10152019মঙ্গল
শুক্রবার, 06 মার্চ 2015 16:35

ছেঁউড়িয়ায় লালন দোল উৎসব



কুমারখালী (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা

বাউল সম্রাট লালন শাহের গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে ছেঁউড়িয়া। অন্য গুরু-সাধুদের পাশাপাশি নতুন খেলাফতপ্রাপ্ত সাধুরা চরম আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন। এবার খেলাফত পেয়েছে এমন সাধুরা সুর আর বাদ্যে ভাব-জগতের অপরূপ সাজে দোল পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত হয়ে গলা ছেড়ে গেয়েছেন: ‘দয়াল চাঁদ আসিয়া আমার পার করে নিবে, এমন সুভাগ্য আমার কবে হবে’। কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ফকির লালন শাহের ছেঁউড়িয়ায় দোল উত্সবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দোল পূর্ণিমার আলোয় আলোকিত হয় পুরো লালন আখড়াবাড়ি।

ছেঁউড়িয়ায় আসা লালন ভক্ত কবি বাবলু জোয়ারদার বলেন, লালনের বিশ্ব মানবতার বাণী আজ আনুষ্ঠানিক মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী তার মানবতার আলো জাতিতে জাতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজবাড়ির কালুখালি উপজেলা থেকে আসা ফকির মোতালেব বলেন, বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী— দোল পূর্ণিমায় বৃন্দাবনের নন্দন কাননে ভগবান কৃষ্ণ তার সখী রাধিকা দেবীকে নিয়ে রঙের খেলায় মেতেছিলেন। আবার এই দোল পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন বলে একে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ফকির লালন শাহ ভক্ত-শীর্ষদের নিয়ে ছেঁউড়িয়ায় মহা ধুমধামে দোল উত্সব করতেন।

লালন দোল উত্সবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সকালে সাঁইজীর সমাধি প্রাঙ্গণে দেখা মিলে যুগল খেলাফতপ্রাপ্তদের সঙ্গে। তাদের নাম বিষ্ণু ফকির ও কনিকা ফকির। তারা খেলাফত নিয়েছেন অনুকূল ফকিরের কাছ থেকে। খেলাফত গ্রহণের দিনের কথা বর্ণনা করে তারা বলেন, সেদিন আমাদের দু’জনকে নতুনরূপে সাজিয়ে দিয়েছিলেন অন্য সাধুরা। লালন সমাধির খাদেম মহম্মদ আলী বলেন, খেলাফত নেয়ার আগে একজন গুরুর নিকট ভক্ত হতে হয়। গুরুর ইচ্ছানুযায়ী নিতে হয় খেলাফত। খেলাফত নেয়া মানে দুনিয়া ত্যাগ করা। পুরোটাই গুরুজীর পথে চলে যাওয়া। খেলাফত পাওয়াতো বহু সাধনার ব্যাপার। বছরের পর বছর ধরে অনেক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই না খেলাফত পাওয়া যায়।

এবার ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়িতে প্রতি খেলাফতপ্রাপ্ত সাধুর সঙ্গে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন সঙ্গী এসেছেন। এছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটান, ফ্রান্স, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন সাধু ও লোকসংস্কৃতির অনুরাগীরা। আয়োজকরা বলেন, এবার পাঁচদিনে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে ছেঁউড়িয়ায়। এদিকে গত বুধবার রাতে লালন উন্মুক্ত মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ দিনব্যাপী দোল উত্সব প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন। একই মঞ্চে প্রথম পর্বে আলোচনা ও দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় লালন সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উন্মুক্ত মঞ্চে গান-বাজনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতা নেচে-গেয়ে আত্মস্থ করেন লালনের গান।

 

ডেস্ক

তুরস্কের একটি যাত্রীবাহী বিমান আজ সকালের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমা-ুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পাশের মাঠে গিয়ে পড়েছে। বিমানটিতে ২২৪ যাত্রী ছিলেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সবাই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটির জরুরি নির্গমন দরজা দিয়ে যাত্রীদের বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। ঘন কুয়াশার কারণে বিমানটি আকাশে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর দিচ্ছিলো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

অবতরণের সময় পাইলট রানওয়ের মধ্যরেখা দেখতে না পাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটির চাকা যখন রানওয়েতে পিছলে যেতে শুরু করে, তখন থেকে পাশের মাঠে ছিটকে পড়া পর্যন্ত ভীষণ আতঙ্কে ছিলেন যাত্রীরা। রানওয়ের সঙ্গে বিমানের চাকার ঘর্ষণের কারণে কেবিনের ভেতর ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায় ও যাত্রীদের ওপর ব্যাগ পড়তে শুরু করে। এ সময় বহু যাত্রী ভয়ে তাদের আসন ছেড়ে লাফিয়ে উঠে পড়েন। আবার, পরক্ষণেই আসন আঁকড়ে ধরে থাকেন। বিমানটি থামার পর ভেতরে ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া দুরূহ হয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, বিমানটির সামনের দিক ঝুঁকে রয়েছে। এ দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারবে বিমানবন্দরটিতে। এখন সেখানকার আবহাওয়া স্বাভাবিক বলে জানা গেছে।

ডেস্ক

বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স গত ৬ মাসে ২৭১.৪৪ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক অবস্থানে ফিরেছে। বিমানের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) জামালউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা আগামী ৫ মাস ধরে রাখতে পারি, চলতি অর্থ বছরের শেষ নাগাদ এয়ার লাইন্স একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।’
 
বাংলাদেশ বিমান লোকসানের ধারায় গত জুলাই লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০.৩৭ কোটি টাকা। এরপর থেকে বিমান লাভজনক অবস্থানে ফিরে।
 
বিমানের সূত্র জানায়, বিমান আগস্টে ২০.৫১ কোটি, সেপ্টেম্বরে ১২৩.২৮ কোটি, অক্টোবরে ৮৬.৭৯ কোটি, নভেম্বর ২৩.১৪ কোটি, ডিসেম্বরে ১.৮১ কোটি এবং চলতি অর্থবছরে জানুয়ারিতে ২৬.২৮ কোটি টাকা লাভ করে।
 
বিমানের চেয়ারম্যান বলেন, বিমান সকল দিক থেকে ইতিবাচক অবস্থানের দিকে এগোচ্ছে। গত পাঁচ বছরে পুরাতন ক্রাফট বহর থেকে সরিয়ে নেয়া, নতুন ক্রাফট সংগ্রহ, আধুনিকায়ন, ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লোকসান হচ্ছে এ ধরনের রুটে বিমান পরিচালনা বন্ধ রাখার পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বিমান বর্তমান এই লাভজনক অবস্থায় পৌঁছেছে।
 
বিমানের চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৯ সালে বিমানে দায়িত্ব গ্রহণের পর লোকসান থেকে বিমানকে ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
 
তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের বিপুল ব্যয় কমাতে ৩৫ বছরের পুরনো এয়ার ক্রাফট ডিসি-১০-৩০ ও এফ-২৮ বহর থেকে অবসরে পাঠান। তিনি আরও বলেন, বিমানের সফটওয়্যারের অটোমেশন এবং ট্রেডিং সিস্টেমে আধুনিকায়ন বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সহায়ক হয়েছে।
 
বিমান গত বছর জানুয়ারি ও মার্চে দু’টি নতুন এয়ার ক্রাফট ৭৭৭-৩০০ ইআরএস সংগ্রহের পাশাপাশি দু’টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর ভাড়ায় সংগ্রহ করে। সম্প্রতি আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য মিশরের একটি কোম্পানির সঙ্গে ৭৪ আসনের ডাস ৮ কিউ ৪০০ এয়ার ক্রাফট সংগ্রহে চুক্তি সম্পাদন করেছে।

খবর বাসসের।
বৃহস্পতিবার, 26 ফেব্রুয়ারী 2015 22:27

শুক্রবার জাবিতে পাখি মেলা

জাবি সংবাদদাতা

‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ এ স্লোগানে আগামীকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ১৩তম ‘পাখিমেলা ২০১৫’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন চত্বরে সকাল পৌনে ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

বৃহস্পতিবার মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল হাসান খান এ তথ্য জানান। দিনব্যাপী পাখি মেলার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকছে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী, টেলিস্কোপে শিশু কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, শিশুদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা ও পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

শুক্রবার, 13 ফেব্রুয়ারী 2015 18:25

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের গোপন বিষয়

ডেস্ক

প্রতিদিন শত শত বিমানে করে হাজার হাজার মানুষ ভ্রমণ করছেন। আকাশে বড় একটা সময় কাটিয়ে দেন যাত্রী ও বিমানের ক্রুরা। কত ধরনের মানুষ কত কাজই না করেন বিমানে। প্রতিনিয়ত এদের খেয়াল রেখে চলেছেন ক্রুরা। যাত্রীদের সব কাজই দেখছেন তারা। কিন্তু তারা কি করছেন, তার কি পুরোটাই দেখছেন যাত্রীরা? ইয়াহু ট্রাভেল তুলে এনেছে ক্রুদের অজানা বেশ কয়েকটি কাজের কথা। জানতে পারবেন তারা কিভাবে যাত্রীর দেখভাল করেন, কিভাবে নিজেদের উৎফুল্ল রাখেন, আর কিভাবেই বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

১. যে কারণে যাত্রীদের দ্রুত সিটে বসাতে চান তারা : বিমানের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের বিশেষ সময় অনেকটা সেনাবাহিনীর কমান্ডিং অফিসারের মতো লাগে। যাত্রীদের দ্রুত সিটে বসাতে তারা রীতিমতো নির্দেশ প্রদান করতে থাকেন। 'ব্যাগ সঠিক স্থানে রাখুন। দ্রুত সিটে বসুন। সিটবেল্ট বেঁধে নিন। দয়া করে দ্রুত করুন...' ইত্যাদি। এটি এমনিতেই বলা হয় না। কারণ ব্যাখ্যা করলেন সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট শন ক্যাথলিন। বললেন, বিমানের দরজা বন্ধ হয়ে তা দৌড় শুরু না করা পর্যন্ত আমরা পারিশ্রমিক পাই না। তাই নিজের পারিশ্রমিকটা নিশ্চিত করতেই এই তাগাদা।

২. যাত্রাপথে ক্রুদের পার্টি : যাত্রাপথে কিছু সময় থাকে যখন ক্রু ও পাইলটদের বিশ্রামের সময় আসে। হালকা নাস্তা বা আলাপচারিতা বা একটু চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। তবে পার্টিও হয়ে থাকে বলে জানালেন শন। মাঝে মধ্যেই বোতলের ছিপি খোলা হয়। যদিও ফেডারেল নিয়ম বলছে, প্রথম আট ঘণ্টার মধ্যে কোনো অ্যালকোহল নয়। এই আইন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখেছে। ফ্লাইট শুরুর আগে ড্রাগ টেস্ট নেওয়া হতে পারে।

৩. খালি বিমানও আকাশে ওড়ে : সম্প্রতি ইয়াহু ট্রাভেলকে এক যাত্রী জানান, তিনি নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে যে বিমান ওঠেন, তা কেবল তাকে নিয়েই উড়াল দেয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রু। তিনি জানান, প্রতি 'ব্লু মুন'-এ বিমান নিয়ে শুধু ক্রুরা যেকোনো একটি গন্তব্যে রওনা দেওয়া হয়। ব্লু মুন বছরের এমন এক সময় যখন পূর্ণ চাঁদ ওঠে। দুই একজন যাত্রী থাকলেও যখন তারা নেমে যান, তখন ক্রুরা নানা রকম খেলা করেন। যেমন- বিমান রানওয়ে থেকে মাটি ছাড়ার সময় সবাইকে সিটে বসতে হয়। কিন্তু এ সময় করিডোরে একটি ট্রে রেখে তার ওপর স্থির দাঁড়িয়ে থাকাই খেলা।

৪. আপনাকে নিয়ে আলোচনা হতে পারে ক্রুদের মাঝে : শন জানালেন, মাঝে মাঝে কোনো যাত্রীকে নিয়ে বসে বসে আলাপ করেন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা। হতে পারে তাকে নিয়ে কৌতুক করা। আবার 'দেখেছো দারুণ সেক্সি' ধরনের কথাও চলে। একটা কোড প্রচলিত ছিল 'হট কফি'। ওই সিটে 'হট কফি' রয়েছে, এর অর্থ হলো দারুণ আকর্ষণীয় যাত্রী সেখানে রয়েছেন।

৫. প্রয়োজনে আপনার ওপর মার্শাল আর্ট ঝাড়তে পারেন তারা : অ্যাটেনডেন্টদের ট্রেনিংয়ের অংশ হিসেবে আগুন নেভানো, ফার্স্ট-এইড কিটের ব্যবহার, এমনকি গর্ভবতীর ডেলিভারি করারও প্রশিক্ষণ থাকে তাদের। আর বিশেষ পরিস্থিতির জন্যে তাদের দেওয়া হয় আত্মরক্ষার কৌশল। এরা ট্রেনিংকালে একে অপরের সঙ্গে আত্মরক্ষার নানা কৌশল চর্চা করেন। অনিয়ন্ত্রিত যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য এদের রয়েছে।

৬. অভদ্র যাত্রীদের ওপর প্রতিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে : কোনো যাত্রীর ব্যবহারে মেজাজ চড়ে গেলে নিজ উদ্যোগে কিছু ব্যবস্থা নিয়ে ফেলেন অ্যাটেনডেন্টরা। সাধারণত পানীয়তে থাকে এসব প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। যেমন- বরফ দেওয়া জুসের মধ্যে দুই টেবিল চামচ সোডা দিয়ে দিলে জিদ করে। এটি তাদের প্রতিশোধমূলক ককটেল।

৭. সুযোগ বুঝে রোমান্স করলেই ধরা : অনেক রোমান্টিক তরুণ-তরুণী ওঠেন বিমানে। এদের অনেকেই যাত্রাপথে একটু রোমান্স করার ইচ্ছাটাকে দমন করতে পারেন না। সবাই ঘুমিয়ে গেলে বা সুযোগ মতো টয়লেটে চলে যান দুজনই। এর ব্যবস্থা রয়েছে। এক টয়লেটে দুজন একসঙ্গে ঢুকতে গেলেই দরজা 'নো, নো' সংকেত দেয়। এটি অ্যাটেনডেন্টদের চোখে পড়ে। তবে ভাববেন না যে, তিনি অভিভাবকের মতো আচরণ করবেন। কারণ যাত্রীরা প্রাপ্তবয়স্ক। যদি বাথরুমে ভিড় না থাকে বা যাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকেন, তবে তিনি চাইলে সুযোগ করেও দিতে পারেন। তবে সুযোগ দিলেও তিনি জানেন, এই টয়লেটে বেশি সুবিধা করতে পারবে না কেউ।

ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের গোপন বিষয়

৮. টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ট্রে টেবিলের বিষয়ে সাবধান : অনেকেই বিমানের টয়লেট ব্যবহারে সচেতন নন। আরেক অ্যাটেনডেন্ট সিডনি পার্ল বলেন, কমোডের পাশেই একটি ট্রে টেবিল জুড়ে দেওয়া থাকে। অনেকে এটাতে শিশুকে বসিয়ে তার ডাইপার বদলান। তখন তা ময়লা হতে পারে। সবচেয়ে খারাপ বিষয়টি হলো, এসব কাজ করে আবার তা ট্রে টেবিলটি তুলে দেন আগের স্থানে। এতে করে পরে কেউ এলে এর ময়লা খেয়াল করেন না। অনেকে শিশুর কাজ সারতে সারতে তার খাওয়ার কাজও সারতে চান ট্রে টেবিলে। আবার কমোডে বসে ট্রে টেবিলে মুখ রেখে দিব্যি নাক ডাকতেও দেখেছেন তিনি।
সূত্র : ফক্স নিউজ

শুক্রবার, 13 ফেব্রুয়ারী 2015 09:29

পাঁচ তারকা হোটেলে অতিথি কমেছে ৪০ ভাগ

ডেস্ক

বিরোধী জোটের টানা হরতাল ও অবরোধে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্যে চলছে মন্দাভাব। এর প্রভাব পড়েছে পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবসাতেও। দেশের অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে অতিথি পাচ্ছে না হোটেলগুলো।

অগ্রিম বুকিং দিয়েও অনেক অতিথি আসছেন না। আবাসিক সার্ভিসের বাইরেও এ হোটেলগুলো হেলথ ক্লাব, বিজনেস সেন্টার, শপিং আর্কেড, সুইমিং পুল, হলরুম, রেস্টুরেন্ট ও বার সার্ভিস দিয়ে থাকে। কিন্তু গত জানুয়ারি মাস থেকে সব রকম সার্ভিস কমে গেছে। কমে গেছে সভা-সেমিনার ও সামাজিক অনুষ্ঠান। রেস্টুরেন্ট ও বারগুলোতে কমেছে গ্রাহক। অতিথিদের বাইরেও পরিবার নিয়ে বিশেষ দিনগুলোতে সময় কাটাতে আসতেন অভিজাত শ্রেণীর মানুষেরা। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের আনাগোনাও কমে গেছে। রাজধানীর প্রায় সবগুলো হোটেলেই ব্যবসা কমেছে ৪০ শতাংশ হারে।

এ অবস্থায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন হোটেল মালিকরা। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটন খাতে। রাজধানীর কয়েকটি ফাইভ স্টার হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান সহিংস কর্মসূচির কারণে বিদেশী অতিথিরা কেউ বাংলাদেশে আসতে চাইছেন না। আগের দিনগুলোতে জানুয়ারি-ফেবু্রয়ারি মাসে বিপুল পরিমাণ পর্যটক ও ব্যবসায়ী ঢাকায় আসতেন। কিন্তু বছরের শুরুতেই অস্থিরতার কারণে তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মাসখানেক আগেও যারা বুকিং দিয়েছেন তারাও বুকিং ফিরিয়ে নিয়েছেন। ঢাকায় পুরানো ব্যবসায়ীরা আসছেন কম। একেবারে যারা নতুন ব্যবসা করছেন তারাই শুধু আসছেন। বিদেশী অতিথিদের গাড়ি পুলিশ পাহারায় চলাচল করলেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন তারা। বিশেষ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় পেট্রলবোমার বিভীষিকা প্রচার হওয়ায় বিদেশী অতিথিদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের একজন কর্মকর্তা জানান, এই হোটেলে প্রায় ২৯৫টি রুম রয়েছে। জানুয়ারি-ফেবু্রয়ারিতে তাদের রুমগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ ভাড়া অবস্থায় থাকত। কিন্তু এ বছর অর্ধেকের মতো খালি আছে। একই অবস্থা রেস্টুরেন্ট, বার ও ক্যাফে সার্ভিসেরও। ৩০-৪০ শতাংশের ওপরে ব্যবসা কমেছে। ব্যাংকুয়েট হলগুলোতে প্রতিদিন সভা-সেমিনার হতো। এখন সেগুলো নিয়মিত হচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে এই হোটেলের ব্যবসা কমে গেছে। হোটেল ওয়েস্টিন সূত্রে জানা যায়, এই হোটেলে কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা বেশি আসতেন। গত জানুয়ারি মাস থেকে অতিথিদের সংখ্যা কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সভা-সেমিনার ও অনুষ্ঠান কমে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় জমজমাট বিয়ের অনুষ্ঠান হতো প্রতি সপ্তাহেই। এখন এ ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য খুব কম বুকিং হচ্ছে। রেস্টুরেন্টের ব্যবসা কমে গেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। হোটেল
রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন সূত্রে জানা যায়, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাদের অতিথি কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। রেস্টুরেন্ট, বার ও স্পা সার্ভিসের গ্রাহক কমে গেছে প্রায় অর্ধেক। এই হোটেলে মূলত পর্যটকরা আসেন। এছাড়া বিদেশী ব্যবসায়ীদের পছন্দের তালিকায় ছিল হোটেলটি। হোটেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবরোধ ও হরতালের কারণে গত জানুয়ারি মাসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। বড় হোটেলের মালিকদের চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট হোটেল ব্যবসায়ীরা। অনেক মালিকের পক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়বে দেশের পর্যটন শিল্পে। গত জানুয়ারি মাসে পর্যটন বোর্ড সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিল এ মওসুমে তাদের ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আমরা পাঁচ বছরে অনেকদূর এগিয়ে এসেছি; কেউই তা কল্পনা করেনি। আগামী পাঁচ বছরে কোথায় যাবো আমিও জানি না।

সোমবার বিকালে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করেছে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জয়। মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাবমেরিন কেবল ছাড়াও ভারতের সঙ্গে তিনটি ফাইবার অপটিক সংযোগ থাকার কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, সরকারের লক্ষ্য নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও এই সংযোগ গড়ে তোলা। এলক্ষ্যে রংপুর পর্যন্ত ফাইবার অপিটিক কেইবলের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাঁচ হাজার ২৭৫টি ইউনিয়ন ভিত্তিক ডিজিটাল সেন্টারের কথা উল্লেখ করে জয় বলেন, প্রতিটি গ্রামে ডিজিটাল সেন্টার করার ইচ্ছা আমার রয়েছে।
তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওই বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার।

 

ডেস্ক
মালয়েশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল বলে অবশেষে আনুষ্ঠানিক এক ঘোষণায় জানিয়েছে দেশটির সরকার।

২০১৪ সালের ৮ মার্চ বেইজিংগামী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন এমএইচ ৩৭০ বিমানটি উড্ডয়নের পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ যাত্রীই ছিলেন চীনের নাগরিক।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিমানটির কোন যাত্রীই বাঁচেনি।
মালয়েশিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত আছে। তবে বিমানটির ২৩৯ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
আনুষ্ঠানিক এই ঘোষণার ফলে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে।

মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ আরও জানান, নিখোঁজ বিমানটি উদ্ধারের কাজকে এখনও প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে এবং বিশ্বাসযোগ্য সব পন্থাই অবলম্বন করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানান, এই মূহূর্তে চারটি জাহাজ সোনার প্রযুক্তির সাহায্যে গভীর সমুদ্রের প্রত্যন্ত তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূ-উপগ্রহ এবং বিমানটি থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের দিকে পশ্চিম সাগরের এই স্থানেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুক্রবার, 16 জানুয়ারী 2015 11:31

পর্যটকদের ঘৃণা হাতির

ডেস্ক
বিদেশে গিয়ে পর্যটকরা সাধারণত হাতির ওপর চড়াটাকে আনন্দবোধ করেন। কিন্তু থাইল্যান্ডের একটি হাতির খোঁজ পাওয়া গেছে যে কিনা পর্যটকদের ঘৃণা করে।

কেউ হয়তো থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বৃহত্তম পার্ক খাও ইয়াওতে খুব ভাল মুড নিয়ে যাচ্ছেন। গাড়িতে ঘুমিয়ে নিজেকে নিশ্চিন্ত মনে করছেন। কিন্তু পর্যটকের সেই নিশ্চিত মনকে দুর্দশাগ্রস্ত এবং বিপদগ্রস্ত করে তুলতে পারে একটি মাত্র হাতি। ইউটিউবে পোস্ট করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশালাকৃতির এই হাতিটি তার বিশাল পা দিয়ে পার্কের পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়া একটি সাদা গাড়ির ওপর পা উঠিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। গাড়ির সামনের অংশ পুরো নষ্ট করে দিয়েছে।

গত দশদিন ধরে হাতিটি এই কাজ করে যাচ্ছে। আর সবগুলো গাড়িই পর্যটকের গাড়ি। পর্যটকবাহী গাড়ি একেবারে সহ্য করতে পারছেনা হাতিটি। - এনডিটিভি
পিরোজপুর সংবাদদাতা
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, পরবর্তী প্রজন্মকে নতুন পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানে তাদের সমৃদ্ধ করে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্ম যে আমাদের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মন মানসিকতায় বেড়ে উঠছে তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। দেশে যে পরিবর্তনের ধারা বহমান সেদিকে বর্তমান সরকার যেমন অগ্রাধিকার প্রদান করেছে তেমনি তা কার্যকর করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরতে পিরোজপুরে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১৫” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের প্রধানতম সাফল্য ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যাপক প্রসার। তিনি চান পৃথিবীর সাথে সাথে আমাদেরও গতি বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক সাব মেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়েছে। অনেক দিন আগে বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে ঢুকতে পেরেছে সত্য। কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী হিসাবে অধুনা আমাদের দেশ পরিচিতি পেয়েছে। মোবাইল ফোন ক্রমান্বয় আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে গেছে।

তথ্য প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক ব্যবহার শুরু করতে আমরা সক্ষম হওয়ায় দেরিতে হলেও অন্যান্য দেশের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম আধুনিক জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করতে সুযোগ পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম দেশের প্রচলিত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়। টাইম ইজ মানি-এই ধারণা নতুনদের আকৃষ্ট করছে। তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানকে আয়ত্ত করে নিম্ন আয়-স্বল্প আয় এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পথে নতুনদের আগ্রহ বাড়ছে। এটাই উন্নয়নের সূচক, যার সাথে আমাদের   রাজনীতিবিদদের চিন্তা-চেতনার ব্যবধান লক্ষণীয়। তথাকথিত রাজনীতিবিদরা উত্খাত-মোকাবেলা, জ্বালাও-পোড়াও প্রতিহত করা ইত্যাদি প্রথা সিদ্ধ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করে চলেছেন তা নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা। মনে রাখতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বর্তমান সরকারের আধুনিক ও সময় উপযোগী কার্যক্রম হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যাপক সম্প্রসারণ। যা ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য উত্স্বর্গকৃত।

তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিবিদদের নিজের দিকে, সমাজের দিকে, মানুষের দিকে তাকিয়ে চলার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। তাঁরা যা চাচ্ছেন তা সনাতনী ধারায় অর্জন সম্ভব নয়, তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নতুন ধারার চিন্তা ভাবনায় যুক্ত করতে ব্যর্থ হলে তারাই পিছনে পড়ে যাবেন। মানুষের বর্তমান চাহিদা বা প্রত্যাশা আগের দিনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ২০/৩০ বছরে মানুষ জিআর-টিআর-কাবিখা-ঢেউ টিন ইত্যাদি নানা সাহায্য সহযোগিতা দাবি করত। যা তাদের দারিদ্র্যের সাথে সহাবস্থানে অভ্যস্ত করে তোলা বা ক্ষোভ-রোষ প্রশমনের কাজে লাগাতো মহল বিশেষ। এখন তাদের জীবন মানের পরিবর্তনের ধারায় চাহিদার তালিকায় এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি। যে তালিকায় তথ্য প্রযুক্তি উপকরণাদিও রয়েছে। নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল চিন্তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝেও। নেতাদের এই পরিবর্তন ধারার প্রতি খেয়াল করে সেকেলে নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে নতুন প্রজন্মের আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে ভাগ্য পরিবর্তনের সচেষ্ট মানুষকে ঘেরাও-হরতাল-অবরোধ দিয়ে বা অধিকার হরণ করে দাবায়ে রাখা যাবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, পিরোজপুর তথা সারাদেশে নারী জাগরণের ক্ষেত্রে প্রণিধান যোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৩ বছরের তিলে তিলে পরিবর্তন নারীদের পুরুষের পাশাপাশি নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছে। পিরোজপুরে নারীদের এই ভাবমূর্তি সারাদেশে তুলে ধরতে হবে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরের এ ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ফকরুল আলম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সালাহ্উদ্দিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মানিক হার রহমান। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় সুধী সমাজ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং ডিজিটাল উপকরণাদি ও উদ্ভাবিত সরঞ্জামাদি দেখেন।

তিন দিনের ডিজিটাল মেলায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং ইনোভেশন বিষয়ক তিনটি সেমিনার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আইসিটি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি কর্মসূচি থাকছে। এছাড়া প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা যাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাথে পরিচিতি লাভ করতে পারে তার সুযোগ এ মেলায় থাকবে এবং ছাত্র-ছাত্রীরা মেলা থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা। মেলার সমাপনীতে প্রতিযোগীদের ১৩টি পুরস্কার দেয়া হবে। মেলায় তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় ২৭টি স্টল থাকবে। সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কে এম এ আউয়াল এমপি এবং দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ গাউস প্রধান অতিথি থাকবেন।

অন্যদিকে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন গতকাল বিকালে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটি এবং জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বলেন, অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। যাতে আমরা উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়াতে পারি সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতীতে দক্ষিণাঞ্চলের নেতৃত্বের অনৈক্যের কারণে ন্যায্য হিস্যা থেকে বরিশাল অঞ্চল বঞ্চিত হয়েছে। তারপরও সাহস, মনোবল, আন্তরিকতা ও ঐকান্তিকতাকে ভিত্তি করে এই অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়ন ধারাকে পশ্চাত্পদ অবস্থা থেকে বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের দৃষ্টিগোচর পর্যায়ে আনা গেছে। যেখানে এলাকার মানুষের সমর্থন আমাদের পাথেয় ছিল।  সর্বোপরি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক দৃষ্টি রয়েছে বলে অতীতে যেমন আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি আবার বর্তমান ও আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এ দু’টি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মকবুল হোসেন প্রমুখ। সভায় পিরোজপুরের দামোদর খাল পুনঃখনন ও বলেশ্বর নদীর ভাঙ্গন থেকে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের বিষয় আলোচনা হয়।

এদিকে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাটাজোট ভায়া নতুনহাট সড়ক উন্নয়ন, বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বটতলা হাট ভায়া উত্তর কলারণ দাখিল মাদ্রাসা সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন এবং ঘোষেরহাট বাজার থেকে খেজুরতলা বাজার সড়ক কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন কাজ। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিতিতে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে পাড়েরহাট, বালিপাড়া ও পর্ত্তাশী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ত্রাণ বিভাগের উদ্যোগে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। এ সময় জিয়ানগর উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফায়জুল কবির তালুকদার, জিয়ানগর উপজেলা জেপির আহ্বায়ক ও পর্ত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, জেপি’র সদস্য সচিব ও বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মতিউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মৃধা, উপজেলা জেপি নেতা হারুন অর রশীদ পান্না, আনিসুর রহমান, কাওছার আহম্মেদ দুলাল, মিজানুর রহমান, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম হাওলাদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ানগরে মন্ত্রী স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। এলাকার মানুষ যাতে নির্ভয়ে-নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে তা নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। মনে রাখতে হবে উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা দরকার।   

ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা জানান, সকালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভাণ্ডারিয়ার চরখালী বিসমিল্লাহ চত্বরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়কের উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ সময় পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুন্নবী তরফদার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান খলিল, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশীদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, নদমুলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা জেপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভিটাবাড়িয়া মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন, আবুল কালাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারিক জোমাদ্দার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে নদমুলা বাজার সাইক্লোন শেল্টার প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।