগ্য পরিবর্তনের সচেষ্ট মানুষকে ঘেরাও-হরতাল-অবরোধ দিয়ে বা অধিকার হরণ করে দাবায়ে রাখা যাবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, পিরোজপুর তথা সারাদেশে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে প্রণিধান যোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৩ বছরের তিলে তিলে পরিবর্তন নারীদের পুরুষের পাশাপাশি নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছে। পিরোজপুরে নারীদের এই ভাবমূর্তি সারাদেশে তুলে ধরতে হবে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের এ ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ফকরুল আলম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালাহ্উদ্দিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মানিক হার রহমান। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুধী সমাজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং ডিজিটাল উপকরণাদি ও উদ্ভাবিত সরঞ্জামাদি দেখেন।

তিন দিনের ডিজিটাল মেলায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং ইনোভেশন বিষয়ক তিনটি সেমিনার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আইসিটি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচি থাকছে। এছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে পরিচিতি লাভ করতে পারে তার সুযোগ এ মেলায় থাকবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা মেলা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা। মেলার সমাপনীতে প্রতিযোগীদের ১৩টি পুরস্কার দেয়া হবে। মেলায় তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় ২৭টি স্টল থাকবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কে এম এ আউয়াল এমপি এবং দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস প্রধান অতিথি থাকবেন।

অন্যদিকে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন গতকাল বিকালে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলেন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। যাতে আমরা উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়াতে পারি সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে দক্ষিণাঞ্চলের নেতৃত্বের অনৈক্যের কারণে ন্যায্য হিস্যা থেকে বরিশাল অঞ্চল বঞ্চিত হয়েছে। তারপরও সাহস, মনোবল, আন্তরিকতা ও ঐকান্তিকতাকে ভিত্তি করে এই অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়ন ধারাকে পশ্চাত্পদ অবস্থা থেকে বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃষ্টিগোচর পর্যায়ে আনা গেছে। যেখানে এলাকার মানুষের সমর্থন আমাদের পাথেয় ছিল।  সর্বোপরি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক দৃষ্টি রয়েছে বলে অতীতে যেমন আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি আবার বর্তমান ও আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এ দু’টি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন প্রমুখ। সভায় পিরোজপুরের দামোদর খাল পুনঃখনন ও বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গন থেকে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের বিষয় আলোচনা হয়।

এদিকে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাটাজোট ভায়া নতুনহাট সড়ক উন্নয়ন, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বটতলা হাট ভায়া উত্তর কলারণ দাখিল মাদ্রাসা সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন এবং ঘোষেরহাট বাজার থেকে খেজুরতলা বাজার সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজ। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে পাড়েরহাট, বালিপাড়া ও পর্ত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ত্রাণ বিভাগের উদ্যোগে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। এ সময় জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, জিয়ানগর উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও পর্ত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, জেপি’র সদস্য সচিব ও বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা জেপি নেতা হারুন অর রশীদ পান্না, আনিসুর রহমান, কাওছার আহম্মেদ দুলাল, মিজানুর রহমান, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ানগরে মন্ত্রী স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এলাকার মানুষ যাতে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। মনে রাখতে হবে উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার।   

ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, সকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়ার চরখালী বিসমিল্লাহ চত্বরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ সময় পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুন্নবী তরফদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান খলিল, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশীদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, নদমুলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভিটাবাড়িয়া মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, আবুল কালাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক জোমাদ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে নদমুলা বাজার সাইক্লোন শেল্টার প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
বুধবার, 14 জানুয়ারী 2015 08:52

পর্যটকশূন্য বান্দরবান

বান্দরবান সংবাদদাতা
বিরোধী দলের চলমান অবরোধের কারণে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও বান্দরবান পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ জেলায় ধস নেমেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়। লোকসান গুনছেন আবাসিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ এবং রেস্টুরেন্ট মালিকরা। গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
 
পর্যটন রিসোর্ট হলিডে ইন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন জানান,দুবছর ধরে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল পর্যটন শিল্প। গত বছরের নভেম্বর থেকে ব্যবসায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করে। কিন্তু আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধস নেমেছে এ ব্যবসায়।
পালকি গেস্ট হাউজের ম্যানেজার মোহাম্মদ মিটু বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে গেস্ট হাউজের কক্ষগুলো খালি।

অগ্রিম বুকিং করা রুমের টাকাও ফেরত নিচ্ছেন পর্যটকেরা। সহসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যটনের ভরা মৌসুম। প্রতিবছর এই সময়ে বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ঢল নামে। কিন্তু অবরোধের কারণে এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, স্বর্ণ মন্দির, শৈল প্রপাত, বগালেক ও নীলগিরিসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো।

বান্দরবান হিলসাইড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মনসুর বলেন, বিদেশি পর্যটকরাও বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
এছাড়া ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন পর্যটকদের উপর নির্ভরশীল কোমর তাঁত এবং হস্তশিল্পের সঙ্গে জড়িত পাহাড়িরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী থুইনকেল বম জানান, পর্যটক না থাকায় তাঁতে তৈরি কাপড়-পোশাক এবং বাঁশের তৈরির হস্তশিল্পের বিক্রি একদম কমে গেছে। এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় এগারো হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে ভুগছেন। পরিবহন শ্রমিক মোহাম্মদ মনসুর বলেন, জেলায় পর্যটকবাহী একশ’ থেকে দেড়শ’টি জীপসহ অন্যান্য ট্যুরিস্ট গাড়ি রয়েছে। পর্যটক না আসায় এসব গাড়ির শ্রমিকরা ভীষণ কষ্টে আছেন।

জেলা পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নতুন বছরের শুরুতে প্রতিবছর জেলা সদরের ৪৫টি হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, শতাধিক ট্যুরিস্ট গাড়ি এবং পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকে ভরপুর থাকে। কিন্তু এখন সবগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে আরো কিছুদিন চললে লোকসানের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার এবং বিরোধী দলকে ক্ষতিকর কর্মসূচি পরিহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসনের ডেপুটি নেজারত এইচএম আল মুজাহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পর্যটন মৌসুমের কথা চিন্তা করেই পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও স্পটগুলো জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ডেস্ক
এয়ার এশিয়ার ধ্বংসাবশেষ তোলা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার ডুবুরিরা বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার এশিয়া বিমানের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারটি উদ্ধার করেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিমানটির ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও খুঁজে পেয়েছে, যদিও সেটি এখনো জলের তলা থেকে তোলা সম্ভব হয়নি।

ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডারকে একসঙ্গে 'ব্ল্যাক বক্স' বলা হয়।

গত ২৮শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সারাবায়া থেকে ১৬২ জন যাত্রী নিয়ে এয়ার এশিয়ার সিঙ্গাপুরগামী বিমানটি নিখোঁজ হয়। বিমানটিকে শেষপর্যন্ত জাভা সাগরে খুঁজে পাওয়া গেলেও এর ধ্বংসাবশেষ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকর্মীরা বেশ কিছু যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
তবে তারা মনে করছেন বেশিরভাগ যাত্রীর দেহাবশেষ এখনো বিমানের ফিউজেলাজে আটকা পড়ে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
যোগদানের প্রথমদিনই বিমান নির্বাহী পরিচালকের সাথে বৈঠকে মিলিত হন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বৃটিশ নাগরিক কায়েল হেয়ূড।

বাণিজ্যিক বিমান চলাচলশিল্পে তাঁর ২৮ বছরের কর্ম-অভিজ্ঞাতাকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে  সাথে নিয়ে বিমানকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন কায়েল হেয়ূড।

১৯৮৬ সালে বৃটিশ এয়ারওয়েজে কর্মজীবন শুরু করেন কায়েলহেয়ূড। বৃটিশ এয়ারওয়েজ-এক টানা ১৮ বছর কাজ করার পর তিনি ক্রমান্বয়ে গালফ এয়ার, এতিহাদ, এয়ার এ্যারাবিয়া,  নাস এয়ার-র  গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিমানে যোগ দেওয়ার পূর্বে তিনি এয়ার উগান্ডার প্রধান নির্বাহী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।

বিমানবাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এ যাবত অর্জিত সাফল্যের প্রশংসা করে কায়েলএর সম্ভাবনারকথা-ও উল্লেখকরেছেন এই বলে, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের আধুনিকায়নের অগ্রযাত্রার এই লগ্নে বিমানের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব গ্রহণ করাটা একট চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। সকলের সহযোগিতায় বিমানকে তার যোগ্য আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে আমি বদ্ধ পরিকার’।

কায়েলের যোগদানকে বিমানের জন্য একটি মাইলফলক উল্লেখ করে এয়ার মার্শাল জামাল উদ্দিন আহমেদ (অবঃ) বলেন, ‘বিমান চলাচল ব্যবসায় পরিচালনায় কায়েলের আছে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা। আমারবিশ্বাস, তিনি তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিমানকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন, যাতে করে সকলে মিলে বিমানকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারবে যেটির জন্য গত ৬ বছর ধরে আমরা নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছি’।

আপৎকালীন সময়ে দ্রুতকার্যকরী ভূমিকা নেওয়ার জন্য কায়েল প্রশংসিত হয়েছেন বহুবার। প্রতিষ্ঠানে যুগোপযোগী পরিবর্তন ঘটাতেও সিদ্ধ হস্ত কায়েল। তাঁর প্রজ্ঞা ও মেধা কাজে লাগিয়ে অনেক দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে অতীতে বহুবার।
অপেক্ষাকৃত তরুণ, কায়েল হেয়ূড বিবাহিত এবং ১ কন্যা সন্তানের জনক।    

ডেস্ক
বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ভারতের বিমানবন্দরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার কাবুলগামী কোনো বিমান ছিনতাই করা হতে পারে মর্মে গোয়েন্দারা সতর্ক করার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খবর এনডিটিভিবিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ভারতজুড়ে সতর্কতা
 
সতর্ক বার্তায় বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভারতের সিভিল অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তা বিভাগের প্রতিও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
 
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সতর্কতা জারির পর তারা বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানের উদ্দেশে যাওয়া ফ্লাইটগুলো বেশি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
 
এর আগে গত শনিবার এয়ার ইন্ডিয়ার কলকাতা অফিসে ফোন করে বিমান ছিনাতইয়ের হুমকি দেয় এক ব্যক্তি। এর পর ওই হুমকিদাতাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
 
আফগানিস্তানে বর্তমানে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা আফগান নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে আসছেন। এসব কারণে তালেবান ভারতীয় বিমান ছিনতাই করতে পারে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।
 
১৯৯৯ সালে একবার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান অপহরণ করে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এর পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারতের বিভিন্ন জেলে থাকা সন্ত্রাসীদের মুক্তি দাবি করে তারা।
বুধবার, 31 ডিসেম্বর 2014 08:22

জাভা সাগরে হদিস মিলল বিমানের

সংবাদ সংস্থা
সত্যি হল আশঙ্কাই।
এয়ার এশিয়ার বিমান কিউজেড-৮৫০১ নিখোঁজ হওয়ার তিন দিনের মাথায় জাভা সাগরে ভেসে উঠল মৃতদেহ ও ধ্বংসাবশেষ। সেগুলি যে উধাও হয়ে যাওয়া বিমানেরই অংশ, মঙ্গলবার রাতে সে কথা সরকারি ভাবে জানিয়ে দিল ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন।

জাভা সাগরে এ দিন সকাল ছ’টা থেকে শুরু হয়েছিল তল্লাশি। বেলা ১২টা ৫০-এ ইন্দোনেশিয়ার বায়ুসেনার একটি বিমান প্রথম লক্ষ করে, জলের মধ্যে বড়সড় ছায়া দেখা পড়ছে কিছুর। তার পরেই শোনা যায়, জলে ফুলে-ফেঁপে ওঠা দেহ ভাসতে দেখেছে নৌ-সেনার জাহাজ। ইন্দোনেশিয়ার নৌ বাহিনী সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৪০টি দেহ উদ্ধার করেছে তারা।

রবিবার ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে ১৬২ জন সওয়ারি নিয়ে মাঝ আকাশে উধাও হয়ে যায় এয়ার এশিয়ার বিমান কিউজেড-৮৫০১। আজ রাজধানী জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত ডিজি জোকো মুরজাতমোদজো বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার খবর জানান সাংবাদিকদের।

রেডারে শেষ বার যেখানে এয়ারবাস ৩২০-২০০-কে দেখা গিয়েছিল, তার ৬৬ মাইলের মধ্যেই মঙ্গলবার মিলল বিমানের কাঠামোর কিছু অংশ। তল্লাশি অভিযানের মূল দায়িত্ব রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির উপর। তাদের প্রধান বামবাং সোয়েলিস্টিও এ দিন জানিয়েছেন, উজ্জ্বল লাল-কালো ও সাদা রঙের অনেক জিনিস ভাসতে দেখা গিয়েছিল বোর্নিওর সেন্ট্রাল কালিমানটন প্রদেশের পাঙ্গকালান বান-এর প্রায় ১০০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। পরে ডুবুরি নামিয়ে দেখা যায় সেগুলি আসলে যাত্রীদের সুটকেস, লাইফ জ্যাকেট ও বিমানের দরজা।

সোয়েলিস্টিওর সাংবাদিক বৈঠক আজ সরাসরি সম্প্রচার করা হয় ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় টিভি-চ্যানেলে। উদ্ধারকাজের ভিডিও যখন দেখানো হচ্ছে, ক্যামেরায় ধরা পড়ে জলে পচে যাওয়া বিকৃত লাশের ছবি। তবে উদ্ধার হওয়া দেহগুলিতে কোনও লাইফ-জ্যাকেট ছিল না। নৌসেনা ৪০টি ফুলে-ফেঁপে ওঠা দেহ উদ্ধারের কথা জানালেও সরকারি ভাবে অবশ্য এ নিয়ে কিছুই বলা হয়নি।

অলৌকিক কিছু হবে, এই আশাটুকু আঁকড়েই তিন দিন ঠায় বিমানবন্দরে বসে ছিলেন নিখোঁজ যাত্রীদের আত্মীয়রা। টিভির পর্দায় আটকে ছিল চোখ। সোয়েলিস্টিওর সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়জনের চেনা চেহারার ওই বীভৎস ছবি দেখে আর বাঁধ মানেনি তাঁদের আবেগ। আতঙ্ক-উৎকণ্ঠার প্রহর মুহূর্তে বদলে গেল হাহাকারে। ভয়ঙ্কর এই পরিণতি হয়তো আঁচ করেছিলেন, কিন্তু খবরটা যখন সত্যিই এল তা মেনে নিতে পারলেন না অনেকেই। সুরাবায়া বিমানবন্দরের ক্রাইসিস সেন্টারের মেঝেতে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লেন দু’জন। শোকে স্তব্ধ এয়ার এশিয়ার সিইও টনি ফার্নান্ডেজও। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “মনের অবস্থা বলে বোঝাতে পারব না। যাত্রীদের পরিবারের পাশে আছি।”

উদ্ধার হওয়া দেহ ও বিমানের কাঠামোর অংশ হেলিকপ্টারে করে তুলে আনা হচ্ছে বেলিটাং দ্বীপে। বিকৃত দেহ রাখার জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে সেখানকার হাসপাতালগুলিকে। শোনা যাচ্ছে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো যাবেন বেলিটাং দ্বীপে। মৃতদের আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করারও কথা আছে তাঁর।

উধাও বিমানের ধ্বংসাবশেষ মেলার পরই ওই এলাকায় আরও জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি। ক্ষীণ শব্দ তরঙ্গ ধরা পড়বে, এমন উন্নত প্রযুক্তির জাহাজ ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে। নামানো হয়েছে ডুবুরিও। জাভা সাগরের প্রায় ১৫৬০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে ১৩টি সেক্টরে ভাগ করে এ দিন নজরদারি চালায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ার বিমান ও জাহাজ। এত দিন এয়ারবাস ৩২০-২০০-র খোঁজ সীমিত ছিল কেবল জাভা সমুদ্রেই। আজ বোর্নিওর ছোট ছোট দ্বীপেও শুরু হয়েছে তল্লাশি। ইন্দোনেশিয়ার সাহায্যের ডাকে সাড়া দিয়ে জাহাজ পাঠাচ্ছে আমেরিকা, চিন এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

তিন দিন পর নিখোঁজ বিমানের হদিস মিললেও দুর্ঘটনা কী ভাবে ঘটল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কিন্তু কাটেনি এখনও। আবহাওয়া খুব খারাপ, ইন্দোনেশিয়ার এটিসিকে শেষ বার এমনই বার্তা পাঠিয়েছিলেন চালক ইরিয়ান্তো। বিমানটির উচ্চতা সে সময় ছিল ৩২ হাজার ফুট। ইরিয়ান্তো তা বাড়িয়ে ৩৮ হাজার ফুট করার অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান দিয়ে ওই সময়ই উড়ে যাওয়ার কথা ছিল আর একটি বিমানের। তাই চালকের আর্জিতে সাড়া দিতে পারেনি এটিসি। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই রেডার থেকে মুছে যায় কিউজেড-৮৫০১।

খারাপ আবহাওয়া দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, এমন আভাস মিলেছিল রবিবার দিনই। বিমান পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত অনেকের কথায়, জাভা সাগরের উপরের এই অঞ্চলকে ‘বজ্রপাতের কারখানা’ বলা চলে। ঘন ঘন বজ্রপাতে বিগড়ে যেতে পারে বিমানের দিগ্নির্ণয় যন্ত্রের চুম্বক। প্রচন্ড ঝড়-বৃষ্টিতে বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ইঞ্জিনেরও। বিমানের শেষ পাওয়া ছবি দেখে বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই আবার ধারণা, সেই সময় বিমানের গতি অস্বাভাবিক ভাবে কমিয়ে দিয়েছিলেন চালক। কম গতির কারণেই হয়তো এয়ার পকেটে পড়ে আর শেষরক্ষা করতে পারেননি তিনি।

একের পর এক আকাশ-বিপর্যয়ের পিছনে অবশ্য আবহাওয়ার পরিবর্তনকেই দুষছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েক বছর আগেই তাঁরা সতর্ক করেছিলেন, দূষণ রোখা না গেলে আর মসৃণ থাকবে না আকাশ পথে যাত্রা। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক তাঁর গবেষণা পত্রে হিসেব করে দেখান, দূষণ যদি এই হারে বাড়ে, ২০৫০ সালে শুধু ইউরোপ-উত্তর আমেরিকাতেই দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

তবে কিউজেড-৮৫০১ ভেঙে পড়ার পিছনে আবহাওয়াই এক মাত্র কারণ কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ হাতে পাওয়া যায়নি ব্ল্যাক বক্স। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই আবার প্রশ্ন, একুশ শতকে এত উন্নত জিপিএস ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিমানটির হাল-হকিকত জানতে এতটা সময় পেরিয়ে গেল কেন? এডিএস-বি নামে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ছিল এয়ারবাস ৩২০-২০০-এ।  ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে সেটি সব চেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি নয় বলেই দাবি এক মার্কিন পত্রিকার।

এয়ার এশিয়ার এই বিমানের মতোই দশ মাস আগে মাঝ আকাশে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল মালয়েশিয়ান এয়ার লাইন্সের এমএইচ-৩৭০। ভারত মহাসাগর তোলপাড় করে খুঁজেও পাওয়া যায়নি তার হদিস। বিমানের সঙ্গেই হারিয়ে গিয়েছেন তার ২৩৯ সওয়ারি। কিন্তু এর পরেও যাত্রী নিরাপত্তা বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থার হাল যে মোটেই বদলায়নি, প্রাণ দিয়ে বুঝিয়ে গেলেন আরও ১৬২ জন।

বিপাকে এয়ার এশিয়ার অনেক উড়ান

এয়ার এশিয়ার বিমান দুর্ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনায় ফের বিতর্কে উঠে এল এয়ার এশিয়ার নাম। মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১০ নাগাদ এয়ার এশিয়ার একটি উড়ান ব্যাঙ্ককের ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কোন কেনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এর কিছু ক্ষণ পরেই বিমানকর্মীরা কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি লক্ষ করেন। সেই কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটিকে তড়িঘড়ি আবার ডন মুয়াং বিমানবন্দরেই ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ত্রুটির কারণ এখনও জানা যায়নি। একই কারণে বোগোটা থেকে মায়ামিগামী এয়ার এশিয়ার আর একটি বিমানের পথ বদলে কিংসটনে অবতরণ করানো হয়। বিমানে ৯ জন কর্মী ও ১৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্য দিকে, মঙ্গলবার ম্যানিলায় অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য এয়ার এশিয়ার একটি বিমান অবতরণের সময় বিপত্তির মুখে পড়ে। বিমান বন্দর সূত্রের খবর, বিমানটিতে সব সমেত ১৫৯ জন আরোহী ছিলেন। এ দিন বিমানটি ম্যানিলায় নামার সময় রানওয়ে পেরিয়ে একটি ঘাসের জমিতে আটকে যায়। নিরাপদে আরোহীদের নামিয়ে আনার জন্য আপৎকালীন একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়। হতাহতের খবর নেই। আনন্দবাজার।

ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের খোঁজে আজ সোমবার সকাল থেকে তল্লাশি শুরু হয়েছে। আকাশ ও নৌপথে শুরু হয়েছে এই অনুসন্ধান। এয়ার এশিয়ার ওই উড়োজাহাজ গতকাল রোববার ১৬২ জন যাত্রী নিয়ে জাভা সাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হারিয়ে যায়। নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনেরা আপনজনদের খোঁজ পেতে ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছেন। আজ এএফপির খবরে এ কথা জানানো হয়।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির ডেপুটি অপারেশনস চিফ তাতাং জয়েনউদ্দিন বলেন, ‘এয়ার এশিযার ওই উড়োজাহাজের খোঁজে আজ ভোর ছয়টা (স্থানীয় সময়) থেকে তল্লাশি শুরু করেছি। আমরা পূর্ব বেলিতাং দ্বীপের দিকে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আশা করছি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর জাহাজ এবং বিমান দিয়ে আমাদের তল্লাশি অভিযানে সহযোগিতা করবে। শিগগিরই ওই উড়োজাহাজের খোঁজ পাব বলে আশা করছি।’
এয়ারবাস এ৩২০-২০০ উড়োজাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিলই
ডেস্ক
একশ বাষট্টিজন যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুরগামী এয়ার এশিয়ার একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে।

এালয়েশিয়ার সাথে সম্পর্ক রয়েছে এমন তৃতীয় এ যাত্রীবাহী বিমানটি নিখোঁজ হলো। বিমানটিতে মোট ১৬২ জন যাত্রী ছিল।

বিমানটিকে খুঁজে বের করার জন্য ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপোরের কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে।

তবে ঐ অঞ্চলে এখন গভীর রাত হওয়ার কারণে তল্লাশি আপাতত স্থগিত রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায় শহর থেকে দু'ঘণ্টার এই ফ্লাইটের মাঝামাঝি সময়ে বিমানটির সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসময় বিমানটি ছিলো জাভা সাগরের ওপরে।

এয়ার এশিয়া বলছে, খারাপ আবহওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের জন্যে তারা পাইলটের কাছ থেকে একটি অনুরোধ পেয়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হয়েছে যে ঘন মেঘ এড়াতে পাইলট আরো উচুতে উঠার অনুমতি চেয়েছিলেন। বিবিসি।
যাত্রীদের স্বজনদের কান্না।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র- "বিমানটি জাকার্তা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ করে সকাল ৬টা ১২ মিনিটে। সে সময়ে ও বিমানটি কোথায় ছিলো সেটা জানা যাচ্ছিলো। ধরা পড়ছিলো র‌্যাডার স্ক্রিনে। বিমানটি থেকে বলা হয় যে তারা মেঘ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তখন তারা রুট পরিবর্তনেরও অনুরোধ করেন। তবে সেখান থেকে কোনো ধরনের বিপদের সঙ্কেত দেওয়া হয়নি "।

নিখোঁজ বিমানটির খোঁজে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সামরিক বিমান অভিযান শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়েনি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত হয়ে যাওয়ার কারণে আজকের মতো এই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী ইগনাসিয়াস জোনান, "আমরা এখনও তল্লাশি চালাচ্ছি। বিমানটির সাথে সবশেষ যেখানে যোগাযোগ হয়েছিলো সেখানেও খোঁজা হচ্ছে। আরো ব্যাপক জায়গা আমরা অভিযান চালাবো। ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী, জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থা, সিঙ্গাপুরের দপ্তরও এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে"।

তিনি আরও বলেন, "সকল উপকূল রক্ষী এবং সমুদ্র তীরবর্তী সকল রেডিও স্টেশনকে এই খবর জানানো হয়েছে। সমুদ্রের ওই এলাকা দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে তাদেরকেও এবিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে"।

নিখোঁজ এই বিমানে ১৬২ জন যাত্রী ছিলো, যাদের বেশিরভাগই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

বিমানটি খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না - এই খবর ছড়িয়ে পরার পরই যাত্রীদের আত্মীয় স্বজনরা বিমান বন্দরগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন।

এয়ার এশিয়ার ৪৯ শতাংশ মালিকানা মালয়েশিয়ার।

এর আগে, এবছরেই মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার দুটো বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

তার একটি গঐ৩৭০ মার্চ মাসে ২৩৯ জন যাত্রী এবং ক্র নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।

সেই বিমানটির আজও কোনো হদিশ মেলেনি।

আর গঐ১৭ গত জুলাই মাসে ইউক্রেনের আকাশে গুলি লেগে মাটিতে পড়লে যায়, যাতে প্রাণ হারায় ২৯৮ জন।

ডেস্ক
১৬২ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে এয়ার এশিয়ার একটি বিমান নিখোঁজ হয়েছে। খবর ওয়াশিংটনপোস্ট’র। বিস্তারিত আসছে-----------------

বৃহস্পতিবার, 18 ডিসেম্বর 2014 23:29

রাজশাহীতে কম্পিউটার মেলার তরুণদের ভিড়

রাজশাহী সংবাদদাতা
 
রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে পাঁচদিনব্যাপী কম্পিউটার মেলা জমে উঠেছে। বিসিএস ডিজিটাল এক্সপোর উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিনে ভেন্যুর একটি স্টলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক জটলা। গিয়ে দেখা গেলো গিগাবাইটের আয়োজনে কম্পিউটার গেমে খেলতে ব্যস্ত  তরুণরা। তথ্য প্রযুক্তির পণ্য ঘরে ঘরে পরিচিত করতে মেলায় ৫৫টি স্টল ও ৬টি স্পন্সর প্যাভিলিয়ন বসেছে। শুধু শিক্ষার্থী নয় অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্য কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। এমনটাই জানালেন আয়োজক বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির রাজশাহী শাখার সেক্রেটারী আবুল ফজল কাশেমী।

টেক ল্যাবের পরিচালক আবুল ফজল কাশেমীর বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ব্যবসায়ীরা তাদের পেশাকে শুধু ব্যবসা হিসেবে না দেখে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে নিলে গণজোয়ার তৈরি করা সম্ভব।

মেলা চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। মেলার শেষ দিনে র‌্যাফেল ড্র’য়ের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ১০টি পুরস্কার প্রদান করা হবে।